শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

সার্বিয়ায় ন্যায় বিচারের জন্য এক নারীর লড়াই

প্রকাশের সময়: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ - রবিবার | জুন ৩০, ২০১৯

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড। এর ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে ব্রুস পৌরসভা। পৌর মেয়রের নাম মিলুটিন জেলিসিক।

ঘটনাটি ছিল ২০১৫ সালের জুনে। মারিজা লুকিক মেয়র সাহেবের কাছে গেছেন চাকরির ইন্টারভিউ দিতে। সাক্ষাৎপর্বের একপর্যায়ে তিনি দরজা বন্ধ করলেন। দুই হাতে জড়িয়ে ধরলেন মারিজাকে। জোর করে ঠোঁটে চুমু দিলেন। তারপর নিতে চাইলেন বিছানায়। যৌন হয়রানির সেই ছিল শুরু।

সম্প্রতি তাঁর এ হয়রানির ঘটনা আলোচিত হচ্ছে দেশটিতে। সংবাদ মাধ্যম সিএনএন-কে দুই সন্তানের জননী মারিজা বলেন, ‘প্রচণ্ড রাগ হয়েছিল আমার।  তাঁকে বললাম, চাকরি পাওয়ার জন্য আমি তাঁর সঙ্গে বিছানায় যেতে পারবো না। বললাম দরজা খুলে দিতে। আমি বাইরে চলে এলাম। এরপর বললাম – আপনার এই আকাঙ্খার কথা ভুলে যান। আমার চাকরির দরকার নেই। আমি কিছুই চাই না।’

জেলিসিক তাঁর ভুল স্বীকার করেন। বলেন, নিজেকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। কথা দিলেন আর হবে না। মারিজাও তেমনটি ভেবেছিলেন। যোগ দিলেন ইন্টার্নশিপে। কেননা, চাকরিটি দরকার ছিল তাঁর। কিন্তু এরপর দুই বছর ধরে চলেছিল তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন। এই সময়ে মেয়র জেলিসিক হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার এবং টেক্সট মেসেজে ১৫ হাজার মেসেজ পাঠিয়েছেন। বার বার তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তাঁর সঙ্গে যৌনকর্ম করলে চাকরিতে দ্রুত পদোন্নতি হবে।

যদিও সার্বিয়ার গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলিসিক। ৫৭ বছর বয়সী এই সাবেক মেয়র সিএনএন-কে তিনি বলেন, ‘বিরোধী পক্ষ সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির সুনাম নষ্ট করতে এই বিষয়টি অন্যায়ভাবে ব্যবহার করছে। আদালতে আমি এ নিয়ে প্রকৃত সত্য প্রতিষ্ঠা করবো। তবে তিনি বা তাঁর আইনজীবী সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি।

মামলাটি ‘মি টু’ সংক্রান্ত ট্রায়ালে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দেশটিতে মানুষের ভেতর বড় ধরনের নাড়া দিয়েছে এটি। কেননা, যৌন নির্যাতন অপরাধ আইন ২০১৭ সালে পাশ হয় সেদেশে।

৩১ বছর বয়সী মারিজা বলেন, ইন্টার্নশিপ শেষে ওই অফিস থেকে বেরিয়ে আসার পরপরই মেসেজের বন্যা বয়ে যায়। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সেখানে ইন্টার্নশিপে ছিলেন। তিনি এখন অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো ভুলে যেতে চান।

কিন্তু এবারও প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র জেলিসিক। শান্ত হয়ে আসে প্রতিশ্রুতি। জেলিকিক তাঁর সচিবের চাকরি দিতে চান মারিজাকে। তিনি তাঁকে আশ্বস্ত করেন তিনি স্রেফ পেশাগতভাবে একজন স্মার্ট কর্মচারী চান। এর বাইরে কিছু নয়। এই সময় অন্য কোনো কাজ ছিল না মারিজার। ফলে পূর্ববর্তী আচরণের পুনরাবৃত্তি হবে না ভেবে সুযোগটি গ্রহণ করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এরপরও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন এই নারী।

এরইমধ্যে মামলাটি একটি জাতীয় মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। দেশটির গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। মামলায় জেলিসিক এবং মারিজাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ সৃষ্টি হয়েছে। জেলিসিক সমর্থকরা এ ঘটনাকে মিথ্যা বলে প্রচার করছে। অন্যদিকে, মারিজা সমর্থকরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্ত সাবেক মেয়র জেলিসিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন। আদালতে শুনানির দিন দুটি পক্ষই ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান করছে। স্লোগান দিয়ে যার যার অবস্থান জানান দিচ্ছেন তাঁরা।

মারিজা বলেন, তিনি এবং তার পরিবার অনলাইনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রমাগত হুমকি ও হয়রানি সহ্য করছেন। প্রতিপক্ষ সরকারি দলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যদি আমি শেষ পর্যন্ত এই দেশে ন্যায়বিচার না পাই, তবে আমি ইউরোপীয় আদালতে যাব। প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে স্ট্রেসবার্গে মানবাধিকার আদালতে যাবো। কিন্তু হাল ছাড়বো না। এতদূর যখন আসতে পেরেছি, তখন আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো।

সূত্র : সিএনএন

উপরে