সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৯ | ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

‘বেকার সমস্যাই বর্তমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ’

প্রকাশের সময়: ৮:৪১ অপরাহ্ণ - সোমবার | জানুয়ারি ৭, ২০১৯

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ গবেষণা করছেন উন্নয়নের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে। অতিসম্প্রতি তিনি একটি দেশীয় জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে রাজনীতি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদের ‘গণতন্ত্র মডেল’র দিকে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন। সেই সাথে দুর্নীতিরোধে আশু পদক্ষেপ নিলে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়বে, যা বৈধতার সংকট দূর করবে। বর্তমান সংকট হিসেবে বেকার সমস্যাই সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করেন এ বিশ্লেষক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এই মুহূর্তের চ্যালেঞ্জকে দু’ভাগে ভাগ করতে হবে। একটি হচ্ছে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। অপরটি হচ্ছে, একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে স্বাভাবিক কিছু চ্যালেঞ্জ সামনে আসে, সে বিষয়টি।বেকার সমস্যাই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। এক কোটির বেশি হবে বেকার যুবক। তারা না পারছে শ্রমিক হতে, না পাচ্ছে চাকরি। এই শিক্ষিত যুবকদের কাজে লাগাতে না পারলে, তারা অন্যদিকে চলে যেতে পারে।

কিন্তু এতো বেকারের চাকরি দেয়া কি সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ঠিক চাকরির কথা বলছি না। এতো লোকের চাকরি দেয়া সম্ভব নয়। তবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।উদ্যোগ তৈরি করা সম্ভব; যার মধ্য দিয়ে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করা যাবে। এজন্য কথায় আটকে না থেকে যথাযথ কমিটমেন্ট এবং কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ দরকার। এখন পর্যন্ত আমরা সেটা দেখতে পাইনি। বিশেষ করে এ সরকারের গত আমলে আমরা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার তেমন লক্ষণ দেখতে পাইনি।

তিনি যোগ করেন, আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বেকার সমস্যা দূরীকরণে প্রতিজ্ঞা করেছে। আমি আশা করছি, এই সরকার যেন এ ব্যাপারে স্বচ্ছ একটি রূপরেখা দেয়। রাজনীতি আর ব্যবসা এক বিষয় নয়। অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। উদ্যোগ গ্রহণের মানসিকতা দরিদ্রদের মধ্যেও থাকে। মূলধন থাকে না বলে তারা প্রকাশ করতে পারে না। এ কারণে আমরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা বা ভর্তুকি দেয়ার কথা বলছি।

তিনি আরও বলেন আমরা যদি কল্যাণ অর্থব্যবস্থায় থাকতাম তাহলে প্রণোদনার প্রসঙ্গ আসত না। আমরা এখন পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় পুরোপুরি প্রবেশ করেছি। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় বড় ব্যবসায়ীরা ছোট ব্যবসায়ীদের সব খেয়ে ফেলে। যেমন- আগে গ্রামের গরিব একজন বৃদ্ধা নিজ হাতে মুড়ি ভেজে বিক্রি করতেন। এখন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও মুড়ি বিক্রি করছে। অর্থনীতির ভাষায় উৎপাদন বাড়লে খরচ কমে। এ কারণে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের এক কেজি মুড়ি তৈরি করতে যে খরচ পড়বে, তার চেয়ে বেশি খরচ পড়বে ওই বৃদ্ধার। ফলে ওই বৃদ্ধা আর মুড়ির বাজারে টিকে থাকতে পারছে না।

বাজার থেকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের রক্ষা করতে হলে সরকারকে অবশ্যই ভর্তুকি দিতে হবে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও কৃষি খাতে ভর্তুকি দিলেন। এর উপকারিতা ছিল বলেই কৃষকরা আজ ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলছে বাংলাদেশকে।

(jagonews24  কর্তৃক প্রকাশিত সাক্ষাৎকার অবলম্বনে)

উপরে