বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ২৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

নির্বাচনী হালচাল টাঙ্গাইল-০৭

প্রকাশের সময়: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

মোঃ রায়হান সরকার রবিন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশ জুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আট ঘাট বেধে মাঠে নেমেছে। জাতীয় নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুরে। মির্জাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-০৭ আসন। একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের বর্তমান এমপি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ একাব্বর হোসেন। এ আসনটি উদ্ধারের চেষ্টায় বিএনপি মরিয়া। দলীয় টিকেট নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সম্ভ্যাব্য প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি এমপি প্রার্থীরা নিজ এলাকায় বিভিন্ন দলীয় ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করছেন। সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা দিন-রাত গণসংযোগ করে ভোটারদের কাছে দোয়া চেয়ে আগামীদিনে তাদের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ফলে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে মির্জাপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর আসনে এমপি পদে নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ, সাবেক প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, বর্তমান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (এ) সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতারা মাঠে-ময়দানে কাজ করে যাচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ টাঙ্গাইল-৭ আসনটি একসময় জাতীয় পার্টি ও বিএনপির দখলে ছিল। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে আসে। বিএনপির দুর্গ ভেঙে এমপি নির্বাচিত হন আলহাজ্ব মোঃ একাব্বর হোসেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তিন তিনবার নির্বাচিত এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মোঃ একাব্বর হোসেন মির্জাপুরের সুষম উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তিনি একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তা-ঘাটসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুষম উন্নয়ন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করেছেন এবং প্রতিটি এলাকায় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মীসভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।
এ ব্যাপারে আলহাজ্ব মোঃ একাব্বর হোসেন এমপি এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের মাধ্যমে মির্জাপুর উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ বাস্তবায়ন এবং চলমান রয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে মির্জাপুরে যে উন্নয়ন হয়েছে স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও তা হয়নি। আমি আশা রাখি জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেবে এবং এ আসন থেকে আমি নির্বাচিত হব।
এছাড়াও মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মীর শরীফ মাহমুদ, বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলা ও মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মেজর (অব.) খন্দকার এ হাফিজ, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য খান আহমেদ শুভ এ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদিকে বিএনপি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। তারা দলীয় কোন্দল মিটিয়ে আওয়ামীলীগের দুর্গ ভাঙতে মরিয়া হয়ে আসনটি পুরুদ্ধারের জন্য এলাকায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপির নেতাদের দাবি দল যাকেই মনোনয়ন দিবে তারা এক হয়ে কাজ করবে। এজন্য পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে কমিটি গঠনসহ গণসংযোগ করে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিশুবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলের সাবেক জিএস মোঃ সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব ও টাঙ্গাইল জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা মোঃ ফিরোজ হায়দার খান।
বিএনপির সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, মির্জাপুরের উন্নয়নের জন্য দল অবশ্যই আমাকে মনোনয়ন দিবে। মির্জাপুরে বিএনপির মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। কাজেই বিএনপির জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
জাতীয় পার্টি (এ) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল ইসলাম জহির, মোঃ নুরুল ইসলাম নুরু।

 

উপরে