বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯ | ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

আপনি কি জানেন কে এই ব্যারিস্টার মইনুল?

প্রকাশের সময়: ১:৪৫ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | অক্টোবর ২৩, ২০১৮

 

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

 

অতি সম্প্রতি বেসরকারী টিভি চ্যানেল একাত্তর -এর একটি টক-শো’তে রাজনৈতিক সংবাদের বিশ্লেষণ আলোচনায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন উপস্থিত মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে আখ্যায়ন করেন।  তার এই মন্তব্যের পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। চাঞ্চল্যকর এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মইনুলের অতীত ও বর্তমান নিয়ে চলছে চুল চেরা বিশ্লেষন। আপনি কি জানেন কে এই ব্যারিস্টার মইনুল?  চলুন এক নজরে দেখে নেই তার অতীত কর্মকান্ড।

সোশাল মিডিয়াতে আলোচনার সূত্র ধরে ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে একাত্তর টেলিভিশনের টকশোতে অতিথি মাসুদা ভাট্টি আরেক অতিথি ব্যারিস্টার মইনুলকে জিজ্ঞেস করেন,  ‘মি. হোসেন, জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টে আপনি জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করছেন কিনা?’ জবাবে ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি।  আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই।’

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন প্রয়াত সাংবাদিক এবং দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার বড় ছেলে।  বর্তমান সরকারের মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু তার আপন ছোট ভাই।  ১/১১’র জরুরি অবস্থার সময় সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্ববধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ছিলেন মইনুল।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মইনুল হোসেন ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র দি নিউ নেশন-এর কর্ণধার। পূর্বে তিনি ছিলেন দেশের বৃহৎ এবং জনপ্রিয় পত্রিকা, ”দৈনিক ইত্তেফাক” এর সম্পাদকীয় বোর্ডের চেয়ারম্যান।  সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ড. ফখরুদ্দীন আহমেদ-এর এই উপদেষ্টার অধীনে ছিল তথ্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয়।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ ইত্তেফাক অফিস পুড়িয়ে দেয় পাক বাহিনী।  পাকিস্তানী দালাল খোন্দকার আব্দুল হামিদের মাধ্যমে মইনুল হোসেন পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে তৎকালীন সময়ে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে নেন।  মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এই টাকা নিয়ে মইনুল হোসেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন না করে বিদেশ চলে যান!

১৯৭৪ সালে ‘বাসন্তি নামে’ একজন পাগল মহিলাকে জাল পরিয়ে ইত্তেফাক পত্রিকায় একটি ছবি প্রকাশ করা হয়।  এই ছবির মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা হয় এবং পঁচাত্তরের ঘাতকদের প্রোপাগান্ডা হিসেবে এই ছবিটি ব্যবহৃত হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, বাসন্তিকে জাল পরানোর পরিকল্পনাটি ছিল মইনুল হোসেনের।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সম্প্রতি বলেছেন, ‘সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা মইনুল হোসেন এখন বিএনপি-জামায়াতের খুব কাছের লোক হয়ে গেছেন।  ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ১/১১ পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেষ্টা ছিলেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিনিই সব মামলা দিয়েছিলেন। এমনকি খালেদা জিয়া এখন যে মামলায় জেল খাটছেন সেই মামলাটিও মইনুল হোসেন এর দায়ের করা।  এখন সেই মইনুল হোসেন বিএনপি-জামায়াতের সব হয়ে গেছেন। এরা পরীক্ষিত গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি। এদের কথায় দেশের মানুষ বিভ্রান্ত হবে না।’

বাংলাদেশের ইতিহাসের কালো অধ্যায় পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট তথা সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকন্ডের পর ও জাতীয় ৪ নেতা হত্যার পর ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন খুনি মোশতাককে নিয়ে তথাকথিত ডেমোক্রেটিক লীগ করেছিলেন বলে জানান মোহাম্মদ নাসিম।

সর্বশেষ ‘চরিত্রহীন’ ইস্যুতে সোমবার রাতে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও রাজনীতিবিদ আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসা থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা যায়, সোমবার সেখানে মইনুল যাওয়ার পরপরই বাসাটি ঘিরে ফেলে ডিবি পুুলিশের একটি টিম।

প্রসঙ্গত মাসুদা ভাট্টিকে উদ্দেশ্য করে বিরুপ মন্তব্য করায় সোমবার বিকেলে রংপুরের মুলাটোল এলাকার মিলি মায়া বেগম বাদী হয়ে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।  পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এই মামলার ওয়ারেন্ট হাতে পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে  ডিবি পুলিশ।

 

সূত্র- zoombangla

উপরে