বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ৫ই পৌষ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

১৫০ কোটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ বিগত ৬ মাসে

প্রকাশের সময়: ৬:০৫ অপরাহ্ণ - রবিবার | নভেম্বর ১৮, ২০১৮

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ফেসবুক ব্যবহার করে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ থেকে শুরু করে, ফেক নিউজের ছড়াছড়ি, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কেলেঙ্কারিসহ সোশ্যাল সাইটটিতে বিভিন্ন অনিয়ম ঠেকাতে ফেসবুক নেতৃত্বের ব্যর্থতা, এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেশ অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। সেই ধারবাহিকতায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিগত ৬ মাসে ১৫০ কোটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যেগুলো ফেক বলে ফেসবুক জানিয়েছে। এছাড়া ৬ মাসে ২১০ কোটি স্প্যাম মুছে ফেলা হয়েছে বলেও সোশ্যাল সাইটটি উল্লেখ করেছে। তার আগের ৬ মাসে (২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত) ফেক অ্যাকাউন্ট বন্ধের পরিমাণ ১৩০ কোটি।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদন প্রকাশের একদিন পার হতে না হতেই ফেসবুক নিজেদের স্বচ্ছতা প্রকাশে সর্বশেষ ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদন এবং কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে ফেসবুক জানিয়েছে, জনপ্রিয় প্লাটফর্মটি থেকে ফেক অ্যাকাউন্ট, প্রাপ্তবয়স্ক নগ্নতা এবং যৌন কার্যকলাপ, সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা, হেনস্তা, হিংসাত্মক কনটেন্ট, শিশু যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট এবং স্প্যামের বিস্তার দমন করার জন্য তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষের মতে, ব্যবহারকারীরা অভিযোগ জানানোর আগেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে আপত্তিকর পোস্ট শনাক্তে ফেসবুকের প্রযুক্তি এখন আরো বেশি দক্ষ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হিংসাত্মক পোস্ট, সহিংসতামূলক পোস্ট এবং গ্রাফিক কনটেন্ট শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে।

যৌনতামূলক পোস্ট, স্প্যাম, সন্ত্রাসবাদ, ফেক অ্যাকাউন্ট সহ নীতিমালা ভঙ্গকারী বিভিন্ন কনটেন্ট ব্যবহারকারীরা অভিযোগ জানানোর আগেই ফেসবুকের প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্তে ইতিমধ্যে বেশ সফল হলেও,  সম্প্রতি হিংসাত্মক পোস্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্তেও বেশ দক্ষতা অর্জন করেছে প্রযুক্তি। ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে হিংসাত্মক পোস্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে যেখানে ২৪ শতাংশ শনাক্তে সক্ষম হয়েছে ফেসবুক, সেখানে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে দ্বিগুণ পরিমাণ দক্ষ অর্থাৎ প্রায় ৫২ শতাংশ শনাক্ত করতে পেরেছে ফেসবুক এবং তিন মাসে এ জাতীয় ২৯ লাখ পোস্ট মুছে দিয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে, ব্যবহারকারীরা অভিযোগ জানানোর আগেই ফেসবুক স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্তবয়স্ক নগ্নতা এবং যৌনতা, শিশু যৌন নিপীড়ন, ফেক অ্যাকাউন্ট, স্প্যাম, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতা প্রচারণা, গ্রাফিক কনটেন্টগুলো শনাক্ত করতে যেখানে ৯০ শতাংশের বেশি সফল, সেখানে দুটি ক্ষেত্রে এখনো বেশ পিছিয়ে রয়েছে। আর তা হচ্ছে বুলিং ও হয়রানি এবং হিংসাত্মক পোস্ট। জুলাই-সেপ্টেম্বরে ফেসবুক স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিংসাত্মক পোস্ট শনাক্ত করতে পেরেছে ৫১.৬ শতাংশ এবং বুলিং ও হয়রানিমূলক পোস্ট শনাক্ত করতে পেরেছে ১৪.৯ শতাংশ।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে বুলিং এবং হয়রানিমূলক পোস্ট শনাক্ত অবশ্য ফেসবুকের নতুন কার্যক্রম, যা আগে ছিল না। জুলাই থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় এ ধরনের পোস্ট অপসারণের কার্যক্রম সাইটটিতে চালু করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট গাই রোসেন বলেন, ‘যেসব ক্ষেত্রে আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি, সেসব ক্ষেত্রে আমরা ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছি। যেমন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বুলিং কিংবা হিংসাত্মক পোস্ট শনাক্তকরণ। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এখনো খারাপ কনটেন্ট চিহ্নিতে শতভাগ পারদর্শী নয় কারণ বাক্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বৃহত্তর পরিমাণে প্রশিক্ষিত ডাটা প্রয়োজন যার মাধ্যমে বিভিন্ন আচরণের অর্থপূর্ণ বিষয়টি বুঝতে পারবে, কেননা কম ব্যবহৃত ভাষাগুলোর ক্ষেত্রে প্রায়ই এর অভাব দেখা যায়।’

‘সর্বোপরি, আমরা জানি ফেসবুকের অপব্যবহার প্রতিরোধ করতে আমাদের আরো অনেক কাজ করতে হবে। আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত এবং অপসারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছি এবং মডারেটর সংখ্যা বাড়াচ্ছি, যা ফেসবুককে নিখুঁত ও অর্থপূর্ণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।’

অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদনে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে (জানুয়ারি-জুন) বিভিন্ন দেশের সরকার কি পরিমাণ তথ্য চেয়েছে এবং সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ফেসবুক কি পরিমাণ তথ্য সরবরাহ করেছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে সরকারের তথ্য চাওয়ার পরিমাণ বিশ্বব্যাপী ২৬ শতাংশ বেড়েছে, ২০১৭ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে যেখানে ৮২,৩৪১টি অনুরোধ পেয়েছিল, ২০১৮ সালের জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত তারা ১০৩,৮১৫টি অনুরোধ পেয়েছে। এছাড়াও ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশে ফেসবুকের বেশ কিছু সেবায় সরকারি হস্তক্ষেপ ও প্রতিবন্ধকতার বিষয়গুলো প্রকাশ করা হয়েছে। কপিরাইট, ট্রেডমার্ক এবং জালিয়াতির কনটেন্ট সংক্রান্ত অভিযোগের পরিমাণের তথ্যও রয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

তথ্যসূত্র : এনগ্যাজেট

সূত্র : রাইজিংবিডি

উপরে