সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

শিম চাষে লাভবান নওগাঁর চাষিরা ভুগছেন পোকাতঙ্কে

প্রকাশের সময়: ১২:১৫ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৮

 

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

 

 

আগাম শীতকালীন সবজি হিসেব শিম -এ সয়লাব নওগাঁর বাজার। কম ফলনেও দাম ভালো পেয়ে খুশি সেখানকার চাষিরা। তবে আগাম এ শিম পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে চাষিদের লাভের একটি অংশ চলে যাচ্ছে কীটনাশকে। কারণ, আগাম এ শিমে দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ। কৃষি অফিস থেকে কোনো পরামর্শ না পেয়ে চাষিরা ইচ্ছামত কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে চাষিদের। তবে এরপরও কোনো প্রতিকার না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

অনেক কৃষক শিমকে পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে আগে থেকেই কীটনাশক স্প্রে করছেন। কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতা পেলে আগামীতে শিমের আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন চাষিরা।

কৃষকরা প্রতি বছর নিজেরা শিম চাষের জন্য বীজ সংরক্ষণ করে রাখেন। সংরক্ষণ করা বীজ আগাম শিম চাষে ব্যবহার করেন। আগাম শিম চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা প্রতি বছরই এটা করে থাকেন।

 

শীতকালীন আগাম শিম ফলনে কম হলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। প্রতি কেজি শিম পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে। প্রথমে ফলন একটু কম হলেও, পরবর্তীতে ফলন বেশি হয়। যখন ফলন বেশি হয় তখন আর আগের মতো দামও পাওয়া যায় না।

সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক মোশারফ হোসেন জানান, ৬ কাঠা জমিতে এবার আগাম শিমের আবাদ করেছেন। গাছে ভালো শিম ধরেছে এবং বাজারে দামও ভালো। প্রায় ১০ কেজির মতো শিম তুলেছেন। প্রতি কেজি শিম ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এরকম দাম থাকলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।

একই গ্রামের কৃষক আফাজ উদ্দিন বলেন, ১০ কাঠা জমিতে আগাম শিমের আবাদ করেছি। প্রায় পাঁচ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। এখনো শিম উত্তোলন শুরু করতে পারিনি। আগাম আবাদ করায় পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। বাজারে এখন শিমের ভাল দাম আছে। কিন্তু যখন বেশি পরিমাণ শিম উত্তোলন শুরু হবে তখন আবার দাম কমে যাবে।

 

চাঁদপুর গ্রামের কৃষক হানিফ বলেন, শিম গাছের ডগায় পঁচানি দেখা দিয়েছে। এছাড়া পোকা শিম ছিদ্র করে ফেলছে। কৃষি অফিসের কোনো লোককে মাঠে না পেয়ে কীটনাশকের দোকান থেকে দোকানীর পরামর্শে কীটনাশক কিনে স্প্রে করা হচ্ছে। পোকা দমনে বিভিন্ন কীটনাশক স্প্রে করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কীটনাশক কিনতে লাভের একটি অংশ চলে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মফিদুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলায় প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে আগাম সবজি শিমের আবাদ করা হয়েছে। এটি একটি লাভজনক ফসল। তবে আগাম সবজি হিসেবে শিমে বিভিন্ন পোকার আক্রমণ হয়ে থাকে। বিশেষ করে মোজাইক ভাইরাসের আক্রমণ করলে পাতা হলদে হয়ে যায়।

তিনি কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে কৃষকদের কীটনাশকের দোকানে না গিয়ে সরাসরি কৃষি অফিসে অথবা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মুঠোফোনে কল দিয়ে পরামর্শ নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

(jagonews24.com)

উপরে