শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ভূতের ভয়ে গ্রামছাড়া বহু পরিবার

প্রকাশের সময়: ৪:১০ অপরাহ্ণ - সোমবার | জুলাই ১, ২০১৯

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

গ্রামবাসীদের মন থেকে ভূতের আতঙ্ক দূর করতে ভারতের মালদার বাসুদেবপুর গ্রামে রবিবার যৌথভাবে বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করে ওল্ড মালদা ব্লক এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ।

গত সাত মাসে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে আদিবাসী অধ্যুষিত মালদার ভাবুক গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসুদেবপুর গ্রামে। সম্প্রতি ওই গ্রামের এক বাসিন্দা দীনেশ মুর্মু মারা যান। তাকে যে বাঁচানো যাবে না, সেই ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন গ্রামেরই এক ওঝা।

দীনেশের স্ত্রী মুন্নি সোরেন জানান, ওঝা বলেছিল আমার স্বামী বাঁচবে না। শুধু তাই নয় গ্রামের আরো লোক মারা যাবে। আর সেটা শুনেই গ্রাম ছাড়ে ১৭টির মধ্যে ১২টি পরিবার। আসল ঘটনা খতিয়ে দেখতে চলতি মাসের ২২ তারিখ ওই গ্রামে যান ব্লক স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তারা গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে সচেতন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। এখনো গ্রামছাড়া আট পরিবার। সকালে কাজের জন্য তারা গ্রামে এলেও সন্ধ্যার পর কেউই গ্রামে থাকছেন না।

রবিবার গ্রামে সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করে ওল্ড মালদা ব্লক এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। গ্রামে যান পুরাতন মালদার বিডিও জয়ন্তী খাটুয়া। গ্রামবাসীদের মন থেকে ভূতের ভয় দূর করার চেষ্টা করেন তিনি।

তার বক্তব্য, ভূত বলে কিছু নেই। একশ্রেণির মানুষ সাধারণ মানুষকে ভূতের ভয় দেখিয়ে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করার চেষ্টা করে। অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে একটি নাট্যাভিনয়ের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের সচেতন করার চেষ্টা করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে সুমিত দাস বলেন, আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো গ্রামবাসীদের মন থেকে কুসংস্কার দূর করা। আমরা মানুষকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে অনেক কিছু বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এছাড়া গ্রাম থেকে পানীয় জলের নমুনা সংগ্রহ করেছি। সেটা পরীক্ষা করে দেখব। গত ২২ জুন গ্রামে এসে আমরা জেনেছি সাত জন মারা গেছে। তারা সবাই পেটের ব্যথায় ভুগছিল। পরবর্তী সময়ে জেনেছি এদের মধ্যে একজন অ্যাপেনডিক্স ফেটে মারা গেছে।

তিনি আরো বলেন, কেন গ্রামবাসীদের এভাবে মৃত্যু হচ্ছে তা আমাদের দেখতে হবে। আমরা মানুষকে দেখাচ্ছি, কীভাবে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়।

অনিল টুডু নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ভূতের ভয়ে যে পরিবারগুলো গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছিল তাদের মধ্যে দুই-তিন পরিবার গ্রামে ফিরে এসেছে। বাকি আট পরিবার এখনো আসেনি। এই পরিবারের সদস্যরা দিনে গ্রামে থাকলেও রাত হওয়ার আগে গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। তবে আগের থেকে মানুষের ভয় অনেকটা কেটেছে। আজ সবাইকে বোঝানো হচ্ছে যে ভূত বলে কিছুই নেই।

উপরে