বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯ | ১২ই আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

আল্লাহর কুদরতের বর্ণনা সমৃদ্ধ তেলাওয়াত শুনবে মুমিন

প্রকাশের সময়: ৭:২৫ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | মে ৩০, ২০১৯

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ডেস্ক রিপোর্ট : ২৫ রোজার প্রস্তুতিতে মুসলিম উম্মাহ আদায় করবেন তারাবিহ নামাজ। শেষ দশকের বেজোড় রাত আজ। জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত লাভে আল্লাহর দরবারে ধরণা দিবে মুমিন মুসলমান।

হাফেজে কুরআনগণ তেলাওয়াত করবেন ২৮তম পাড়ার অনেকগুলো সুরা। যার মধ্যে রয়েছে- সুরা মুজাদালাহ, সুরা হাশর, সুরা মুমতাহিনা, সুরা সফ, সুরা জুমআ, সুরা মুনাফিকুন, সুরা তাগাবুন, সুরা ত্বালাক্ব ও সুরা তাহরিম।

তারাবিহ আদায় করে লাইলাতুল কদর লাভে কিয়ামুর রমজান তথা নামাজ, তাসবিহ-তাহলিলে ব্যস্ত থাককে মুমিন মুসলমান। উদ্দেশ্য একটাই পবিত্র লাইলাতুল কদর লাভ করা। তারাবিহ আদায়কারী নামাজিদের জন্য আজকের তারাবিহতে পঠিত সুরাগুরোর সংক্ষিপ্ত আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো-

সুরা মুঝাদালাহ : আয়াত ২২
মদিনায় অবতীর্ণ সুরা মুঝাদালাহতে আল্লাহ তাআলা তাঁর হেদায়েতের বর্ণনা দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হেদায়েতের মাধ্যমে মানব জীবনে জটিল ও কঠিন সমস্যার সমাধান করেছেন। তাছাড়া শরিয়তের বিধান প্রবর্তনের পাশাপাশি মানুষের দুঃখ কষ্ট দূর করার উপায়ও ওঠে এসেছে এ সুরায়।

এ সুরায় যিহার সম্পর্কিত শরিয়তের বিধান আলোচিত হয়েছে। তানজি বা গোপন কান পরামর্শ সম্পর্কিত বিষয়ের বর্ণনা এসেছে। বৈঠক ও মজলিশের আদব-কায়দার বিবরণ ওঠে এসেছে এ সুরায়।

সর্বোপরি এ সুরার শেষে আল্লাহ ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে শত্রুতা পোষণকারীদের উদ্দেশ্যে সতর্কবাণী উচ্চারণের পাশাপাশি অপমানজনক শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সুরা হাশর : আয়াত ২৪
এ সুরাটি মদিনায় অবতীর্ণ। ইয়াহুদি ও মুনাফিকদের শাস্তির বিবরণ স্থান পেয়েছে। কেননা তারা সব সময় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত থাকতো।

এ সুরার প্রথমাংশে আল্লাহর গুণাবলী এবং কাফির বনু নযির গোত্রের মদিনা হতে নির্বাসনের কথা এসেছে। যুদ্ধ-বিগ্রহ সম্পর্কিত আইনের ধারা ঘোষণা করা হয়েছে এ সুরায়। যুদ্ধে প্রাপ্ত অর্থ-সম্পদ বণ্টনের বর্ণনাও দেয়া হয়েছে।

মুনাফিকদের আচার-আচরণ ও কু-প্রবৃত্তির আলোচনার পাশাপাশি আল্লাহর একত্ববাদের আগ্রহ-উপদেশ, ঈমানের উপকরণ, ঈমানদার ও বেঈমানের মাঝে পার্থক্য ও ঈমানের গুরুত্ব আলোচিত হয়েছে।

সুরাটি মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম গুণাবলীগুলোর মাধ্যমে শেষ করা হয়েছে। আর এ সুরার শেষ তিন আয়াত তেলাওয়াতের অনেক ফজিলত রয়েছে। যা তেলাওয়াত করলে ৭০ হাজার ফেরেশতা তার পাঠকারীর জন্য মাগফেরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।

সুরা মুমতাহিনা : আয়াত ১৩
মদিনায় অবতীর্ণ সুরা মুমতাহিনা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি সুরা। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা মুমিনদেরকে বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যেন কাফিরদের সঙ্গে কোনো প্রকার বন্ধুত্বের সম্পর্ক না রাখে।

সুরা সফ : আয়াত ১৪
সুরাটি মদিনায় অবতীর্ণ। এ সুরায় আল্লাহর পথে প্রাণ উৎসর্গ করার জন্য মুসলমানদের উৎসাহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনকে দুনিয়াতে বিজয়ী করবেন; এতে যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন? এ জন্য মুমিন বান্দাকে ঈমানের ক্ষেত্রে ঐকান্তিক নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা অবলম্বন করা নির্দেশ এসেছে এ সুরায়।

এ সুরায় হজরত ইসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে ঘোষণা করা হয়েছে য, তিনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। তিনি বনি ইসরাইল জাতিকে তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সুরা জুমআ : আয়াত ১১
মদিনায় অবতীর্ণ সুরা জুমআয় আল্লাহ তাআলা নিজের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার পর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণের ঘোষণা দিয়েছেন।

এ সুরায় আল্লাহ তাআলা মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, সকল জীব-জন্তু, কীট-পতঙ্গ, তরুলতা তথা আসমান-জমিনের সকল সৃষ্টি জগতের মতো তোমরা মানবজাতিও তাঁর গুণাগুণ বর্ণনা কর।

এ সুরায় আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে ইবাদাত-বন্দেগির পাশাপাশি নিজেদের জীবিকার তাগিদে জমিনে বিচরণের নির্দেশ করেছেন।

সর্বশেষ জুমআর নামাজ সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ আরোপ করেছেন। যেখানে জুমআনর নামাজের জন্য আহ্বান করার পর করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

সুরা মুনাফিকুন : আয়াত ১১
মদিনায় অবতীর্ণ সুরাটিতে মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় হিজরতের পর মুনাফিকরা মারাত্মক বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা বিশ্বনবির দরবারে এসে ইসলাম গ্রহণের কথা বলে আবার গোপনের অবিশ্বাসীদের সঙ্গে আতাত করে। যার ফলে তাদের সম্পর্কে এ সুরা অবতীর্ণ হয়।

এ সুরায় মুসলমানদেরকে দুনিয়ার লোভ-লালসা, সৌন্দর্য, ফ্যাশনে পড়ে আল্লাহর ইবাদাত ও আনুগত্য হতে দূরে সরে না যেতে বলা হয়েছে। যেমনিভাবে মুনাফিকরা সরে গেছে। আর আল্লাহ ইবাদাত থেকে বিরত থাকা মারাত্মক ক্ষতি।

সর্বোপরি যারা মুখে ঈমানের দাবি করলেও তাদের অন্তরে ঈমানের ছিটেফোঁটাও ছিল না। তাদের বিষয়ে এ সুরা নাজিল হয়।

সুরা তাগাবুন : আয়াত ১৮
মদিনায় অবতীর্ণ সুরা তাগাবুনে আল্লাহর কুদরত, মহত্ত্ব এবং বড়ত্বের আলোচনার পর মানুষের মধ্যে যারা আল্লাহকে স্বীকার করে আর যারা স্বীকার করে না তাদের প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলার সিফাত সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। এ সুরায় ও মুনফিকদের সম্পর্কে সতর্কবানী উচ্চারণ করা হয়েছে।

সুরা ত্বালাক্ব : আয়াত ১২
মদিনায় অবতীর্ণ এ সুরায় ত্বালাক সম্পর্কিত বিধি-বিধান আলোচিত হয়েছে। তালাক পরবর্তী ইদ্দত সম্পর্কিত বিধি-বিধান, শিশু সন্তান থাকলে তাদের সর্ম্পকিত বিধানও আলোচিত হয়েছে এ সুরায়।

সুরা তাহরিম : আয়াত ১২
মদিনায় অবতীর্ণ এ সুরাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুরা। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা হালাল-হারাম সম্পর্কিত বিষয়াদি আলোচনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা এ সুরায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্রা স্ত্রীগণের কতিপয় ঘটনার বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

সর্বোপরি এ সুরায় আল্লাহ তাআলা নারী জাতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। দাম্পত্য জীবনের সুখ-শান্তি কিভাবে অর্জিত হবে তার পথনির্দেশ করেছেন এ সুরায়। পারস্পারিক ধৈর্য, সহনশীলতা, ন্যায়বিচার ও পরস্পরের হক আদায় প্রসঙ্গে নীতিমালা প্রণীত হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাগুলো বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

উপরে