রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মসজিদে গিয়ে জামাআতে নামাজ আদায় কি সবার জন্য আবশ্যক?

প্রকাশের সময়: ৫:০৮ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | জুলাই ২, ২০১৯

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ডেস্ক রিপোর্ট : জামাআতে নামাজ আদায় ছিল বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক পছন্দনীয় আমল। তাইতো অসুস্থাবস্থায় হজরত আবু বকরের ইমামতিতে জামাআত অনুষ্ঠিত হতে দেখে আনন্দ অশ্রু ঝরে ছিল বিশ্বনবির চোখ থেকে।

জামাআতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব কত বেশি তা অন্ধ সাহাবি হজরত উম্মে মাকতুম রাদিয়াল্লাহু আনহুসহ অন্ধ সাহাবিদের কথপোকথনই তার প্রমাণ। হাদিসে এসেছে-

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, একদিন এক অন্ধ ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে নিবেদন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার মতো কেউ নেই।
লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এ জন্য নিবেদন করলেন যে, তিনি তাকে ঘরেই নামাজ আদায় করার অনুমতি দেবেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাকে অনুমতি দিয়ে দিলেন।
যখন লোকটি চলে যাচ্ছিল তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে (অন্ধ ব্যক্তিকে) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি আজানের শব্দ শুনতে পাও?
লোকটি বললো, ‘জি, হ্যাঁ’।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তাহলে আজানের শব্দ শুনে লাব্বায়েক বলে জামাআতের সঙ্গে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে চলে এসো।’ (মুসলিম)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাকতুম আল-মুয়াজ্জিন বর্ণনা করেন, তিনি নিবেদন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মদিন শরিফে অনেক বড় বড় বিষাক্ত পোকা-মাকড় ও জন্তু রয়েছে। (আর আমি অন্ধ মানুষ) এমতাবস্থায় আমাকে ঘরে নামাজ পড়ার অনুমতি দিন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- ‘তুমি যদি ‘হাইয়া আলাস সালাহ, হাইয়া আলাল ফালাহ’ (নামাজের দিকে ছুটে এসো, কল্যাণের দিকে ছুটে এসো) শুনতে পাও, তাহলে নামাজের জন্য (মসজিদে) এসো।’ (আবু দাউদ)

জামাআতে নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে সাহাবায়ে কেরামের প্রতি একটি কঠোর হাদিস বর্ণনা করেন-
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে মহান সত্তার হাতে আমার জীবন তার শপথ করে বলছি! আমি ইচ্ছা করেছি যে- ‘আমি লোকদেরকে লাকড়ি জমা করার আদেশ দেবো। তার পর নামাজের জন্য আজান দিতে বলবো। তারপর এক ব্যক্তিকে নামাজ পড়াতে আদেশ দেবো। তারপর (যে লোকেরা জামাআতে উপস্থিত হয় না) আমি তাদের দিকে যাবো) এবং তাদের ঘরগুলো জ্বালিয়ে দেবো।’ (বুখারি ও মুসলিম)

হাদিসের আলোকে বুঝা যায় যে, জামাআতে নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। যেখান থেকে বাদ যায়নি অন্ধ ব্যক্তিও। আর অন্য সাধারণ ব্যক্তির জন্য তা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হুকুম।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে মসজিদে গিয়ে জামাআতের সঙ্গে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

উপরে