বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

গরমের সময় আরামদায়ক পোশাক

প্রকাশের সময়: ৯:২৮ অপরাহ্ণ - সোমবার | এপ্রিল ২৯, ২০১৯

                                                                                                                   ছবি সংগৃহীত

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

প্রকৃতির পালা বদলে বইছে তপ্ত হাওয়া। তাপমাত্রা যেন হু হু করে বাড়ছে। উষ্ণতা ছড়াচ্ছে চারদিক। আর এ সময়টাতে চলাফেরা থেকে শুরু করে সব কিছুতেই চলে সাবধানতা। ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। ছয়টি ঋতুই পরিবর্তিত হয় আপন মহিমায়। তারই হাত ধরে প্রকৃতিতে খেলা করছে বৈশাখী তেজ। বৈশাখী ঝড়ের তীব্রতার মতোই রোদ্রের তেজ। যে কারণে বাধ্য হয়েই পরিবর্তিত হয় দৈনন্দিন চলাফেরা এবং যাপিত জীবন।

ফ্যাশন হাউসগুলো এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বাঙালি এখন ফ্যাশন সচেতন জাতি হিসেবে স্বীকৃত। ঋতুভিত্তিক পোশাক এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডের পরিচিত রূপ। কোন ঋতুর সঙ্গে কোন পোশাকটি মানানসই তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করা হয়। আর হবেই বা না কেন। বিশ্ব ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে এ দেশের ফ্যাশন জগৎ। আর এ পথচলায় ফ্যাশন হাউসগুলোও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

ফ্যাশন হাউসগুলো সবসময় সচেষ্ট থাকে ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা মোতাবেক পোশাক সরবরাহ করতে। যখন যে ঋতু বা উপলক্ষ সামনে এসে দাঁড়ায় সে ঋতু কিংবা উপলক্ষ নিয়েই অগ্রিম প্রস্তুতি সেরে ফেলে তারা। যে কারণে সাধারণ মানুষদেরও নিত্য নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে সময় লাগে না। ফ্যাশন হাউসের বদৌলতে ঋতুভিত্তিক পোশাকের অগ্রিম খবর পেয়ে যায়। যার ফলে ঋতুভিত্তিক পোশাকের প্রস্তুতি আগে থেকেই সেরে রাখা যায়।

এ জন্য ক্রেতাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ফ্যাশন হাউসগুলো নিয়ে এসেছে গরমে আরামদায়ক পোশাকের বিশাল আয়োজন। এর মাধ্যমে সহজেই মানিয়ে নেয়া যাবে এ ঋতুতে। বাংলাদেশে বেশ কয়েক বছর থেকেই ঋতুভিত্তিক ফ্যাশন আরও সমাদৃত হচ্ছে। ফলে ক্রেতারা অতি সহজেই তাদের চাহিদা ও পছন্দের পোশাক সংগ্রহ করতে পারে।

এ দেশের সবাই প্রতিনিয়ত নিত্যনতুনের সন্ধানে অভ্যস্ত থাকে। ফ্যাশন হাউসগুলোও তাদের চাহিদা পূরণে চেষ্টা চালিয়ে যায়। তেমনি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবারের গ্রীষ্ম ঋতুতেও তারা নিয়ে এসেছে নতুন ডিজাইন ও রঙের অসংখ্য পোশাক। গরম আবহাওয়ায় পরিধানে আরামদায়ক রং হিসেবে প্রতিটি পোশাকেই হালকা বর্ণের রং লক্ষ করা যায়। এ বর্ণের রঙের পোশাক পরিধানে গরম তুলনামূলক কম উপলব্ধি হয়।

এ বিষয় লক্ষ রেখেই ফ্যাশন হাউস পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে সাদা, হলুদ, লাল, অ্যাশ, গোলাপিসহ অন্যান্য হালকা বর্ণের রঙের ফেব্রিকস দিয়ে বেশি সংখ্যক পোশাক তৈরি করে। শীত মৌসুমে সবাই ফুল স্লিভ ও এ সময় হাফ-স্লিভ পোশাক ব্যবহার করলেও এসব ফ্যাশন হাউসে এ আবহাওয়ায় হাফ স্লিভ ও শর্ট আকারের ড্রেস শোভা পায়। গরম আবহাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে ছেলেদের হাফ-স্লিভ টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট, ভি-নেক টি-শার্ট, হাফ হাতা শার্ট, ফতুয়া, ব্যাপারী শার্ট, পাঞ্জাবি, মেয়েদের শর্ট ও লং থ্রি-পিস, টু-পিস, টপস্ কুর্তা, সালোয়ার, ওড়না, শাড়ি ইত্যাদি সব ফ্যাশন হাউসে স্থান পেয়েছে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা সর্বদা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে তাদের ফ্যাশন।

ক্রেতারা অধিকহারে ফ্যাশন সচেতন হয়ে ওঠার কারণে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ফ্যাশন হাউস। এতে ক্রেতারা অতি সহজেই তাদের পছন্দের পোশাক গ্রহণ করছে। বাঙালিদের ঋতুভিত্তিক পোশাকের প্রতি দুর্বলতা লক্ষণীয়। প্রতিটি ঋতুতেই তা সাদরে গ্রহণ করে। গরম আবহাওয়ার সময় পোশাক ক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাদের চাহিদাও পছন্দের সব পোশাক সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টায় নিয়োজিত আড়ং, দেশাল, রং, কে-ক্রাফট, অন্যমেলা, সুইসুতা, লংলা সাদা-কালো, ইজি, নিত্য-উপহার, কাপড়ই বাংলাসহ দেশের সব ফ্যাশন হাউস। এ সব হাউসে আবহাওয়া উপযোগী সবল ধরনের পোশাক বিদ্যমান।- যা এ আবহাওয়ার সঙ্গে বেশ মানানসই। মেয়েদের ড্রেসে কাপড় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে কটন, এন্টি কটন, সিল্ক, খাদি, ডয়েল, অরবিন্দু লিনেন কটন, গুঁড়িচেক, সিনথেটিক ইতাদি। পাতলা, মসৃণ ও আরামদায়ক ফেব্রিকসে তৈরি ড্রেস দিনে ও রাতে অনায়াসে মানিয়ে যাবে। মেয়েদের পোশাকগুলোয় কাজের ভেরিয়েশন ব্যাপক হারে লক্ষণীয়। থ্রি-পিস, টু-পিস, টপস, কুর্তা রাখা হয়েছে এমব্র্রয়ডারি, এলিক, হাতের কাজ, পাতির কাজ, ব্লক প্রিন্ট, বাটিক প্রিন্ট, কারচুপি ইত্যাদি কাজের মিশ্রণ। মেয়েদের পছন্দের তালিকায় অবস্থান করছে এসব ড্রেস। সহনীয় মূল্য নির্ধারণ করায় ক্রেতারা খুব সহজেই গ্রহণ করছে। তরুণীদের পছন্দের অন্যতম ফ্যাশন হাউস দেশালে তাঁতের কাপড় দিয়ে তৈরি লং ও শর্ট থ্রি-পিসের মূল্য ১২৫০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত, শাড়ি ৯৭০ থেকে ১০০১ টাকার মধ্যে। ফ্যাশন হাউস কাপড়-ই-বাংলায় খাদি, কটন, স্লাব ফেব্রিক্সে ব্লক, এমব্র্রয়ডারি, বাটিক, প্রিন্ট ও হাতের কাজ করা টপসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫০ থেকে ৯৫০ টাকা।

লং ও শর্ট থ্রি-পিস পাওয়া যাবে ১৬৯০ থেকে ২১৫০ টাকা পর্যন্ত, ওড়না ২০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে। মেয়েদের পোশাকের পাশাপাশি ছেলেদের ড্রেসে এসেছে পরিবর্তন। উষ্ণ আবহাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার জন্য গরমের উপযোগী পোশাক নিয়ে এসেছে ফ্যাশন হাউস, যার মাধ্যমে তরুণদের ফ্যাশনে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। খ্যাতির শীর্ষে থাকা ব্র্যান্ড ইজি নিয়ে এসেছে গরমে স্বস্তিদায়ক ফেব্রিক্সে তৈরি অসংখ্য নতুন ডিজাইনে ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় রঙের হাফ ও ফুলশার্ট, পলো টি-শার্ট, কটন সিনথেটিক ও আবহাওয়া উপযোগী কাপড় দিয়ে তৈরি হাফ ও ফুল শার্ট পাওয়া যাবে ৬৫০ থেকে ১২৫০ টাকায়। পলো টি-শার্ট ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে। আবহাওয়া গরম থাকায় বেশ সংখ্যক তরুণ শার্টের পরিবর্তে ফতুয়া পরিধান করে। ফ্যাশন হাউস সুইসুতার তৈরি খাদি স্লাব, এন্ডি কটন, ফেব্রিকসে তৈরি ফতুয়ার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে।

ব্যতিক্রমধর্মী ব্যাপারী শার্ট মিলবে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। পাঞ্জাবি রয়েছে ৬৫০ থেকে ১৩৫০ টাকার মধ্যে। বেশ কয়েক বছর ধরে টি-শার্ট তরুণদের অন্যতম ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পোশাকটির প্রতি তাদের উৎসাহ লক্ষ করা যায়। অন্যান্য পোশাকের তুলনায় ডিজাইনের সমাগমের দেখা মেলে। নিত্য-উপহার, আরশি, নালন্দা, ঐতিহ্য, মেঘ, সুইসুতা এসব ফ্যাশন হাউসে বিভিন্ন রঙের অসংখ্য ডিজাইনের টি-শার্টের উপস্থিতি রয়েছে। গোল গলা টি-শার্ট মিলবে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। ভি-নেক টি-শার্ট পাওয়া যাবে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। প্রতিটি টি-শার্ট তৈরিতে ব্যবহৃত হয় কটন ফেব্রিক্স। যা গরমে সবাইকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে বেশ সাহায্যে করে। উষ্ণ আবহাওয়ায় আরামদায়ক পোশাক পরিধান না করলে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করাই কষ্টকর। স্বাচ্ছন্দ্যে প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে দেশের সব ফ্যাশন হাউস বদ্ধপরিকর। ক্রেতাদের চাহিদা, রুচি ও পছন্দ অনুসারে পোশাক তৈরি করে ক্রেতাদের প্রতি দায়িত্ববোধ রক্ষা করে আসছে।

উপরে