রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ | ৩রা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ভালবেসে স্বামীর সংসার পাইনি,পিতৃ হত্যার নায্য বিচার দেখতে চাই অসহায় বুলবুলি

প্রকাশের সময়: ৩:১৪ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

মাহবুব হাসান টুটুল,মেহেরপুর প্রতিনিধি:
ভালবেসে যার হাত ধরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলাম স্বামীর সংসার করবো বলে। বিয়েও করেছিলাম। সেই বিয়ের কয়েকমাস যেতে না যেতেই যৌতুকের দাবী করে আমার ওপর চালাতে থাকে অমানুষিক নির্যাতন। শশুর শাশুড়ির ভালবাসা চেয়ে পেয়েছি লাঞ্চনা, গঞ্জনা আর নির্যাতন। নির্যাতনের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আদালতের আশ্রয় নিই। মামলা করি স্বামীর নামে। ক’দিন হাজত খেটে জেল থেকে বেরিয়ে এসে আমার বাবাকে খুন করে আমার পাষন্ড স্বামী আলমগীর হোসেন। দুই তিনটি বছর চোখ বন্ধ করে ঘুমোতে পারিনি। শুনতে পাই বাবার আর্তনাদ। স্বামী পক্ষের অব্যাহত হুমকি ধামকির মধ্যেই দিন কাটে আমার। বাবার মত আমাকে এবং আমার আশ্রয় দ্বাতা মাকে খুনের হুমকি দিয়ে আসছে অব্যহত ভাবে। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে গ্রাম্য মাতব্বরদের কাছে কথাগুলি বলছিলেন, মেহেরপুর সদর উপজেলাধীন আমঝুপি ইউনিয়নের রামনগর কাজিপুর পাড়ার মৃত নুর ইসলাম (পন্ডিত) এর মেয়ে বুলবুলি খাতুন।(বর্তমানে রামনগর কাজিপুরপাড়ায় বসবাসরত)

ঘটনার বিবরনে জানাযায়, বিগত ১৬/১২/২০১২ইং তারিখে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামের নুর ইসলাম ওরফে পন্ডিতের মেয়ে বুলবুলি খাতুন (১৮) গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামের প্রতিবেশি মোঃ সোহরাব হোসেনের ছেলে আলমঙ্গীর হোসেনের(রামনগর কাজিপুর পাড়ায় বসবাসরত) সাথে প্রেমের সম্পর্কে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। দ’ুপক্ষের খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গত ১৮/১২/২০১২ ইং তারিখে তাদের সামাজিকভাবে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ৮০ হাজার টাকা দেন মোহর ধার্য করে বিয়ে হয়। প্রথমদিকে আলমগীরের পরিবারের লোকজন বুলবুলিকে মেনে নিলেও বিয়ের ছয় মাস পর থেকে মোটা অংকের টাকা যৌতুক দাবী করে আলমগীর ও তার বাবা মা। বুলবুলির দিনমজুর পিতা যৌতুক বাবদ টাকা পয়সা না দিতে পারাই বুলবুলির ওপর অত্যাচার শুরু হয়। অত্যাচারের মাত্রা দিন দিন বাড়তেই থাকে। শারিরিক ও মানষিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বুলবুলি কয়েকবার আতœহত্যার চেষ্টাকরে। এ ভাবে ক’য়েক মাস যেতে না যেতেই বুলবুলি গর্ভবতী হয়ে পড়ে।

বুলবুলির গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য অনেক চেষ্টাকরে আলমগীর হোসেন। নিজের জীবন ও গর্ভের সন্তানের জীবন বাঁচাতে বুলবুলি তার বাবার বাাড়িতে পালিয়ে আসে। দু’তিন মাস পার হলেও আলমগীর হোসেন বুলবুলির খোঁজ নেয়া বন্ধ করে দেয়। কিছুদিন পর বুলবুলির কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। নাম রাখা হয় রাব্বী। এক পর্যায়ে আইনি সহায়তা পেতে বুলবুলি খাতুন তার শিশু সন্তান নিয়ে মেহেরপুর জজ আদালতে শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আলমগীর হোসেন কয়েকমাসের জেল হাজত থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করে। কাউন্টার মামলা হিসেবে হয়রানি করতে আলমগীর হোসেন, বুলবুলির পিতা মাতা ও ভাইয়ের নামে টাকা ছিনত্ইায়ের মামলা দায়ের করেন। দ্বীর্ঘ শুনানী শেষে কোন প্রকার প্রমানাদী না পেয়ে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। যার সি আর মামলা নং-২৪৭/১৫। মামলায় হেরে গিয়ে আলমগীর প্রতিশোধের নেশায় নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বুলবুলিকে তালাক দেয়।

এবং তৎকালিন বিয়ে রেজিস্টারকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রিার খাতায় ৮০ হাজার টাকা দেন মোহরের ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ আছে বলে লিখিয়ে নেয়। এই নিয়ে বাধেঁ উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ। আলমগীর হোসেন ও তার বাবা সোহরাব হোসেন ও নানা মিলে এবং পরিকল্পিত ভাবে গত ১৮/০১/২০১৬ ইং তারিখে বুলবুলির পিতা নুর ইসলাম ও মা হাসিনা খাতুনকে লাঠি শোঠা ও রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। হাসিনা খাতুন প্রানে বেঁচে গেলেও ঘটনা স্থলেই নিহত হয় বুলবুলির পিতা নুর ইসলাম ওরফে পন্ডিত। পুলিশ নিহতের সুরতহাল রির্পোটের জন্য ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন। আলমগীর হোসেন কে এক নম্বর আসামী করে বিগত ১৯/০১/১৬ইং তারিখে মেহেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়, মামলা নং-২১ । মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। মামলার সকল আসামী জামিনে এসে বাদীকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখায় বলেও অভিযোগ করেন বুলবুলি খাতুন। অপরদিকে আলমগীর হোসেন মেহেরপুর জজ আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারি হিসেবে পরিচয় দেয এবং বুলবুলির পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানী মুলক বেশ কয়েকেটি মামলা করেছে বলে জানায় বুলবুলির ভাই শাহিন ।

এদিকে শিশু ও নারী নির্যাতন মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে আলমগীর হোসেন তাদের বিয়ের আলাদা কাবিন নামা আদালতে দাখির করেছেন। যাতে লেখা আছে দেন মোহরের ৮০ হাজার টাকার মধ্যে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ। এ বিষয় নিয়ে কাজিপুর গ্রামের এনামুল বাজারে গত রবিবার সকালে একজন ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে শালিশ বৈঠক করা হয়েছে। যেখানে বিয়ের ইমাম,রেজিস্টার,উকিল ও স্বাক্ষীদের হাজির করা হলে তারা জানান,বিয়ের সময় দেন মোহরের কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি, কিন্তু ভলিয়ম বইতে কিভাবে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ লেখা হয়েছে তা কেউ জানে না। বুলবুলি এবং আলমগীর আলাদা আলাদা কাবিননামা জমা দিয়েছেন।

বিয়ে রেজিস্টার বদিউজ্জামান বাচ্চু জানান, আমি বিয়ে রেজিষ্ট্রি করেছি কিন্তু সেই সময় টাকা পয়সা লেনদেন হয়নি তবে খাতায় কিভাবে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ লেখা হয়েছে তা জানিনা। বিয়ের উকিল ফরজ উল্লাহ জানান, ৮০ হাজার টাকা বাকীতে বিয়ে হয়েছিল আমার উকালতিতে কিন্তু রেজিষ্টার বাচ্চু ও আলমগীর নিকট আতœীয় হওয়ায় বিয়ের কাবিনে তারা মিথ্যা ভাবে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ লিখেছেন। কাজিপুর গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক নাজিমুদ্দিন মাস্টার জানান, উক্ত বিয়েতে আমি উপস্থিত ছিলাম সেখানে দেন মোহরের একটি টাকাও বুলবুলিকে প্রদান করা হয়নি। তবে নিকাহ নামা রেজিষ্টার বদিউজ্জামান বাচ্চুকে অভিযুক্ত করে বলেন, এসব বাচ্চুর চালাকি, কাজিপুর নিম সরন পাড়া জামে মসজিদের ঈমাম মিজানুর রহমান বলেন, আমি বুলবুলি ও আলমগীরের বিয়ে পড়িয়েছিলাম, সেখানে মোহরানা ৮০ হাজার টাকা ধার্যকরা হয়, কিন্তু পুরোটাই বাকি বলে জানেন তিনি। আদালতে চলামান মামলা দুটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নানান কুটকৌশল করেছন আরমগীর হোসেন এমন দাবী ভুক্তভোগী বুলবুলি খাতুন ও তার পরিবারের। বাবা কে হারিয়ে শিশু সন্তান রাব্বীকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বুলবুলি খাতুন। ভালবেসে স্বামীর সংসার না পেলেও পিতৃ হত্যার নায্য বিচার চাই বুলবুলি।

উপরে