বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

নারীদের ঈদ ও জামাআতে অংশগ্রহণের বিধান কী?

প্রকাশের সময়: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ - বুধবার | জুন ৫, ২০১৯

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রত্যেক রোজাদার নারী-পুরুষের জন্য ঈদ। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন মুসলিম পুরুষ দলে দলে ঈদগাহে একত্রিত হয়। ঈদের নামাজ আদায় করে। পরস্পর কুশল বিনিময় করে। একে অপরের জন্য মহব্বত তথা ভালোবাসা বৃদ্ধির দোয়া করে। কিন্তু ঈদ উৎসব ও ঈদের নামাজ আদায়ে নারীদের ক্ষেত্রে বিধান কী? নারীরা কি ঈদের নামাজ আদায়ে মাঠে যেতে পারবে?

ইসলামের সুস্পষ্ট বিধান মতে, ‘হ্যাঁ’ নারীদের জন্যও রয়েছে ঈদের আনন্দ উৎসব। তারা ঈদগাহে নামাজে ও দোয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে নারীদের জন্য থাকতে হবে আলাদা সুব্যবস্থা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের ঈদের জামাআতে অংশগ্রহণের দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন-

হজরত উম্মে আতিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে এ মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, নারীরা যেন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় নামাজের জন্য (ঈদগাহের উদ্দেশ্যে) বের হয় এবং নামাজে অংশগ্রহণ করেন। প্রাপ্ত বয়স্কা, ঋতুবর্তী ও গৃহবাসিনীসহ সবাই। তবে ঋতুবতী নারীরা নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকবে তবে কল্যাণ ও মুসলিমদের দোয়ায় অংশ নেবে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল ! আমাদের মাঝে কারো কারো ওড়না নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে তার অন্য বোন থেকে ওড়না নিয়ে পরবে (এবং ঈদগাহে যাবে)।’ (মুসলিম)

হাদিসে নারীদের ঈদগাহে যাওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তাদের জন্য ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়, বরং তা সুন্নাত।
কেউ কেউ বলেছেন, নারীদের ঈদের নামাজ পড়া নফল ইবাদত। তবে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ সম্পর্কে মাজহাবগুলোতে রয়েছে মত পার্থক্য। আর তাহলো-

>> শাফেঈ মাজহাব
ইমাম শাফেঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহির মতে ঈদগাহে নামাজ আদায় নারীদের অংশগ্রহণ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

>> হানাফি মাজহাব
যদি কোনো নারী ঈদের নামাজ পড়ে তবে তা নফল হবে। আর নফল নামাজ জামাআতে পড়া মাকরূহ। আর যেখানে ফেতনার আশংকা রয়েছে সেখানে নারীদের ঈদের নামাজ আদায় করাও মাকরূহ।

এ কথা সত্য যে,
আরবদেশগুলো ছাড়া বিশ্বের কোনো দেশেই নারীদের জন্য ঈদসহ যে কোনো নামাজের পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যবস্থা নেই। এ ক্ষেত্রে পর্দাহীনতা ও ফেতনার আশংকাই বেশি। এ কারণে নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকলে নারীদের ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ না করাই উত্তম।

সর্বোপরি কথা হলো-
নারীদের জন্য যদি ঈদের জামাআতে অংশগ্রহণের আলাদা নিরাপদ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়; সেক্ষেত্রে নারীরাও ঈদের জামাআতে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

মুসলিম উম্মাহর সেসব নারী ঈদের জামাআতে অংশগ্রহণ করতে চায়। তাদের জন্য পর্দার সঙ্গে ফেতনামুক্ত হয়ে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করার সুব্যবস্থা করার তাওফিক দান করুন। দুনিয়া সব মুমিনা নারীদেরকে যাবতীয় ফেতনা থেকে মুক্ত থাকে ঈদের নামাজ ও দোয়ায় অংশগ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

উপরে