বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

‘মাওলানা ভাসানী চিরদিন আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন : ড. কামাল

প্রকাশের সময়: ২:৫৩ অপরাহ্ণ - শনিবার | নভেম্বর ১৭, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘মাওলানা ভাসানী চিরদিন আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। আন্দোলন সংগ্রামে তিনি যে প্রেরণা দিয়ে গেছেন সে প্রেরণা আজ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। মাওলানা ভাসানীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব।’

ড. কামাল আরো বলেন, ‘আমাদের জনগণের পক্ষে যত রকমের সংগ্রাম হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, সবকয়টাতে আমাদের মূল নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা ভাসানী। উনি আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধুরও গুরু। তার আত্মার প্রতি মাগফেরাত কামনা করতে ও শ্রদ্ধা জানাতে আজ আমরা এখানে এসেছি। আমি মনে করি, মাওলানা ভাসানী অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে চিরদিন আমাদের মাঝে থাকবেন। আজও আমরা সাধারণ কৃষক, শ্রমিক, গরিব মানুষের পক্ষে যে সকল কাজ করে যাচ্ছি, তিনি (মাওলানা ভাসানী) সে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন। আমরা বিশ্বাস করি এই সন্তোষ থেকে এই প্রেরণা আরো ছড়িয়ে যাবে, জনগণের জয় হবে।’

শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মাজারে পুস্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ড. কামাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম, মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরউল্লাহ চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ সময় ড. কামালকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এ সময় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে নির্বাচন থাক, কালকে থেকে এই বিষয়ে কথা হবে।’

এরপর ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি মাজার প্রাঙ্গণে সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। নির্বাচনে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি হয়নি। আমরা নির্বাচন থেকে সরে যেতে চাই না। আমরা বেগম খালেদা জিয়াকে সাথে নিয়ে নির্বাচন করতে চাই।’

পল্টনে পুলিশের সাথে বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেরা সবসময় দেশে একটি সংকট তৈরি করে, তারপর সেই সংকটকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। এই নয়াপল্টনে যে সমস্যা, এই সমস্য সবাই দেখেছে। টেলিভিশন দেখেছে, কারা পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়েছে। এরপরও আমাদেরকে বলতে হচ্ছে, গাড়ি আমরা পোড়াইনি। আমাদের ডিফেন্সিভে ফেলে দেওয়ার জন্য তারা (সরকার) সব সময় চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা চায়, সবসময় একটা সংঘাতের সৃষ্টি করে, জনগণকে ভয়ভীতির মধ্যে রাখতে, যাতে জনগণ ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে না যায়। এমন একটি কলাকৌশল তারা করছে বলে ইদানিং তাদের কার্যকলাপ ও বক্তব্যে প্রকাশ পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি আমরা দেখছি না। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সরকারের যে দায়িত্ব, নির্বাচন কমিশনের যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব পালন করছে না।’

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম তোফা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ।

ভাসানীর মাজার জিয়ারতে এসে ঐক্যফন্টের অপর নেতা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘শেখ মুজিব ইতিহাসের কিংবদন্তি যেমন ঠিক একইভাবে ভাসানী, ওসমানী, জিয়াউর রহমান, তাজউদ্দিন সাহেবকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস হবে না। আমরা সত্যিকারে যার যা প্রাপ্য, বিশেষ করে মাওলানা ভাসানী, যিনি নিঃস্বার্থ, নির্লোভ তাকে সেই সম্মান দিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার দুঃখটা হলো, ভাসানীর মাজারে আসতে রাস্তায় যখন ঢুকছি, এখানে আরো লোক এসেছে। পীর-মুরদি, ভাসানীর সংগঠনের নেতা, কেউ কোথাও মাওলানা ভাসানীর একটিও গেট করতে পারেন নাই। ভাসানীর জন্য স্থায়ী কিছু হওয়া উচিৎ। এটা মাওলানা ভাসানীর বাংলাদেশ। আজকে আমাদের কাজ হবে, ইতিহাসকে সঠিকভাবে জানানো। তাহলেই মুক্তিযুদ্ধের কাজ হবে। ভাসানী সারাজীবন কার কথা বলেছেন? উনি উনার জন্য কিছু করেননি, সারাজীবন কুঁড়ে ঘরে থেকেছেন। আমরা উনাকে এই কারণেই স্মরণ করতে চাই। কারণ উনি আমাদের সঠিক পথে অনুপ্রেরণা দেন।’

আগামী নির্বাচন সম্পর্কে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করতে হয়। এখানে আমাদের ৫০ জনকে এরেস্ট করা যাবে, ৫ হাজারকে এরেস্ট করতে পারবে। কিন্তু ৫ লাখকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না। তাই গ্রেপ্তারের জন্য পালিয়ে থাকার দরকার নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা আদায় করে নেব। তাহলেই জাতির মঙ্গল হবে, বাংলাদেশের উন্নতি হবে।’

এদিকে, মাওলানা ভাসানীর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শনিবার ভোর থেকেই সন্তোষে জনতার ঢল নামে। তার অসংখ্য ভক্তের কণ্ঠে ‘যুগ যুগ জিও তুমি মওলানা ভাসানী’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে মজলুম জননেতার সমাধিস্থল টাঙ্গাইলের সন্তোষের মাজার প্রাঙ্গন।

সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিন মওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করেন।

এরপর থেকেই মাজারে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মরহুমের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শুরু করে।

১৯৭৬ সালের এই দিনে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাওলানা ভাসানী।

১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে মওলানা ভাসানীর জন্ম। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তার জীবনের সিংহভাগই কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। সন্তোষের মাটিতেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তার কৈশোর-যৌবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি তৎকালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। লাইন-প্রথা উচ্ছেদ, জমিদারদের নির্যাতনবিরোধী আন্দোলনসহ সারাজীবনই তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তার উদ্যোগে ১৯৫৭ সালে কাগমারীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি সর্বদলীয় ওয়ার কাউন্সিলের উপদেষ্টা ছিলেন। স্বাধীনতার পর তার সর্বশেষ কীর্তি ছিল ফারাক্কা লং মার্চ।

রাইজিংবিডি

উপরে