শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯ | ৯ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

গাইবান্ধার ঐতিহ্যবাহী জামালপুর শাহী মসজিদ

প্রকাশের সময়: ৮:৫০ অপরাহ্ণ - বুধবার | জুন ১২, ২০১৯

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

মোঃ ফরহাদ আকন্দ, স্টাফ রিপোর্টার ঃ গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি মসজিদ। মসজিদটির নির্মাণের তারিখ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই কারও কাছে। তবে মসজিদটি দেখেই বোঝা যায় যে এটি বেশ পুরনো হবে। অনেকেরই ধারণা মসজিদটি কয়েক শত বছর আগের। মসজিদটি আজও অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। আশেপাশের এলাকায় মসজিদটির বেশ সুনামও রয়েছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ইংরেজ শাসন আমলে মসজিদটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। মসজিদ এলাকায় লোকবসতি না থাকায় জঙ্গলে আচ্ছন্ন হয়ে মসজিদটি ঢাকা পড়ে। বিগত ৬০ দশকের প্রথম দিকে গাইবান্ধা মহকুমা প্রশাসক হক্কানি কুতুবউদ্দিন নামে এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি এসডিও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর স্থানীয় লোকদের কাছে মসজিদটির ইতিকথা শোনেন। লোকজনের কথা শুনে তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় মসজিদটি অনুসন্ধান করতে থাকেন। কিন্তু মসজিদটির জায়গায় বিশাল বট গাজ গজিয়ে ওঠায় মসজিদটি বটবৃক্ষের আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। হঠাৎ একদিন প্রচন্ড এক ঝড়ে বট গাছটি ভেঙ্গে পড়লে স্থানীয় লোকজন মসজিদটি দেখতে পায়। সেই থেকে মানুষ মসজিদটিকে গায়েবি মসজিদ হিসেবে অবহিত করতে থাকে।

মসজিদের ইতিহাস প্রসঙ্গে লোকমুখে শোনা যায়, তৎকালীন সময়ে সৈয়দ ভোম আলী ভারতের শিলিকুড়ি থেকে সুলতান মাহমুদের আমলে হজরত খাঁজা মঈন উদ্দিন চিশতির নির্দেশে ইসলাম প্রচারের জন্য এই এলাকায় এসে হজরত শাহ জামালের সঙ্গে মিলিত হন। সম্ভবত তারাই এই মসজিদ নির্মাণ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ হিসেবে মসজিদটি প্রায় ৭০০ বছর আগে নির্মিত। এর পর হজরত শাহ জামালের নামানুসারে ইউনিয়ন ও গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে জামালপুর। এই মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে পীরে কামেল হজরত শাহ জামাল (রহ) এর মাজার।

জামালপুর শাহী মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল হালিম ও মুয়াজ্জিন হাফেজ মো. মাহাবুর রহমান বলেন, মসজিদটি বাহির থেকে অনেক বড় মনে হলেও মসজিদের ভেতরে শুধুমাত্র দুই কাতারে ৬০ জন মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় করা যায়। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এলাকার লোকজন মসজিদের মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে সামনের দিকে একটি নতুন মসজিদ ভবন নির্মাণ করা হয়েছ। তবে মসজিদের ২য় তলার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন প্রায় ৭’শ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজহার আলী সরকার বলেন, প্রতি শুক্রবার দুর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষরা মসজিদে মান্নতের নগদ টাকা, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, চাল ও মিষ্টি নিয়ে আসেন এবং পোলাও করে শিন্নি বিতরণ করেন এখানে। অনেকেইরই ধারণা যে কেউ যে কোনো নিয়তে মান্নত করলে আল্লাহর অশেষ রহমতে তা পুরণ হয়।

মসজিদ কমিটির সভাপতি খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আগের চেয়ে মসজিদটির অনেক প্রসার করা হয়েছে। আরও অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এ পর্যন্ত ১ম ও ২য় তলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৩য় তলা নির্মাণাধীন। এখনও মসজিদের টাইলস, জানালার গøাস, অজু খানা, টয়লেট, প্রসাব খানা ও ৩য় তলার কাজসহ অনেক কাজই বাকী রয়েছে কিন্ত অর্থাভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপরে