সোমবার, ২৭ মে, ২০১৯ | ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

নুসরাত হত্যাকান্ডে সোনাগাজী উপজেলা আ’লীগ সভাপতি রুহুল আটক

প্রকাশের সময়: ৭:২১ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | এপ্রিল ১৯, ২০১৯

কারেন্টনিউজ ডচকম ডটবিডি :

মাদরাসাছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের পর আগুনে পুড়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার বিকেলে পৌরসভার তাকিয়া রোড এলাকার নিজ কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন দলীয় একাধিক সূত্র।

রুহুল আমিনের ভাগিনা মো. রানাসহ স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর শেখ আবদুল হালিম মামুন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের ওসি মো. শাহ আলম বিষয়টি জানা নেই উল্লেখ করে বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ডে পিবিআইয়ের একাধিক টিম কাজ করছে।

এর আগে ১৪ এপ্রিল নুসরাত হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সেখানে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। তাদের জবানবন্দিতে হত্যার পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ২০ থেকে ২৫ জনের নাম প্রকাশ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইয়ের একাধিক সূত্র জানায়, সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া শাহদাত হোসেন শামীম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর তিনি দৌড়ে নিচে নেমে উত্তর দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যান। বাইরে গিয়ে মোবাইল ফোনে বিষয়টি রুহুল আমিনকে জানান। প্রত্যুত্তরে রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি জানি। তোমরা চলে যাও।’

তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে এরপরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল অামিনকে নজরদারিতে রাখে ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ দিকে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর থেকে আলোচনায় ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ওই মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন। অভিযোগের তীর বরাবরই তার দিকে থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ অভিযোগ করতে পারেননি। তবে এবার উঠে এসেছে তার নামটিও।

জানা যায়, ২৭ মার্চ মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির পর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ওই মাদরাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেন। পরে জনরোষে তিনি অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরদিন সোনাগাজী জিরোপয়েন্টে মাদরাসার অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে কাউন্সিলর মকসুদ আলমের নেতৃত্বে যে বিক্ষোভ ও মানবন্ধন হয় তাতেও ইন্দন দেন রুহুল আমিন।

উপরে