বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৯ | ৬ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

তসলিমা নাসরিনের ভাষ্যমতে ঈর্ষান্বিত হয়েই মিতুর স্বামী আকাশের আত্মহত্যা

প্রকাশের সময়: ৭:১৬ অপরাহ্ণ - শনিবার | ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

 

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার বিষয়টিতে এবার মুখ খুলেছেন আলোচিত/সমালোচিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তার ভাষ্যমতে কোন মানুষের মনে ভয়ঙ্কর মাত্রায় ঈর্ষা হলে সে হয় কাউকে হত্যা করে নতুবা আত্মহত্যা করে! এরূপ ঈর্ষান্বিত হয়েই মিতুর স্বামী আকাশের আত্মহত্যা সংঘটিত হয়েছে!

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে তসলিমা লিখেছেন, ‘আত্মহত্যা করলেই সে মানুষ নির্দোষ এমন ভাবার কোনও যুক্তি নেই। মাথায় অসুখ, সে কারণে অনেকে আত্মহত্যা করে। রাগে জেদে হিংসেয় ঘৃণায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়েও কেউ কেউ আত্মহত্যা করে। কাউকে খুন করে, অত্যাচার নির্যাতন করে, পালানোর পথ না পেয়ে শাস্তির ভয়ে বা গ্লানিতেও অনেকে করে আত্মহত্যা।’

‘বাংলাদেশে এক ডাক্তার ছেলে আত্মহত্যা করেছে কারণ তার ডাক্তার বউটি অন্য ছেলেদের সংগে প্রেম করতো, শুতো। এতে বড্ড রাগ হয়েছে ছেলের, তাই আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যা করার মানেই সে তার বউকে খুব ভালোবাসতো, তা প্রমাণ করে না। বউ তাকে ছেড়ে চলে যাবে, ডিভোর্স দেবে- বউয়ের এত বড় স্পর্ধা তার সহ্য হয়নি। আত্মঅহমিকা অনেক সময় এত অতিকায় হয়ে ওঠে, এতে চির ধরলে মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিতে দ্বিধা করে না।’

 

‘ডাক্তার ছেলেটির হাত হয়তো নিশপিশ করছিল বউকে আর বউয়ের প্রেমিকদের খুন করতে, কিন্তু দেশ সুদ্ধ লোক জানবে সে খুনী, দেশ সুদ্ধ লোক দেখবে তার ফাঁসি হচ্ছে, বা তাকে জেলের ভাত খেতে হচ্ছে যাবজ্জীবন ! এই ব্যাপারটি তার ভালো লাগেনি। খুন করতে না পারার এই অক্ষমতাও মানুষকে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দেয়। যাকে আমি আমার অধীন রাখতে চেয়েছি, আমার চেয়ে ক্ষুদ্র, আমার চেয়ে তুচ্ছ, আমার চেয়ে মূর্খ না হয়ে যদি সে আমার হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে আমাকেই টেক্কা দেয়, বা আমাকে অবজ্ঞা করে, তাহলে এ জীবন রাখার কোনও মানে নেই।’

‘ঈর্ষা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলে কী করে মানুষ? হয় হত্যা নয় আত্মহত্যা। কেউ একজন আত্মহত্যা করেছে, সুতরাং সে খুব সৎ ছিল, সরল ছিল, মহান ছিল, মহামানব ছিল- এই ধারণাটি মস্ত ভুল ধারণা। কুখ্যাত খুনী হিটলার আত্মহত্যা করেছিল। বহু খুনী , সন্ত্রাসী, আপরাধীই আত্মহত্যা করেছে। বিশ্বাস না হয়, ইতিহাস ঘেঁটে দেখুন। আজকাল তো ইতিহাস কেউ ঘাঁটে না। সহজ উপায় বলে দিই, গুগুল করুন, ‘মার্ডারারস হু কমিটেড সুইসাইড’, অথবা ‘ক্রিমিনালস হু কমিটেড সুইসাইড’। দেখুন লিস্ট কত লম্বা।’

উপরে