রবিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৮ | ৬ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

‘মান অভিমানের প্রশ্ন নয়, এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত’

প্রকাশের সময়: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ - বুধবার | সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক দুরত্ব বা কারো মান অভিমান ভাঙাতে যাবেন না বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সেটা আমি চাই না। সহানুভূতি দেখাতে যেয়ে যদি অপমানিত হতে হয়, সেখানে আর যাবার কোন ইচ্ছা আর আমার নেই ।

বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংসদে প্রশ্নোত্তোর পর্বে জাতীয় পার্টির এমপি ফকরুল ইমামের সম্পূরকে প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। প্রশ্নকর্তা কবিতার ছন্দে জানতে চান ‘একটি পিছিয়ে পড়া জাতিকে উন্নয়নে ভাসিয়ে দেয়ার নাম শেখ হাসিনা, কমতে থাকা বাক্যালাপ, বাড়তে থাকা দুরত্বের, ক্ষোভের পাহাড় জমেছে বড় অভিমানের রাজত্বে, এই যে পলিটিক্যাল অভিমানটা চলছে, এটা কোনক্রমে রোহিঙ্গা সমস্যা থেকে কম সমস্যা নয়, এই পলিটিক্যাল দুরত্ব কিভাবে সমাধান করবেন? এর জবাবে শেখ হাসিনা একথা বলেন। এসময় সংসদের সভাপতিত্বে ছিলেনস্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

প্রধান মন্ত্রী বলেন, এটা কোন মান অভিমানের প্রশ্ন নয়, এটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রশ্ন ও আইনের প্রশ্ন। কেউ যদি অন্যায় করে, কেউ যদি অর্থ আত্মসাৎ করে, কেউ যদি আন্যায় করে, খুন করে, কেউ যদি খুনের প্রচেষ্টা করে, গ্রেনেড মারে, বোমা মারে, তবে তার বিচার হবে- এটাই হবে স্বাভাবিক। রাজনীতি সবাই করেন; যার যার নিজের আদর্শ নিয়ে। আর দেশটা সকলের, এমন নয় যে দেশটা কেবল আমাদের।

দেশের প্রতি দেশের জনগণের প্রতি যারা রাজনীতি করেন তাদের একটা দায়িত্ব থাকতে হবে, এবং সেই দায়িত্ব বোধ থেকে সকলে স্ব স্ব কর্মপন্থা ঠিক করবেন এটাই হল বাস্তব। আমরা রাজনীতি করি আমাদের নিজেদের স্বার্থে না, নিজেদের লাভ লোকসান দেখে না। সে বিচার ও হিসেবও করি না। হিসেব করি জনগুণের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, কতটুকু দিতে পারলাম। জীবন মান কতটুকু উন্নত হলো, এটাই আমরা দেখি, আর সেভাবেই আমরা পরিকল্পনা করি এবং তা বাস্তবায়ন করি। দেশের মানুষকে ভালবেসে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি বলেই কিন্তু আজকে এত অল্প সময়ে এত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছি।
তা ছাড়া তো করা সম্ভব না।

অতীতে তো অনেক সরকার ছিল, এত অল্প সময়ে এতটা উন্নয়ন কোন সরকার করতে পেরেছে। কেন পারেনি, কেননা, সেখানে ব্যক্তি স্বার্থটাই দেশের ও জনগণের স্বার্থ থেকে বেশী বড় ছিল। আমার ক্ষেত্রে হচ্ছে দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ গোষ্টির স্বার্থ সবচেয়ে বড়, ব্যক্তি স্বার্থ না। ব্যক্তিগত হিসেব নিকেষ করি না। আর সে কারণেই দেশটাকে উন্নত করতে পারছি, গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত উন্নয়ন করতে পেরেছি সেটাই বড়।

তাই কারো মান অভিমান ভাঙাতে যাব সেটা আমি চাই না। সহানুভূতি দেখাতে যেয়ে যদি অপমানিত হতে হয়, সেখানে যাবার কোন ইচ্ছ আর আমার নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রসঙ্গত, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর সময় তার মরদেহ দেখার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াপল্টন গেলেও তাকে লাশ দেখতে দেয়া হয়নি। পল্টনের বিএনপি অফিসের গেটে তিনি দাড়িয়ে থেকে চলে আসেন।

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে