শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯ | ৮ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

সাকিবের সেঞ্চুরির পরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের বড় হার

প্রকাশের সময়: ২:০২ পূর্বাহ্ণ - রবিবার | জুন ৯, ২০১৯

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের তৃতীয় ম্যাচে রীতিমত নাভিশ্বাস উঠেগেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। সাকিবের সেঞ্চুরির পরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের বড় হার হয়েছে। যদিও ম্যাচটিতে ব্রিটিশ দলের জেসন রয়ের দুর্দান্ত ইনিংসের জবাব দিয়েছেন টাইগারদের সাকিব আল হাসান এবারের বিশ্বকাপে করা তার প্রথম সেঞ্চুরিটি দিয়ে। কিন্তু ইংল্যান্ডের রান উৎসব শেষ পর্যন্ত মাটি করতে পারেনাই টিম বাংলাদেশ। ৩৮৭ রানের লক্ষ্যে নেমে ৪৮.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ তারা হারলো ১০৬ রানে।

ব্যাটিংয়ের শুরুতে দুই ওপেনার দ্রুত ফিরলে সাকিব আর মুশফিকের দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়ে এক পর্যায়ে মনেই হয়েছিল যে জয়ের পেছনে ছুটছে টাইগার বাহিনী। এই জুটিতে বাংলাদেশ দল পেয়েছে মূল্যবান ১০৬ রান। কিন্তু হঠাৎ  সাকিবের সেঞ্চুরির পূর্বমুহুর্তেই ভেঙে যায় আশা জাগানিয়া এই জুটি। লিডিং এজ হয়ে প্লাঙ্কেটের বলে ফিরেছেন মুশফিক। পয়েন্টে রয়কে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন ৪৪ রানে। এই ‍জুটি ভাঙার পর পরই ধীরে ধীরে মিইয়ে যেতে থাকে সব আশা।

মিঠুন মাত্র শূন্য ফিরলে বিপদটা যেন আরো বেড়ে যায়। আদিলের লেগ স্পিনে খেই হারিয়ে কট বিহাইন্ড হন। তারপরেও ২০১৫ সালে ইংল্যান্ড বধের নায়ক মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে আবার জুটি গড়ায় চেষ্টায় ছিলেন সাকিব। ধীরে ধীরে হাত খুলতে থাকলেও ১২১ রানে তাকে বোল্ড করে দেন বেন স্টোকস। পরে মোসাদ্দেক নেমে কিছু শটস খেললেও ২৭ রানে বিদায় নিয়েছেন স্টোকসের বলে। মাহমুদউল্লাহও ২৮ রানের বেশি কিছু করতে পারেননি। উডের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। সাইফকে বোল্ড করে অষ্টম উইকেটটিও তুলে নেন স্টোকস। মিরাজ ১২ রান করলেও প্রতিরোধ করতে পারেনি। মোস্তাফিজকে আউট করে ইনিংসে শেষ পেরেকটি বসান জোফরা আর্চার। ক্যাপ্টেন মাশরাফি অপরাজিত থাকেন ৪ রানে।

মূলত ম্যাচের শুরুতেই ইংল্যান্ডের বিশাল রান পাহাড় টপকাতে চ্যালেঞ্জটা কঠিন করে দিয়ে গেছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। মাত্র ২ রানে ওপেনার সৌম্য সরকার বোল্ড হয়ে ফেরার পর তামিম ফিরেছেন ১৯ রান করে। বিপদে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে জয়ের পথে রাখতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে থাকেন অভিজ্ঞ সাকিব আর মুশফিক। তবে ইংলিশ পেসারদের গতির মুখে হিমশিম খেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দেখে শুনে খেলতে গিয়ে বরং উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন সৌম্য সরকার। জোফরা আর্চারের ক্ষিপ্র গতির কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হয়েই চতুর্থ ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন। জো রুট ঠিকমতো না হওয়াতে হাতে জমাতে পারেননি। অবশ্য পরের বলে আর পারেননি আর্চারকে রুখতে। বল সরাসরি স্টাম্প ভেঙে পৌঁছে যায় বাউন্ডারি লাইনে!

সাকিব নামার পর সেই পেস আক্রমণেই চাপ বজায় রাখে ইংলিশরা। সাকিব-তামিম জুটি গড়ার চেষ্টায় থাকলে আর্চার, ওকসের পর নতুন করে আক্রমণে আনা হয় মার্ক উডকে। উঠিয়ে মারতে গেলে তামিম মরগানের হাতে ধরা পড়েন এক্সট্রা কাভারে। তামিম ফিরেছেন ১৯ রানে।

এর আগে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাশরাফি-সাকিবদের পাহাড়সম টার্গেট দিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ইংলিশদের সংগ্রহ ৩৮৬ রান। জিততে হলে এই পাহাড়সম টার্গেট অতিক্রম করতে হবে টাইগারদের। এটাই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০১১ সালে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে ইংলিশরা তুলেছিল ৩৩৮ রান।

পিচ দেখে টসে জিতে বোলিং নিয়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। কিন্তু ইংল্যান্ড ওপেনারদের দৃঢ়তায় শুরু থেকেই মার খাচ্ছিলেন মাশরাফি-সাকিবরা। ১৫তম ওভারেই দলীয় স্কোরে ১০০ পেরিয়েছে ইংল্যান্ড।

প্রথম পাঁচ ওভারে রানের গতি কম থাকলেও পাওয়ারপ্লের ১০ ওভারে বাজিমাত করেছে ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার। সাইফুদ্দিন, সাকিব ও মাশরাফিদের খেলেছেন হাত খুলে। দলীয় ১২৮ রানে মাশরাফির বলে মিরাজের তালুবন্দী হয়ে ফেরেন বেয়ারস্টো। সাজঘরে ফেরার আগে ৫০ বলে ৬ চারে বেয়ারস্টোর রান ৫১।

পরে ৭৭ রানের জুটি গড়েন জো রুট এবং জেসন রয়। ২০৫ রানের মাথায় বিদায় নেন রুট। ইনিংসের ৩২তম ওভারে সাইফউদ্দিন বোল্ড করেন জো রুটকে। বিদায়ের আগে ২৯ বলে রুট করেন ২১ রান। পরের বলেই জস বাটলারের বিপক্ষে এলবির আবেদন, আম্পায়ার সেই আবেদনে সাড়া দেননি। বাংলাদেশ রিভিউ নিয়েও তাকে ফেরাতে পারেনি।

২৩৫ রানের মাথায় মিরাজ ফেরান সেঞ্চুরিয়ান জেসন রয়কে। ইংলিশ এই ওপেনার মাশরাফির হাতে ধরা পড়ার আগ ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নেন। সাজঘরের পথ ধরার আগে টাইগার বোলারদের ভুগিয়ে ১২১ বলে ১৪টি চার আর ৫টি ছক্কায় করেন ১৫৩ রান। আউট হওয়ার ঠিক আগের তিন বলে পর পর মিরাজকে তিনটি ছক্কা হাঁকান।

৪৬তম ওভারে ও ইংলিশদের দলীয় ৩৩০ রানের মাথায় জস বাটলারকে ফেরান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। বাউন্ডারি লাইনে দারুণ এক ক্যাচ ধরে বাটলারকে প্যাভিলিয়নমূখী করান সৌম্য সরকার। ৪৪ বলে ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬৪ করেন ভয়ঙ্কর বাটলার।

নিজের শেষ ওভারে মরগানকে ফিরিয়ে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টায় লং অনে ক্যাচ দেন মর্গ্যান। কিছুটা দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে চমৎকার ক্যাচ মুঠোয় নেন সৌম্য সরকার। ৩৩ বলে এক চার ও দুই ছক্কায় ৩৫ রান করে ফিরেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

৪৮তম ওভারে মোস্তাফিজের বলে মারতে গিয়ে মাশরাফির তালুবন্দী হন ইংলিশ অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। ফেরার আগে ৭ বলে ৬ রান করেন তিনি। শেষের ৩ ওভারে আরো ৪৫ রান যোগ করেন প্লাংকেট-ওকস জুটি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ইংলিশদের সংগ্রহ ৩৮৬ রান। যা বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

দুর্দান্তভাবে বিশ্বকাপযাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিধ্বস্ত করে টাইগাররা। তবে পরের ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করে হেরে যায়। বাংলাদেশের মতো দুর্দান্ত জয় নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করে তারাও। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১০৪ রানের ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করে স্বাগতিকরা। কিন্তু পরের ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে বিধ্বস্ত হয় তারা। শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে ১৪ রানে হারে ইংল্যান্ড।

উপরে