বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ | ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মা-বাবার দ্বিতীয় বিয়ে, জীবনযুদ্ধে একাকি পথচলা

প্রকাশের সময়: ২:৪৫ অপরাহ্ণ - রবিবার | জানুয়ারি ২৭, ২০১৯

(ছবি-ইন্টারনেট)

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

 

[এটি কোন বানানো কাহিনী থেকে না, কোন সেলিব্রিটিদের মাধ্যমে মোটিভেশনাল স্পিচও না। সমাজে ঘটে যাওয়া আপনার আমার মতোই সাধারণ মানুষদের জীবনের ঘুরে দাঁড়াবার গল্প।]

জীবন যুদ্ধের শুরুতেই দেখালাম মা-বাবার ডিভোর্স।পরে মায়ের সঙ্গে নানু বাড়ি চলে যাই। ওখানে থেকেই মা আমাকে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করে দেন। দ্বিতীয় শ্রেণীতে যখন উঠলাম তখন মাকে আবার বিয়ে দিয়ে দেন মামারা। মা-বাবাকে ছাড়া আমি সত্যিই খুব একা হয়ে যাই। অনেক কষ্টের মধ্যে প্রাইমারি শেষ করি। মা মাঝে মাঝে আসতো দেখে যেত। অনেক ভালো লাগতো সেই সময়। প্রাইমারি শেষে মামাদের আদর কেমন যেন হতে লাগলো। অনেকে বুদ্ধি দিলো বাবার কাছে চলে যা। যা ভাবা তাই কাজ। মামাদের বলে চলে আসলাম বাবার বাসায়। এ দিকে বাবাও দ্বিতীয় বিয়ে করছেন। সব কিছু তিন থেকে চার মাস ভালো গেলো। আমি ভর্তি হলাম মাধ্যমিকে।এমনিভাবেই একদিকে মা-বাবার দ্বিতীয় বিয়ে আরেকদিকে জীবনযুদ্ধে আমার একাকি পথচলা।

বাবা খরচ দিলো ক্লাস ৭ পর্যন্ত। ক্লাস ৮-এ আমার প্রথম জেএসসি শুরু। কেন্দ্র অনেক দূরে থাকায় আমার ম্যাসে উঠতে হবে। বাবার কাছে টাকা চাইলাম। তার এক কথা- টাকা দিতে পারবো না। কিভাবে পরীক্ষা দিবি জানি না!

কী করবো আর কী করবো না তা কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার কাছে কিছু টাকা ছিল স্কুল থেকে পেতাম। ওই টাকা নিয়েই গেলাম ম্যাসে। জেএসসি দিলাম। রেজাল্ট দিলো ভালো করলাম।

ক্লাস ৯ এ ভর্তি হলাম। তখন থেকে শুরু হলো জীবনের আসল মোড়। পড়াশোনা করার জন্য এখন বাবা বললো কীভাবে তুই নিজের খরচে পড়বি আমি জানি না!

শুরু হলো আমার দিনের পর দিন মানুষের কাজ করে দেওয়া। ৩ দিন ক্লাস করি ৪ দিন কামলা দেই। এর মাঝে সৎ মায়ের অমানবিক কষ্ট তো আছেই।

এমনও হয়েছে কোনো কোনো দিন কুকুর-বিড়ালের খাওয়া ভাত আমাকে খেতে দিয়েছে! মাঝে মাঝে যদি আমার দাদী বা আমার ছোট চাচি দেখে ফেলতো তাহলে ওই ভাত আর খেতে দিতো না।

তাদের ঘরে নিয়ে খেতে দিতো। এমন করে রোজ মানুষের কাজ করে দিতাম। রসুন তোলা, ধান কাটা, গম কাটা, এমন কি রাজমিস্ত্রির কাজও করতাম। এভাবেই চলতে থাকে এসএসসি পর্যন্ত।

২০১৩ সালে এসএসসি দিলাম, আল্লাহর দোয়ায় রেজাল্টও ভালো হলো। এখন মাথায় আরও চিন্তা- ভর্তি হই কোথায়, এক স্যারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরীক্ষা দেই সরকারি পলিটেকনিক্যালে।

চান্সও পেয়ে যাই কম্পিউটারে। শুরু হইলো জীবনের এক নতুন অধ্যায়। বাড়ি ছেড়ে চলে আসলাম। নতুন জায়গা, নতুন মানুষ আর কিছু নতুন বন্ধু। এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে একটা টিউশনি নিলাম।

আর আমার পেছনে ফিরে তাকাতে হলো না। ডিপ্লোমা শেষ করলাম। এখন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে আছি।

আমার একটা ইচ্ছা ছিল- পড়াশোনা আমি ছাড়বো না। আর বাবা-মা না দেখলেও কিছু করতে পারবো এটা আমার বড় জিদ ছিল। আর হ্যাঁ আমার মা কিন্তু মাঝে মাঝে আমার খবর নেয়। আর বাবা! তার সঙ্গে কথা হয় না আজ ৪ বছর হলো!!

একটা কথা না বললেই নয়; আমার দাদা আর দাদী ছিলো আমার সঙ্গে সব সময়। আর আমার বন্ধুরাও আমাকে অনেক সাহায্য করছে। এখন শুনছি আমার বাবার নাকি আবার ডিভোর্স হয়েছে। বাবা আবার বিয়ে করছে। ভালো থাকুক জগতের সব বাবা-মা।

আমি চাই না আমার মতো যেন আর কারো এমন হয়। এখনো মাঝ রাতে বুকের মধ্যে হু হু করে উঠে মা বাবার জন্য…।

 

লেখক : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

 

[নানান অজুহাতে ডিপ্রেশনের দিকে ঝুঁকছেন মানুষ। তাদের বাইরে আমরাও নেই। প্রতিদিন রাত হলেই বাড়তে থাকে ডিপ্রেশন, যেগুলো পড়ে আমরা আরও ডিপ্রেসড হয়ে যাই। সবার এতো শত ডিপ্রেশন দেখে ফেসবুক কমিউনিটি ডু সামথিং এক্সেপশনাল (ডিএসই) সিদ্ধান্ত নিয়েছে “ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প” তুলে ধরার। আপনারও যদি এমন কোন গল্প থাকে যা অন্যকে নতুন আঙ্গিকে বাঁচতে শেখাবে, পাঠিয়ে দিন। অনুপ্রেরণা হোন অন্যের হেরে যাওয়া জীবনে।]

 

(যুগান্তর –এর সৌজন্যে)

উপরে