সোমবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৯ | ১১ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

কারেন্টনিউজের দুঃখ প্রকাশ

প্রকাশের সময়: ৫:৩১ অপরাহ্ণ - শনিবার | এপ্রিল ২০, ২০১৯

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

গত ২৩ জুলাই ২০১৭ ইং তারিখে আমাদের অনলাইন নিউজ পোর্টাল কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি’র বিশেষ সংবাদ ক্যাটাগরীতে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাক্তির সম্ভ্রম রক্ষার্থে সংবাদের শিরোণামটি উল্লেখ করা হল না)। বস্তুত প্রকাশিত ঐ সংবাদটি তৎসময়ে দেশের প্রথম সারির প্রায় সকল গণমাধ্যমের কাভারেজ পাওয়া একটি সংবাদের (১২ ভুয়া ডিবি গ্রেফতার) ফলোআপ মাত্র যাতে পুলিশের একাধিক উর্ধতন কর্মকর্তার বিবৃতি উল্লেখ করা হয়েছে।

চরম আক্ষেপের বিষয় যে, প্রায় দুই বছর পর অতিসম্প্রতি একাধিক অতিউৎসাহী অনলাইন নিউজ পোর্টাল উক্ত সংবাদটি কপি-পেস্ট করে প্রকাশ করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ভাইরাল করে।যার ফলে উপরোল্লিখিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাক্তি সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে মারাত্নক ক্ষতির সম্মুখিন হয়।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ের এই ঘটনার সাথে কোন সম্পৃক্ততা না থাকার পরও কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডিকে অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত ভাবে বেশ কিছু জবাবদিহিতার সম্মুখিন হতে হয়েছে। ফলশ্রুতিতে কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি উক্ত অনলাইন পোর্টাল সমূহ কর্তৃক দুই বছর পুরনো উক্ত সংবাদটি প্রকাশ করায় তিব্র নিন্দা-ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করছে সেই সাথে ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে উক্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সমূহকে ডিজিটাল আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে। নিজেদের ক্ষেত্রেও প্রচলতি আইন অনুযায়ী সংবাদ পরিবেশনে কারেন্টনিউজ বদ্ধপরিকর।

জেনে নেওয়া যাক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের উল্লেখযোগ্য ধারাসমূহ –

আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, মানহানিকর কোনও তথ্য দিলে তিন বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনও ধরনের তথ্য উপাত্ত, যেকোনও ধরনের ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডর বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে বলা হযেছে, কেউ যদি বেআইনিভাবে কারও ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে, তাহলে তাকে সাত বছরের জেল ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে। বেআইনিভাবে অন্য সাইটে প্রবেশ করার পর যদি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডর বিধান রাখা হয়েছে।। আবার কেউ যদি বেআইনিভাবে কারও ডিভাইসে প্রবেশ করে তাহলে এক বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডর বিধান রাখা হয়েছে। কেউ যদি কারও ডিভাইসে প্রবেশে সহায়তা করে, তাহলে তিন বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ যদি জনগণকে ভয়ভীতি দেখায় এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করে, তাহলে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

২৫ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল মাধ্যমে আক্রমণাত্মক ভয়ভীতি দেখায়, তাহলে তাকে তিন বছরের জেল ও তিন লাখ টাকা জরিমানাসহ উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

৩০ ধারায় বলা হয়েছে, না জানিয়ে কেউ যদি কোনও ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে ব্যাংক-বীমায় ই-ট্রানজেকশন করে, তাহলে পাঁচ বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

৩১ ধারায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি করলে সাত বছরের জেল ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

উপরে