মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ | ৫ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ঈদে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার

প্রকাশের সময়: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ - শনিবার | আগস্ট ১০, ২০১৯

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ঈদে আনন্দ ভাগাভাগির ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকলেও খাবার গ্রহণের ব্যাপারে প্রত্যেকের সতর্ক থাকা উচিত। খাবার দেখেই ঝাঁপিয়ে না পড়ে, আস্তে আস্তে খাওয়া শুরু করুন, নিজেকে সংযত করুন, পরিমিত আহার করুন। খাবারকে নয়, সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করুন, কোরবানির ত্যাগের আনন্দ উপভোগ করুন।

* আঁশ বা ফাইবার রাখবেন প্রতি বেলার খাবারের তালিকায়। কারণ এই আঁশ খাবার হজমে ও হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়, চর্বিও জমতে বাঁধা দেয়। এই আঁশ আমরা পেতে পারি রান্না বা কাঁচা শাক-সবজি, ফল-মূল, সালাদ, লাল আটা, বাদাম ইত্যাদি থেকে।

* ওজন কমাতে ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে কম ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে চেষ্টা করুন সবসময়। তাই বিরিয়ানি, পোলাও, ভাত, তেলেভাজা, মিষ্টি খাবার, কোমল পানীয় ইত্যাদি ক্যালোরিবহুল খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।

* এ ঈদে যেহেতু অনেক রকম খাবারের সমরোহ থাকে সবার বাড়িতে, তাই অন্যান্য বেশি ক্যালোরির খাবার যেমন- ফাস্ট ফুড, কেক, সিঙ্গারা, পেঁয়াজু, ডুবো তেলে ভাজা খাবার, চিপস ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।

* প্রতিদিন নিয়ম করে ফল, সবজি, সালাদ, আর প্রচুর পানি খেতে ভুলবেন না।

* টক দই, বোরহানি, লেবুর শরবত (চিনি ছাড়া) ইত্যাদি খাবার হজমে সহায়ক। এগুলো খাবার পরে খেতে পারেন।

* মাংসের চর্বি পরিহার করুন, চর্বি/ কোলস্টেরলযুক্ত অঙ্গ, যেমন- মগজ, কলিজা ইত্যাদি যথাসম্ভব কম খান বা বাদ দিন।

* কোনো বেলা বেশি খেয়ে ফেললে বা দাওয়াত থাকলে অন্য বেলা রুটি, সালাদ বা স্যুপ খেয়ে ব্যালান্স করুন।

* আর মিষ্টি খাবার/চিনিযুক্ত খাবার দুই, একদিনের বেশি না খাওয়াই ভালো। খেলেও খুবই অল্প পরিমাণে। সে ক্ষেত্রে সেবেলা শর্করা জাতীয় অন্যান্য খাবার কম খাবেন অথবা খাবেন না।

* কোমল পানীয়, চিনিযুক্ত পানীয় না খাওয়াই ভালো। ফলের চিনি ছাড়া জুস, বোরহানি, টক দই, পুদিনা লাচ্ছি, ডাবের পানি ইত্যাদি খেতে পারেন।

* গুরুপাক খাবার বা মাংসের সঙ্গে লেবুর রস খেলে তা হজমে সাহায্য করে।

* প্রতিদিন প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে, অন্তত পাঁচ থেকে আট বেলা পরিমিত আহার করুন, এটা ওজন কমানো এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।

* সকালের নাশতা, দুপুরের ও রাতের খাবারে শর্করা, সবজি, আমিষ রাখতে চেষ্টা করুন। প্রতিদিনের খাবারে সব খাবারের উপাদান যেমন- শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, ফ্যাট, দুধ, মিনারেলস ইত্যাদি যেন থাকে তা নজর দিন। Balanced খাবার/ diet মেনে চলুন।

* আপনার প্রতিদিনের শারীরিক ক্যালোরির চাহিদা অনুযায়ী ক্যালরি মেপে খাবার খান। প্রয়োজনে পুষ্টিবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

* নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করুন। যেদিন বেশি খাওয়া হবে, সেদিন হাঁটাহাঁটি এবং ব্যায়াম করবেন। ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনার বাড়তি ক্যালরি যা খেয়েছেন, তা বার্ন হয়ে দৈনিক ক্যালোরির চাহিদার সমতা আসবে। ফলে আপনার শরীরে বাড়তি ক্যালরি জমে, ওজন বাড়বে না।

* যাদের ব্লাড সুগার শুধু ডায়েট কন্ট্রোল ও ব্যায়ামের মাধ্যমে স্বাভাবিক আছে তারা নির্দিষ্ট পরিমাণে ঈদের খাবার খেতে পারেন তবে সে ক্ষেত্রে ঈদের দিন সকালে ও বিকালে ৪০ মিনিট করে হাঁটুন। মিষ্টি বা চিনিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। মসজিদে, কোনো আত্মীয় ও বন্ধুর বাসায় হেঁটে যান।

গরুর মাংস কোলেস্টেরলের মাত্রা

৩ আউন্স sirloin অঞ্চলের মাংসে কোলেস্টেরলের মাত্রা ৪৭ গ্রাম এবং ৩ আউন্স round অঞ্চলের মাংসে কোলেস্টেরলের মাত্রা ৫৩ মি.গ্রা.। একজন সুস্থ মানুষের কোলেস্টেরলের দৈনিক নিরাপদ মাত্রা হল ৩০০ মি.গ্রা. এবং হার্টের রোগীর জন্য ২০০ মি.গ্রা.। সুতরাং ৩ আউন্স গরুর মাংসে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিরাপদ সীমার অনেক নিচে। তুলনাটা আরেকটু ভালো করে বুঝিয়ে বলি, একটি ডিমের কুসুমে আছে ২১২ মি.গ্রা কোলেস্টেরল। সুতরাং সব দোষ গরুর মাংসের একার না।

স্বাস্থ্য চিন্তা মাথায় রেখে পরিমাণ মতো সঠিক খাবার আপনার ঈদ আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেবে। নিয়ম মেনে ঈদে সুস্থ থাকুন।

 

লেখক : সাজেদা কাশেম

রেনাল পুষ্টিবিদ, গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টার, ধানমণ্ডি, নির্বাহী পরিচালক, বিএডিএন

উপরে