সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৮ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

নিত্য নতুন অজুহাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করছে মিয়ানমার : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময়: ৫:১৯ অপরাহ্ণ - বুধবার | সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

 

কোনো অবস্থাতেই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে রাখা হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্ব করতে মিয়ানমার নতুন নতুন অজুহাত খুঁজছে। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। 

রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে একীভূত করতে বাংলাদেশ তাদের না রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের ১৬ কোটি জনসংখ্যা রয়েছে। আমরা আর কোনো বোঝা নিতে পারব না। আমরা তাদের গ্রহণ করতে পারব না। আমার দেশ সেটা করতে পারবে না।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি চেক পোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গাদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নৃশংস ওই অভিযান থেকে জীবন বাঁচাতে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

কয়েক মাস আগে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিও করেছে মিয়ানমার। কিন্তু নানা অজুহাত দেখিয়ে এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করেনি নেইপিদো।

দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে এমন শর্তে গত নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিও করেছে মিয়ানমার। কিন্তু নানা অজুহাত দেখিয়ে এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করেনি নেইপিদো।

তবে শরণার্থী সমস্যাকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের সঙ্গে যুদ্ধ বাধাতে চান না বলেও উল্লেখ করেন বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী।

মিয়ানমার নেতা অং সান সুচি ও দেশটির সেনাবাহিনীর, যারা মূল ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে, প্রতি ধৈর্য্যের মাত্রা হ্রাস পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা সব কিছুর সাথে একমত হচ্ছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা বাস্তবায়ন করছে না, এটা একটা সমস্যা।’

‘সব কিছু ঠিকঠাক আছে…কিন্তু বার বার তারা নতুন নতুন অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করছে,’ বলেন বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে চুক্তি বাস্তবায়নে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

রয়টার্স বলছে, এ ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ হতয়ের কাছে ফোন করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি হতয় বলেছেন, তিনি আর ফোনে কোনো কথা বলবেন না। বরং সপ্তাহে দুইবার সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাব দেবেন।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার গড়িমসি করায় বাংলাদেশ সরকার ভাসান চরে তাদের প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সেখানে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হলে বন্যার কবলে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। যদিও কক্সবাজারেও একই ঝুঁকি রয়েছে। তবে চলতি বছর তুলনামূলক কম বৃষ্টি হওয়ায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমতল ভূমিতে শরণার্থীদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণের কোনো সম্ভাবনা নেই, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়,’ যেহেতু তারা মিয়ানমারের নাগরিক সেহেতু অবশ্যই তাদের ফেরত যেতে হবে।

উপরে