রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ | ৫ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

পরিবহন ধর্মঘট শেষে মঙ্গলবার সকাল থেকে চলবে যানবাহন

প্রকাশের সময়: ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | অক্টোবর ৩০, ২০১৮

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

 

চরম ভোগান্তি পোহানো শেষে ৪৮ ঘণ্টার চলমান পরিবহন ধর্মঘট শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার। এদিন সকাল থেকে চলবে সকল প্রকারের যানবাহন, নিস্তার পেতে যাচ্ছেন জনসাধারন। এবিষয়ে পরিবহন শ্রমিক নেতা ওসমান আলী বলেছেন, মঙ্গলবার থেকে আমাদের কর্মসূচি আপাতত শেষ। এরপর আমরা সরকারকে আবারো নোটিশ দেব। আগামী ২১ দিনের মধ্যে সরকার ৮ দফা দাবি না মান ৯৬ ঘণ্টার কর্মসূচি দেব।

সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে নোটিস দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে শ্রমিকদের টানা ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটে সাধারণ মানুষের সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে ফেলে সারা দেশের শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সবচেয়ে বড় মোর্চা সংগঠন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। এ সংগঠনের প্রধান নেতা ও সরকারের নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান রোববার সাংবাদিকদের এ আন্দোলনের বিষয়ে বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

সাপ্তাহিক দুদিনের ছুটি শেষে কর্মদিবসের প্রথম দিন রোববার সকাল ৬টা থেকে সারা দেশে ধর্মঘট শুরু হয়। সোমবার ছিল পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন।

এদিকে, রাজধানীর হাজার হাজার মানুষ দিনভর হেঁটে কার্যক্ষেত্রে চলছেন। বেশি ভাড়া দিয়ে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইডশেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-উবারের মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যস্থলে যাচ্ছেন অনেকে। মোটরসাইকেলের চালক, ব্যক্তিগত গাড়ির চালক কিংবা আরোহীদের মুখেও পোড়া মবিল মেখে দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে ধর্মঘটের সমর্থনে রাস্তায় নামা শ্রমিকরা। এরই মধ্যে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সমালোচনাও হচ্ছে।

উল্লেখ্য গত ২৯ জুলাই রাজধানীতে বাস চাপায় দুই স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সারা দেশে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা সড়ক পরিবহন আইন পাস করে। কিন্তু ওই আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সেগুলো বাতিল করার দাবি তুলেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

তাদের দাবিগুলো হলো- সড়ক দুর্ঘটনার সব মামলা জামিনযোগ্য করা, দুর্ঘটনায় চালকের পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল, চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির পরিবর্তে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত করা, ৩০২ ধারার মামলার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখা, পুলিশি হয়রানি বন্ধ, ওয়ে স্কেলে জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল এবং গাড়ি নিবন্ধনের সময় শ্রমিক ফেডারেশন প্রতিনিধির প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর শ্রমিক ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নেয়, সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারসহ আট দফা দাবি ২৭ অক্টোবরের মধ্যে পূরণ না হলে ২৮ অক্টোবর থেকে দুদিনের কর্মবিরতিতে যাবে শ্রমিকরা।

পরিবহন শ্রমিকদের এই দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সকালে বলেন, এই মুহূর্তে আইন পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। এই মুহূর্তে পরিবর্তন করতে তো পারব না। পরবর্তী পার্লামেন্ট পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে।

পরিবহন শ্রমিকদের ধৈর্য্য ধরার পরামর্শ দিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের বলেন, তাদের অপেক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে কোনো ন্যায়সংগত বিষয় থাকলে পরে আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে।

 

 

 

সূত্র- বিডি জার্নাল

উপরে