রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

বেহাল দশায় কয়েকশত জব্দ হওয়া গাড়ি

প্রকাশের সময়: ৪:০১ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

currentnews

শত শত যানবাহন ধুলায় ধূসরিত। কোনোটির আসন নেই, কোনোটির নেই দরজা। চাকা বসে গেছে, কোনোটির আবার গ্লাস উধাও। আবার কোনোটির শুধু কাঠামো পড়ে আছে। কোনো কোনো গাড়ির ভিতরেই জন্মেছে গাছ। এমন চিত্র রাজধানীর শেরেবাংলানগরের আগারগাঁও ও তালতলায় ডাম্পিং করা যানবাহনের। পুরোদস্তুর বেহাল দশায় সেখানে পড়ে আছে জব্দ হওয়া কয়েকশত গাড়ি

খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর পড়ে রয়েছে শত শত মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, বাস, মাইক্রোবাস, পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। রোদে পুড়ছে, বৃষ্টিতে ভিজছে। চুরি হচ্ছে যন্ত্রাংশ। হারাচ্ছে ব্যবহারের উপযোগিতা। নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

একই চিত্র রাজধানীর প্রতিটি থানা ও আদালত প্রাঙ্গণে। হাজার কোটি টাকার যানবাহন অযত্ন-অবহেলায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে। ভাঙাচোরা এসব গাড়ির স্তূপের কারণে থানাগুলো যেন এখন একেকটি ময়লার ভাগাড়। শুধু তাই নয়, পানি জমে এডিস মশা তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মামলা হওয়ার পর আলামত  হিসেবে যানবাহন আটকে রাখা হয়। এর মধ্যে কিছু যানবাহন আদালতের নির্দেশে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপেক্ষা করতে হয় মামলা নিষ্পত্তি পর্যন্ত। আর মামলার দীর্ঘসূত্রতাই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। মামলা নিষ্পত্তি হতে লাগে ১০ থেকে ১২ বছর। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আদালত হয় গাড়ি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে বলে, না হয় নিলামে বিক্রির আদেশ দেয়।

এদিকে নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়াও বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তত দিনে যানবাহনগুলো এতটাই করুণ দশায় উপনীত হয় যে, তা শেষ পর্যন্ত ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। আইন ভঙ্গ কিংবা মামলার আলামত হিসেবে দিনে গড়ে ২০ থেকে ৩০টি গাড়ি আসে ডাম্পিং স্টেশনে। এখানে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি; যার অধিকাংশই নম্বরবিহীন। বছরের পর বছর জব্দ করা গাড়ি পড়ে থেকে নষ্ট হলেও এসব গাড়ি রক্ষায় কারও কোনো উদ্যোগ নেই।

সূত্র- বিডি প্রতিদিন

উপরে