রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

নিয়ন্ত্রণহীন মোটরবাইক চালকরা বেপরোয়া

প্রকাশের সময়: ৬:০৯ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুন ২৫, ২০১৯

 

 

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

সম্প্রতি রাজধানীবাসীর কাছে নতুন এক আতঙ্কের নাম বেপরোয়া মোটরবাইক। গত কয়েক বছরে বিশেষ করে দেশে অ্যাপসভিত্তিক রাইড সার্ভিস চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন মোটরসাইকেল রাস্তায় নামছে।

এসব মোটরসাইকেল সুযোগ পেলেই আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সড়ক ছেড়ে ফুটপাতে উঠে আসছে। এ ছাড়া যানজটের মধ্যে দেড় ফুট জায়গা পেলেই বেপরোয়াভাবে ছুটে চলছে এসব মোটরসাইকেল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি ও সহজ শর্তের বিক্রয় নীতিমালা এবং অ্যাপসভিত্তিক রাইড সেবার কারণে মোটরসাইকেলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।

আইন মানছে না কেউ হিমশিম খাচ্ছে ট্রাফিক

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়য়ের (বুয়েট) অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (এআরআই) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল চালকরা প্রতিনিয়ত ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করছে। যার ফলে সড়কে ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ঢাকা শহরে সড়কের উল্টো দিক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা সর্বাধিক। তাই সবার আগে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। ফুটপাতে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে, নির্ধারিত গতিসীমা ছাড়িয়ে মোটরসাইকেল না চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে রাস্তার মোড় পার হওয়া, জোরে হর্ন না বাজানো, সর্বোপরি ট্রাফিক আইন মেনে চলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনমত গঠন করতে হবে। সেই সঙ্গে জেব্রা ক্রসিং ও ফুট ওভারব্রিজ ছাড়া রাস্তা পারাপারে পথচারীদের নিরুৎসাহিত করতে হবে।

ফুটপাতে মোটরসাইকেল

রাজধানীতে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি। বেপরোয়া মোটরসাইকেলগুলো অধিকাংশ সময় ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা করছে না। সিগন্যাল উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। এমনকি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অবাধে ফুটপাতেও চলাচল করছে। যানজটের মধ্যে সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা না করে চালকরা দলবেঁধে ফুটপাত দিয়ে অহরহ চলাচল করছেন। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বাংলামোটর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অহরহ ফুটপাত দিয়ে মোটরসাইকেল উঠিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটছে। ফলে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন পথচারী। পথচারীদের কেউ কেউ বিরক্তি বা প্রতিবাদ করলে তাকে হেনস্তাও করতে দেখা যায়।

গুলশানে রাকিব প্রধান নামের এক পথচারী বলেন, মোটরবাইক চালকদের সবসময় কিসের যেন তাড়া থাকে। তারা সিগন্যালের জন্য একটু সময় অপেক্ষা করতে রাজি নয়। বরং সময় বাঁচাতে তীব্র হর্ন দিয়ে বেপরোয়া গতিতে ফুটপাতের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালান। কিন্তু ফুটপাত হচ্ছে পথচারীদের হাঁটার জন্য। বেপরোয়া বাইকাররা যেন এটি মানতেই চান না। ফুটপাতে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে তিনি আদালতে নির্দেশনা এবং জরিমানা কার্যকরের তাগিদ দেন।

ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো অবস্থায়ই হাঁটার পথে মোটরবাইক চালানো যাবে না। এ ছাড়া ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালালে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড এবং ৩৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-তে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনগুলো বাস্তবায়ন হলে ফুটপাতে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য অনেকাংশেই কমে যাবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটনের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক উত্তর) আবদুর রাজ্জাক  বলেন, রাজধানীতে প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ছে। এ ব্যাপারে আমাদের করার কিছু নেই তবে সেই মোটরসাইকেলগুলোকে রাস্তায় শৃঙ্খলিত করা, আইন মানানো আমাদের কাজ। এ লক্ষ্যে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করে বাইকার অন্যান্য যানবাহনের চালকদের সচেতন করা হয়। যারা আইন ভঙ্গ করেন তাদের আইনের আওতায় আনা হয়। জনগণকে সচেতন করতেও নানা উদ্যোগ নেয়া হয়। আপনারা লক্ষ্য করেছেন অনেক ফুটপাতেই ব্যারিয়ার দেয়া হয়েছে যাতে বাইক চলাচল করতে না পারে। তবে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সাবেক নির্বাহী পরিচালক পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এসএম সালেহউদ্দিন জানান, সড়ক নিরাপত্তার জন্য মোটরসাইকেল বড় হুমকি। মানুষ দ্রুত তার গন্তব্যে যেতে চায়। এ কারণেই রাজধানীর গতিহীন সড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ছে। যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হলে মোটরসাইকেল নিয়ে এত দুর্ভাবনার কারণ হতো না। মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা তুলনামূলক কম। তারা সুযোগ পেলেই আইন ভেঙে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

ক্ষমতার দাপট

দেশের বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালকের মধ্যে আইন ভাঙ্গার প্রবণতা বেশি। বর্তমানে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষমতার দাপট দেখানোর প্রবণতা লক্ষ করা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাফিক সার্জেন্ট  বলেন, সারা দিনে যদি ২০টা মোটরসাইকেলকে সিগন্যাল ভঙ্গ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে কিনা, বিষয়টি চেক করার জন্য থামাই তাহলে কমপক্ষে ১০ জন বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা নেতাদের ফোন ধরিয়ে দেন। অনেক সময়ই তাদের ছেড়ে দিতে হয়। শুধু ফোনেই ক্ষমতার দাপট নয়। মোটরসাইকেলের সামনে-পেছনে পুলিশ, সাংবাদিক, আইনজীবী, ছাত্রলীগ, জরুরি সার্ভিস, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামও দেখা যায়।

অ্যাপসভিত্তিক সেবায় হয়রানি

স্বল্প সময়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাতায়াত করা যায় বলে রাজধানীতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অ্যাপসভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবা। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ প্রতিনিয়ত এ সেবা গ্রহণ করছেন। বাইক চালিয়ে সহজেই অর্থ উপার্জন করা যায় বলে অনেক যুবকই পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন রাইড সার্ভিস দিচ্ছেন। তবে দিনে দিনে হয়রানিও বেড়েছে এ সেবায়। কখনও কখনও ঘটছে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনাও।

একটা সময় বাইক ছিল তরুণদের শখের জিনিস। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই শুধু রাইড শেয়ার দিয়ে টাকা কামানো ধান্দায়, কোনোমতে একটা পুরনো নিুমানের বাইক নিয়েই অ্যাপসভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবায় রেজিস্ট্রেশন করেই রাস্তায় নেমে পড়ছেন। অনেককেই ভাঙাচুরা মোটরবাইক নিয়ে রাইড শেয়ার দিচ্ছেন। আরোহীদের সবচেয়ে বেশি অভিযোগ হেলমেট নিয়ে। অধিকাংশ বাইক চালকদের হেলমেট পরিত্যক্ত পর্যায়ের। পাশাপাশি শুধু ট্রাফিক আইন মানার জন্য নিুমানের হেলমেট দেয়া হয় আরোহীদের। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাড়ার টাকা পরিশোধের জের ধরেও অনেক বাকবিতণ্ডার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।

পাশাপাশি অভিযোগ আছে, মোটরসাইকেল চালকরা এখন রিকশাচালক কিংবা সিএনজিচালিত স্কুটার চালকদের মতো আচরণ করছেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান বেশি কমিশন নেয়, আয় কম হয় এ অজুহাত দেখিয়ে অ্যাপ ব্যবহারে অনাগ্রহ বাড়ছে চালকদের। এখন রীতিমতো দরদাম করে গন্তব্যে যেতে বাধ্য করছেন চালকরা। যা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার প্রমাণ মিলবে রাজধানীর বনানী, শাহবাগ, আসাদগেট, মতিঝিল উত্তরায় একটু ঘুরলেই। এসব এলাকায় সবসময়ই সারিসারি মোটরসাইকেল দেখা যায়। আশপাশ দিয়ে হাঁটলেই চালকরা জিজ্ঞেস করবে কই যাবেন। সাড়া মিললেই ভাড়া নিয়ে রীতিমতো দরদামে মেতে উঠবেন তারা।

এ ছাড়া অভিযোগ আছে, ব্যস্ত সময়ে বেশি ভাড়া আদায়ে অ্যাপ বাদ দিয়ে চুক্তিতে যেতে চান চালকরা, রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করার পর রাইড বাতিলের অনুরোধ, আগেই রাইড চালু করা, নিয়ম না মেনে গাড়ি চালান এবং বেশি ট্রিপের জন্য দ্রুত গাড়ি চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

নিয়মিত রাইড নেয়া রামপুরার বাসিন্দা ফেরদৌস বলেন, মোবাইল অ্যাপে রাইডের অনুরোধ পাঠালে প্রায় অর্ধেক চালকই গন্তব্য জানতে চান। ‘রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করেই ‘কোথায় যাবেন’ এ প্রশ্ন করেন। আমি রাইড শেয়ারিং নীতিমালা পড়ে দেখেছি, এটা নীতিমালার মধ্যে পড়েনি। এ ছাড়া বেশিরভাগ চালক ম্যাপ ফলো করে ঠিকমতো পিক-আপ পয়েন্টে আসতে জানেন না। আর নির্ধারিত রুট না মেনে অন্য রুটে যান, যে কারণে ভাড়া বেশি আসে। অনেক চালক পেয়েছি যারা ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত বাইক চালান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য কমিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সমাজের সব শ্রেণীপেশার মানুষ, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারকারী সবাইকে সংযুক্ত করে দেশব্যাপী নিরাপদ সড়কের জন্য ক্যাম্পেইন চালাতে হবে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্পিড রাডার বসানোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সীমার তুলনায় অধিক গতিতে মোটরসাইকেলসহ সব যানবাহন চালান নিরুৎসাহিত করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে, যেন অসদুপায় অবলম্বন করে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া না যায়। ট্রাফিক পুলিশকে আইন ভঙ্গকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

এ ব্যাপারে রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাঠাও সবসময় সহজ, দ্রুত এবং সুবিধাজনক রাইড শেয়ারিং সার্ভিস প্রদানের কথা চিন্তা করে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা প্রত্যেক রাইডারকে উন্নতমানের হেলমেট প্রদান করেছি। এছাড়াও যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের অ্যাপস থেকে সরাসরি ৯৯৯-এ কল করা যায় এবং আপনজনদের সঙ্গে লোকেশন শেয়ার করা যায়। এছাড়াও আমরা আমাদের রাইডারদের রেজিস্ট্রেশনের সময় তাদের প্রত্যেকের কাগজ ভালোমত যাচাই করে নেই। এছাড়াও কোন যাত্রী রাইডারে বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে প্রমাণ সাপেক্ষে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

দিনে ২৫০ বাইক নিবন্ধিত হচ্ছে রাজধানীতে

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজধানীতে বেড়ে চলছে বাইকের সংখ্যা। একটা সময় শখ কিংবা প্রয়োজনের বসে বাইক ব্যবহার করলেও এখন বাইক হয়ে ওঠেছে ব্যস্ত জীবনের নিত্য সঙ্গী। মানুষের প্রয়োজনের কথা ভেবে বাইক প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই নিয়ে আসছে নিত্য নতুন নজর কারা ডিজাইনের নানা বাইক। তাছাড়া কিস্তিতেও মিলছে পছন্দের বাইক। সস্তামূল্যে সহজলভ্য বাইক পাওয়ায় খুশি সর্বস্তরের ক্রেতারা। তবে সহজলভ্য হওয়ায় বাইকবিড়ম্বনাও বেড়েছে আগের তুলনায় অনেক গুণ। রাজধানী থেকে শুরু করে মফস্বলেও বাইক হয়ে উঠেছে বিড়ম্বনা এবং আতঙ্কের আরেক নাম।

দেশে বাইক কী পরিমাণ বেড়েছে তার একটি সহজ পরিসংখ্যান দেখা যাক। বাইক রেজিস্ট্রেশনের জন্য ঢাকায় মোট চারটিসহ প্রতিটি জেলায় একটি করে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সফার অথরিটির (বিআরটিএ) কার্যালয় রয়েছে। ঢাকার চারটি কার্যালয়গুলো রাজধানীর ইকুরিয়া, মিরপুর-১, উত্তরা এবং বনানীতে অবস্থিত। এসব কার্যালয় থেকে বাইক নিবন্ধন এবং ড্রাইভার লাইসেন্স ইস্যু করা যায়। ঢাকার চারটি কার্যালয়ের তথ্য অনুসন্ধান করে জানা গেছে, প্রতিদিন ২৫০টি বাইক নতুন করে নিবন্ধিত হচ্ছে রাজধানীতে চলার জন্য। মাসে ৭ হাজার পাঁচশ’ এবং বছরে প্রায় এক লাখ বাইক নিবন্ধিত হয় রাজধানীতে।

বিআরটিএর সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের মে মাস পর্যন্ত রাজধানীতে নিবন্ধিত বাইকের সংখ্যা ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৪৭১টি। সারা দেশে নিবন্ধিত বাইকের সংখ্যা ২৬ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৪টি। ২০০৩ সালে দেশে নিবন্ধিত বাইক ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৩৪৭টি। ২০০৯ সালে সে সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ এ। ২০১৯ সালে সে সংখ্যা ২৬ লাখ ছাড়িয়ে যায়। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের পাঁচভাগের এক ভাগ বাইকই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজধানীর অলি-গলি। এ থেকেই আন্দাজ করা যায়, রাজধানীর মানুষকে কতটা ভোগাচ্ছে বাইক দৌরাত্ম্য।

উপরে