শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯ | ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ঠাকুরগাঁওয়ে শুন্যে ঘুরলেন বিস্ময়কর নারী

প্রকাশের সময়: ৩:৫১ অপরাহ্ণ - রবিবার | এপ্রিল ২১, ২০১৯

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি
সাদ্দাম হো‌সেন,ঠাকুরগাঁও:পিঠে বড়শী বিদিয়ে শুন্যে ঘুরালেন এক বিস্ময়কর নারীকে । চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে ৪২ বছর বয়সী রিতা রাণী দাশ কে সুউচ্চ শিমুল গাছে দড়ি ঝুলিতে চড়কি শুন্যে ঘোরানো হয়েছে ।। এ সময় ঢাক ঢোলের বাজনা ও পুজা অচর্না করে পুজারীরা । আর দুর দুরান্ত থেকে ছুটে এ দৃশ্য দেখত সব ধর্মের হাজারো মানুষ ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জনগাঁও গুচছ গ্রাম এলাকায় চড়ক উৎসব কে কেন্দ্র করে এ আয়োজন করা হয় । উৎসব কমিটির সভাপতি আশীষ বর্মা বলেন প্রতিবছর চৈত্র শেষে বৈশাখের শুরুতে এ আয়োজন করেন তারা । অন্য বছরে পুরুষ দিয়ে শুন্যে ঘুরানো হয় । তবে তিনি বলেন বিষয়টি অমানবিক ! কিন্তু মানুষ যে অসাধ্য কে সাধন করতে পারে তা সদৃশ্য করতে এই আয়োজন তাদের ।
বিষ্ময়কর নারী রিতা রাণী দাশ বলেন অসাধ্যকে তিনি সাধন করেছেন বাবা উৎসাহে । এই কর্মে ভয় ও কষ্ট দুই জয় করতে পারে তিনি গর্বিত ।২০০৮ সালে তার এই যাত্রা শুরু হয় । তার বাবা ক্ষিতিশ চন্দ্র রায়ের এটা এক ধরনের নেশা এবং পড়ে এটা পেশায় পরিণত হয় । তিনি বলেন প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তিতে এ দু:সাহসি খেলা দেখিয়ে ৩৫-৪০ হাজার টাকা আয় করেন । পরে অন্য কাজে জড়িয়ে পড়েন । এ ভাবে চলে তাদের জীবন সংসার জানান ষাট উর্ধো বয়সী ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় ।
রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান শরৎ চন্দ্র রায় বলেন হিন্দু ধর্মে চড়ক পূজা বিষয়ে তেমন বাধ্যবাধকতা নেই । তিনি বলেন এটি অমানবিক ! তিনি আরো বলেন, ১৪৮৫ সালে সুদবানন্দ ঠাকুর নামে এক রাজা এই পূজা শুরু করেন । তবে ব্রিটিশ সরকার তা নিষিদ্ধ করেন । এর কারণ এটি নিমর্ম ও নির্দয় ।
সাওতাঁল সম্প্রদায়ের এক নারী সোনালী হেমব্রন বলেন মানুষ নিয়ে চলছে কথিত পূজার নামে প্রভাবশালীদের আনন্দ যজ্ঞ ।

উপরে