রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ধরণির বুকে প্রেম হয়ে ঝরে বৃষ্টি

প্রকাশের সময়: ৪:১৪ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুন ২৩, ২০১৯

 

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

তাপদগ্ধ আকাশ থেকে হঠাৎ মেঘ আসে নেমে মেঘের কণা কোথা থেকে? বৃষ্টির ধারা কে পাঠায়?

পবিত্র কোরআনে এ প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ দিয়েছেন-

তিনিই সে সত্তা; যিনি তাঁর রহমতি বৃষ্টির আগে বায়ু প্রবাহিত করেন সুসংবাদ হিসেবে অবশেষে যখন সেটা ভারি মেঘমালা বয়ে আনে তখন আমরা তা মৃত জনপদের দিকে চালিয়ে দিই, অতঃপর আমরা তার মাধ্যমে বৃষ্টিবর্ষণ করি, তারপর তা দিয়ে সব রকমের ফল উৎপাদন করি। এভাবেই আমরা মৃতদেরকে পুনরায় বের করব, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। (সূরা আরাফ আয়াত ৫৭)। এ আয়াতে বলা হয়েছে, কোনো বিশেষ দিক কিংবা বিশেষ ভূখণ্ডের দিকে মেঘমালা অগ্রসর হওয়া সরাসরি আল্লাহর নির্দেশের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তিনি যখন যেখানে ইচ্ছা এবং যে পরিমাণ ইচ্ছা বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ দান করেন। মেঘমালা আল্লাহর সে নির্দেশ পালন করে মাত্র। (তাফসিরে কোরআনুল কারিম বাংলা)।

আমাদের দেশের সত্তরভাগ পানির চাহিদা পূরণ হয় বৃষ্টির পানি থেকে। আকাশ থেকে এই ঝরনা ধারা না বইলে পাখি গান গাইত না। প্রাণ ও প্রকৃতি যেত মরে। বৃষ্টির মাধ্যমে প্রকৃতি সতেজ ও নির্মল হয়ে ওঠে। মৃত জলাধার প্রাণ ফিরে পায়। কৃষি উৎপাদন ভালো হয়।

পবিত্র কোরআনে বৃষ্টি, বৃষ্টির দান, বৃষ্টির শিক্ষা ও বৃষ্টির স্রষ্টার কথা বারবার তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ বলেন- আর আল্লাহ আকাশ থেকে বারি বর্ষণ করেন এবং তা দিয়ে তিনি ভূমিকে মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা কথা শোনে। (সূরা নাহল আয়াত ৬৫)।

গেল শতাব্দীতে তেল নিয়ে যুদ্ধ হয়েছে দেশে দেশে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বড় বড় সংগঠনকে বেশ সরব দেখা যাচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীর বরফ ভাণ্ডার গলতে শুরু করেছে। এতে হুমকিতে রয়েছে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রকৃতি।

ভূতত্ত্ববিদ ও গবেষকদের মতে আগামী শতাব্দীতে যুদ্ধ ও হানাহানি হতে পারে পানি নিয়ে। বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশে এক বিরল ঘটনা ঘটেছিল। গোটা দেশে একযোগে বিদ্যুৎ চলে যায়। দেশজুড়ে নেমে আসে এক অন্ধকার ভীতি। জেনারেটরের মতো বিকল্প ব্যবস্থাগুলো ও প্রায় বিকল হয়েছিল।

স্বচক্ষে দেখেছি বিদ্যুৎ নেই বলে পানির অভাব।

কোরআনে আল্লাহ পানির এ নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে তার কৃতজ্ঞতা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নয়তো নেয়ামত কেড়ে নেয়ারও হুমকি দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন- আর আমরা আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি পরিমিতভাবে অতঃপর আমরা তা মাটিতে সংরক্ষিত করি; আর অবশ্যই আমরা তা নিয়ে যেতেও সম্পূর্ণ সক্ষম (সূরা মুমিনুন আয়াত-১৮)।

রাসূল (সা.) বৃষ্টিতে ভিজতেন। আর সাহাবিদেরও ভিজতে বলতেন। নবীজি যা করেছেন তাকে ভালোবেসে তা করা সুন্নত। আল্লাহ বলেন- তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর (চরিত্রের) মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। (আহযাব-২১)।

বৃষ্টির ধারায় দোয়া কবুলের এক সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

সাহল বিন সাদ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন- ‘দুই সময়ের দোয়া ফেরত দেয়া হয় না কিংবা (তিনি বলেছেন) খুব কমই ফেরত দেয়া হয়- আজানের সময় দোয়া এবং যুদ্ধক্ষেত্রের দোয়া যখন একে অপরের মুখোমুখি হয়। অন্য বর্ণনা মতে, বৃষ্টির সময়ের দোয়া।’ (আবু দাউদ : ২৫৪০)।

আমাদের উচিত বৃষ্টির এ অফুরান নেয়ামত স্মরণ করা ও আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করা।

উপরে