সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

পবিত্র আশুরার দিনের ঐতিহাসীক কিছু ঘটনা

প্রকাশের সময়: ২:০১ পূর্বাহ্ণ - শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮

 

 

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

পবিত্র আশুরা মুসলিম ঐতিহ্যে বড়ই বরকতপূর্ণ ও নানাভাবে অবিস্মরণীয়। ইসলামপূর্ব যুগেও এ দিনকে খুব মর্যাদা সহকারে পালন করা হতো। সৃষ্টির শুরু থেকে এ দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। কুরআন, হাদিস ও ঐতিহাসীকদের কাছ থেকে যা জানা যায়, তা হলো-
পবিত্র আশুরার দিনে মহান আল্লাহ তা’য়ালা সাগর, পাহাড়, প্রাণীকুল, আসমান-জমিন ও লওহ-কলম সৃষ্টি করেছেন। আবার এদিনেই আরশে আজীমে সমাসীন হয়েছেন। তামাম মাখলুকাত ধ্বংসও হবে মুহররমের ১০ তারিখে।

  • আল্লাহ পরওয়ারদেগার এ দিনে আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) কে তার খলিফা নিযুক্ত করেছেন আর জান্নাতে দাখিল ও পৃথিবীতে নির্বাসনের পর মক্কায়ে মুয়াজ্জমার আরাফাত ময়দানে হযরত মা হাওয়ার সাথে পরিচিত হয়েছেন’’ও দীর্ঘ দিন ক্ষমা প্রার্থনা শেষে দু’জনের তাওবা কবুল করেন।
  • পৃথিবীর প্রথম হত্যাকান্ড হাবিল কাবিলের ঘটনাও এদিনে সংঘটিত হয়।
  • হযরত নূহ (আঃ) সদলবলে মহা প্লাবন শেষে যুদী পাহাড়ে অবতরণ করে পৃথিবীকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলেন এ দিনে।
  • হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ক্ষমতাশালী মূর্তিপূজারী নমরুদের অগ্নিকান্ড থেকে উদ্ধার হন এ দিনে।
  • হযরত আইয়ুব (আঃ) কুষ্ঠরোগ থেকে মুক্তি পান এ দিনে।
  • হযরত ইউনুছ (আঃ) মাছের পেট থেকে পরিত্রাণ এবং ফেরাউনের স্ত্রী হযরত আছিয়া (আঃ) শিশুপুত্র মুসা (আঃ)কে এ দিনই ফেরত পান।
  • আল্লাহপাক এ দিনে হযরত ইদ্রিস (আঃ) কে জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠানোর পর গুনাহ-অপরাধের জন্য কান্নাকাটি করলে আবার তাকে জান্নাতে ফেরত নেন।
  • এ দিনই হযরত দাউদ (আঃ) এর গুনাহ মাফ হয়।
  • কুমারী মাতা বিবি মরিয়ম (আঃ) এর গর্ভ হতে হযরত ঈসা (আঃ)’র পৃথিবীতে আগমন ঘটে।
  • এ দিনই রহমতস্বরূপ আসমান হতে প্রথম বৃষ্টি নামে।
  • হযরত সোলাইমান (আঃ) হাতের আংটি হারিয়ে সাময়িকভাবে রাজ্য হারা হলে মহররমের ১০ তারিখ আল্লাহ তা’য়ালা তার রাজ্য ফিরিয়ে দেন।
  • হযরত ইউসুফ (আঃ) তার পিতা ইয়াকুব (আঃ) এর সাথে সুদীর্ঘ ৪০ বছর পর এ দিনে সাক্ষাৎ লাভ করেন।
  • হযরত মুসা (আ:) তৎকালীন মিসরের বাদশাহ ফেরাউনের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে এ দিনে তিনি বনী ইসরাঈলকে সাথে নিয়ে নীল নদ পার হয়ে যান আর নদীর মাঝপথে পানি চাপা পড়ে ফেরাঊনের সলিল সমাধি ঘটে।
  • হযরত ঈসা (আঃ)কে আল্লাহ তা’য়ালা নিজ অনুগ্রহে এ দিনে আসমানে তুলে নেন।
  • হযরত মুসা (আঃ) ও ঈসা (আঃ)-এর স্মৃতি বিজড়িত এ দিন ইহুদি-খৃষ্টানদের মাঝেও খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের পেয়ারা নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হিযরতের পর মদিনায় এসে দেখতে পেলেন যে, ইহুদিরা এ দিনে রোযা রাখছে। তারা ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের সাথে আশুরা পালন করছে। মহানবী (সাঃ) আরো জানতে পারলেন যে, তারা হযরত মুসা (আঃ) এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য এ দিনকে বেছে নিয়েছে। হুজুরে পাক (সঃ) উপলদ্ধি করলেন যে, হযরত মুসা (আঃ) এর প্রতি আমাদেরও ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। তাই তিনি ঐ দিনই রোযা রাখলেন এবং সাহাবীদেরও রোযা রাখতে উপদেশ দিলেন। তবে ১০ মুহররমের আগে পরে একটি রোযা বাড়িয়ে দুটি রোযা রাখতে বললেন যাতে মুসলমানদের ইবাদতের সাথে ইহুদি-খৃষ্টানদের ইবাদতের মিল না হয়।

 

 

লেখক- ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
খতিব, থুকড়া বায়তুস সালাম কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ
ডুমুরিয়া, খুলনা।

উপরে