শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | ৩রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

তিস্তা ও বুড়িতিস্তার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংকে ২০ হাজার পরিবার

প্রকাশের সময়: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | জুলাই ১১, ২০১৯

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

মোঃ হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি : টানা ৫ দিনের অনাবর্ত বৃষ্টি আর ভারতের উজান থেকে নেমে আশা পাহাড়ী ঢলে নীলফামারী জলঢাকার চার ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার পরিবার বাঁধ ভাঙ্গনের আশংকায় হুমকির মুখে পড়ে আতংকে দিনাতিপাত করছে। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নদী পাড়ের বাসিন্দারেরা বর্তমানে রাত জেগে নদী ভাঙ্গন রক্ষার্থে প্রানপন চেষ্টা করছেন। ১১ই জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ডালিয়া তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং বিকালে পানির প্রবাহ্ কমলে তা ২৩ সেন্টিমিটারে নেমে আসছে বলে নিশ্চিত হয়ে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী জোনের এসডি হাফিজুল ইসলাম। তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি হওয়ায় সব চেয়ে বেশি বাধ ভাঙ্গনের আশংকায় রয়েছে শৌলমারী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বানপাড়া, গোঁপালঝাড়, আলশিয়া পাড়া ও বাধেঁর পাড়ের বাসিন্দারা। নির্ঘুম রাত জেগে হতাশার মুখোমুখি হয়ে চাতঁক পাখির ন্যায় চেয়ে আছে নদী ও বাঁধ ভাঙ্গঁন রক্ষার্থে। শৌলমারী বানপাড়া বাসিন্দা মনির উদ্দীন ( ৫৫ ) জানান, নদীতে যে হারে পানি বাড়ছে তাতে সম্ভাবত বাঁধ ভেঙ্গে আমাদের সব কিছু গুড়িয়ে নিয়ে যাবে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন এমনিতেই আমাদের সব কিছুই কেড়ে নিয়েছে এই নদী। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষরা শুধু মাত্র জিও ব্যাগ দ্বারা বাঁধ ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে। এতে নদীর পানি ভাঙ্গনে রোধ করবে কি না তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। ওই এলাকার বাসিন্দা দিদার রহমান ( ৪৫ ) জানান, বাঁধ রক্ষায় স্থায়ী কোন সমাধান না থাকায় প্রতি বছর আমাদের নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়তে হয়। সাবেদ আলি (৫৭ ) জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা স্থানীয় বাসিন্দারেরা বালুর বস্তা, বাঁশের পাইলিং গাছের ডালপালা ও গোলাই দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছি। ভাঙ্গন কবলিত জহুরুল হক ( ৫২ ) ও মজিবর রহমান ( ৪৮ ) জানান, কাজকর্ম বাদ দিয়ে শুধু নদীর দিকেই চেয়ে থাকতে হয়। কখন যে পানির তোরে আমাদের ঘরবাড়ি ভেসে যাবে তা আমরা নিজেও যানি না। তিনি আরো জানান, রাতে পানির গর্জনে ঘুম আসে না। সকালে দেখি ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান প্রানজিৎ কুমার পলাশ জানান, বাধঁটির ভাঙ্গন হলে আমার এলাকাসহ কৈমারী, ডাউয়াবাড়ি ও গুলমুন্ডা ইউনিয়নের নিম্ন এলাকা প্লাবিত হবে। যা নিতান্তই হুমকি স্বরুপ। কৈমারী ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বাবু জানান, বর্তমান তিস্তা ও বুড়িতিস্তা নদীর যা অবস্থা তাতে যখন তখন বাধঁ ভেঙ্গে প্লাবিত হতে পারে আমরা ইউনিয়নের প্রায় ৪ থেকে ৫টি এলাকা। আমি আহবান জানাবো পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে যাতে তারা দ্রæত ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী সমাধান টানতে পারেন।
বৃহস্পতিবার সরজমিনে ভাঙ্গন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারী জোনের এসডি হাফিজুল ইসলাম যুগের আলোকে জানান, ওই এলাকার ৬০ মিটার দুরত্বে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আমরা ১২০ মিটার পর্যন্ত কাজ অব্যহত রেখেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ভাঙ্গন রক্ষার্থে স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহন করেছে প্রকল্পের মাধ্যমে। সে প্রকল্পটি আগামী সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু করবে।

উপরে