রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯ | ২রা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ধর্মঘটে ভারত থেকে আসা পাসপোর্টযাত্রীদের চরম দুর্ভোগ

প্রকাশের সময়: ৯:২৯ অপরাহ্ণ - রবিবার | অক্টোবর ২৮, ২০১৮

 

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

 

৮ দফাসহ সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা সংশোধনের দাবি শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে ৪৮ ঘণ্টা শ্রমিক ধর্মঘটে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে। রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ ধর্মঘটে বন্দর থেকে কোনো পণ্য পরিবহন করতে পারছে না বন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। ধর্মঘটে বেনাপোল থেকে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ভারত থেকে আসা কয়েকশ পাসপোর্টযাত্রী। গন্তব্যে ফিরতে না পেরে আটকা পড়া এসব যাত্রীরা বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও বাস কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন। পরিবহন কর্তৃপক্ষ বলছেন, সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাস ছাড়তে পারছেন না। এতে তাদের কিছু করার নেই।

শত শত পণ্য চালানের সরকারি শুল্ক পরিশোধ করার পরও ট্রাক ধর্মঘটে বন্দর থেকে খালাস নিতে পারছেন না তারা। এর ফলে বন্দরে ভয়াবহ পণ্য জট দেখা দিয়েছে।

বন্দরের অভ্যন্তরে পণ্য রাখার জায়গা না থাকায় ভারত থেকে নিয়ে আসা আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে কয়েকশ ট্রাক বন্দর ও বন্দরের আশপাশের সড়কে দাঁড়িয়ে আছে পণ্য খালাসের অপেক্ষায়। প্রতিদিন ভারত থেকে তিনশ থেকে সাড়ে চারশ ট্রাক পণ্য বেনাপোল বন্দরে আসে। দেড়শ থেকে দুইশ ট্রাক বাংলাদেশি পণ্য ভারতে রফতানিও হয়।

প্রতিবছর সরকার এ বন্দর থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। ধর্মঘটে আমদানি পণ্য আটকা থাকায় দেশের শিল্প কারখানায় উৎপাদন কাজে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের।

ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর বেনাপোল থেকে আন্তঃজেলা, ঢাকাসহ দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অনেক যাত্রীকে স্ট্যান্ডে এসে ফিরে যেতেও দেখা গেছে। যশোর-বেনাপোল সড়কের বিভিন্নস্থানে অবস্থান নিয়ে ধর্মঘটের সমর্থনকারীরা গণপরিবহনও চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। ফলে যশোর-বেনাপোল সড়কে যান চলাচল করতে পারছে না।

পরিবহন ধর্মঘটের প্রথম দিনে রোববার দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। পচনশীল পণ্য পরিবহন করতে কয়েকটি ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেও তারা পণ্য লোড করতে সাহস পাচ্ছে না। এতে করে মাছ, পেঁয়াজ, পানপাতাসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এসব পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন উৎপাদন সামগ্রী ও সাধারণ পণ্য আটকা পড়েছে। সেখানেও বড় ধরনের লোকসানে পড়বে ব্যবসায়ীরা।

যাত্রীরা অভিযোগ তুলেছেন, জরুরি প্রয়োজনে যারা গন্তব্যে ফিরতে চাইছেন তাদের কাছ থেকে তিন থেকে চারগুণ বেশি ভাড়া আদায় করে ফায়দা লুটছে প্রাইভেট ও মাইক্রোবাস চালকরা।

বেনাপোল ঝিকরগাছা ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন জানান, সংসদের পাসকৃত সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা শ্রমিক পরিপন্থী। ফলে এই আইন মেনে শ্রমিকরা সড়কে গাড়ি চালাতে চাচ্ছে না। তারা বলছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা গাড়ি চালাব না। সড়ক দুর্ঘটনার মামলা জামিন যোগ্যকরণ, অর্থদণ্ড ৫ লাখ টাকা থেকে কমানো, সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখা, সড়কে পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ সড়ক পরিবহন আইনের কিছু ধারা সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে আমাদের এই ধর্মঘট।

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানান, পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটে বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও ভারত থেকে আমদানি পণ্য প্রবেশে কোন বাধা নেই।

 

সূত্র- jagonews24

উপরে