রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

টাইগারদের সেমিফাইনালের আশা টিকে থাকলো আফগানদের পরাস্ত করে

প্রকাশের সময়: ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুন ২৫, ২০১৯

করেন্টিনউজ ডটকম ডটবিডি

ম্যাচের শুরুতে রীতিমত ধাক্কাই খেয়েছিল বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের ৪ ওভার পেরোতেই আম্পায়ারের দেয়া বিতর্কিত আউটের শিকার লিটন দাস। দলের রান তখন মাত্র ২৩। যদিও ক্যাচটা বিতর্কিত ছিল।বলটা মনে হচ্ছিল, মাটিতে লেগেছে। টিভি আম্পায়ার আলিম দার কয়েকবার রিপ্লে টেনে টেনে দেখলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আউটের সিদ্ধান্তই দিলেন। মুজিব উর রহমানের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন। কিন্তু ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে আফগানিস্তানকে ২৬৩ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে সাউদাম্পটনে বাংলাদেশের এই ম্যাচের ব্যাটিং ইনিংসটা ছিল বেশ ঘটনাবহুল।যদিও শেষমেশ বোলিং প্রতিভায় আফগানদের বধ করে ক্ষতিটা পুষিয়ে নিয়েছে টাইগাররা। এই ম্যাচে জয়ের ফলে সাত ম্যাচ থেকে সাত পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থান পুনরুদ্ধার করলো বাংলাদেশ। এক কথায় বলতে হয় টাইগারদের সেমিফাইনালের আশা টিকে থাকলো আফগানদের পরাস্ত করে।

সবশেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশের মনে যেন খানিক ভয়ই ঢুকিয়ে দিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু আশংকা উড়িয়ে দিয়ে আফগানদের সর্বশান্ত করে দিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।টাইগার সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অসাধারণ নৈপুণ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৬২ রানের ব্যবধানে। ব্যাটে-বলে ম্যাচের অবিসংবাদিত নায়ক সাকিব আল হাসানই। যিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ৫০ রান ও ৫ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

পয়েন্ট টেবিলের শেষ অবস্থানুযায়ী এক ম্যাচ কম খেলা ইংল্যান্ড আট পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থস্থানে। ছয় ম্যাচ থেকে ছয় পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয় নম্বরে শ্রীলঙ্কা। টেবিলের শীর্ষে থাকা নিউজিল্যান্ড ছয় ম্যাচ থেকে ১১ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে।

সাউদাম্পটনের স্লো পিচে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় আফগান অধিনায়ক। এরপর সাকিব মুশফিকের ব্যাটে আফগানদের ২৬৩ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। জবাবে সাকিবের কার্যকরী বোলিংয়ে আফগানদের ৬২ রানে হারিয়েছে টাইগাররা। আগামী ২ জুলাই এজবাস্টনে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে সাকিবরা। স্পিনার দিয়েই শুরুটা করেছিল আফগানিস্তান। অন্যদিকে বাংলাদেশ ওপেনিংয়ে রেখেছিল চমক। সৌম্যকে নিচে নামিয়ে তামিমের সঙ্গী হিসেবে নেমেছে লিটন।

যদিও এই ট্যাকটিকাল সিদ্ধান্তটি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। শুরুতে সাবধানী খেললেও ইনিংসের পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে বিদায় নেন লিটন দাস। মুজীব উর রহমানের বলে শর্ট কাভারে হাশমতউল্লাহ শহিদির তালুতে বন্দি হন লিটন। দলীয় ২৩ রানে বিদায়ের আগে ১৭ বলে দুই বাউন্ডারিতে ১৬ রান করেন লিটন। লিটনের বিদায়ের পর সাকিব-তামিম জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছিল টাইগাররা। দুজনের জুটিতে উঠেছে ৫৯ রান। দলীয় ৮২ রানে আফগান স্পিনার মোহাম্মদ নবীর বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন এই টাইগার ওপেনার। বিদায়ের আগে ৫৩ বল খেলে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৬ রান।

দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা বিপদে পড়েছিল তবে সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহীমের ব্যাটে সে বিপদ কাটিয়ে উঠছিল টাইগাররা। কিন্তু মুজিবের বলে বিপদ আরো বেড়ে গেল বাংলাদেশের। দলীয় ১৪৩ রানে মুজিবের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে এলবির শিকার হন সাকিব। এতে ভাঙলো সাকিব-মুশফিকের ৬১ রানের জুটি। আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমানের বল সামলাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটসম্যান তার শিকার হয়ে ফিরেছেন। সর্বশেষ তার শিকার সৌম্য সরকার। ওপেনিং থেকে পাঁচে নামিয়ে আনা এই বাঁহাতি মুজিবের বলে লেগ বিফোরের শিকার হয়ে ফিরেছেন। যদিও রিভিও নিয়েছিলেন সৌম্য, আম্পায়ারস কলের কারণে আউটের ঘোষণাই আসে।দলীয় ২০৭ রানে গুলবাদিনের বলে মারতে গিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্ত ব্যক্তিগত ২৭ রানে নবীকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। মুশফিক টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পিছনেই ছুটছিলেন। ইনিংসের ৪৯তম ওভারে বিদায় নেন ব্যক্তিগত ৮৩ রানে। তার আগে মোসাদ্দেককে নিয়ে স্কোরবোর্ডে ৪৪ রান যোগ করেন মুশফিক। ৮৭ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কায় মুশফিক তার ইনিংসটি সাজান।

৭ নম্বরে নেমে হাত খুলে মারতে শুরু করেছেন মোসাদ্দেক। মুশফিক ফিরলে সাইফউদিনকে নিয়েই খেলেছেন শেষ পর্যন্ত। ২৪ বলে ৩৫ রান তুলে ইনিংসের শেষ বলে গুলবাদিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এই ব্যাটসম্যান। এতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬২ রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৩ রান মুশফিকের, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাকিবের ৫১ রান।মুজিব উর রহমান ১০ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে পান তিনটি উইকেট। দৌলত জাদরান ৯ ওভারে ৬৪ রান দিয়ে পান একটি উইকেট। মোহাম্মদ নবী ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে পান একটি উইকেট। গুলবাদিন নাইব ১০ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন। রশিদ খান ৯ ওভারে ৫২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। ১ ওভারে ৭ রান দিয়ে রহমত শাহ উইকেটশূন্য থাকেন।

২৬৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই সাবধানী আফগানরা। ইনিংসের ১১তম ওভারে এসে বাংলাদেশ প্রথম উইকেটের দেখা পায়। সাকিব নিজের প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন ওপেনার রহমত শাহকে। দলীয় ৪৯ রানের মাথায় বিদায় নেওয়ার আগে রহমত শাহ ৩৫ বলে তিন চারে করেন ২৪ রান। ইনিংসের ২১তম ওভারে মোসাদ্দেক ফিরিয়ে দেন তিন নম্বরে নামা হাসমতউল্লাহ শহিদিকে। দলীয় ৭৯ রানের মাথায় স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ৩১ বলে ১১ রান করা হাসমতউল্লাহ।ইনিংসের ২৯তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন সাকিব। ৪৭ রান করা গুলবাদিন নাইবকে ফিরিয়ে দেওয়ার এক বল পরে বোল্ড করেন মোহাম্মদ নবীকে। দলীয় ১০৪ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় আফগানরা।

দলীয় ১১৭ রানের সময়ে পঞ্চম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ম্যাচের ৩২.২ ওভারে সাকিবের বলে অতিরিক্ত ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নামা সাব্বিরের তালুবন্দি হন আসগর আফগান। তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ ছিল ২০ রান। ৩৬তম ওভারে লিটনের দুর্দান্ত এক সরাসরি থ্রোতে সাজঘরে ফেরেন ১২ বলে ১১ রান করা ইকরাম আলী।

৪৩তম ওভারে সাকিব নিজের পঞ্চম উইকেট তুলে নেন, স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে ফিরিয়ে দেন ২৩ বলে ২৩ রান করা নাজিবুল্লাহ জাদরান। ৪৪তম ওভারে মোস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন ২ রান করা রশিদ খানকে। ১৯১ রানে অষ্টম উইকেট হারায় আফগানিস্তান। শেষ দিকে দুই উইকেট তুলে নিয়ে আফগান ব্যাটিং লাইনের শেষ পালকও উপড়ে ফেলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

উপরে