বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ | ১লা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

অস্ত্রসহ যুবলীগ নেতা খালেদ আটক

প্রকাশের সময়: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ - বুধবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

currentnews

রাজধানীর মতিঝিলের ফকিরেরপুল এলাকায় ইয়ংমেনস ক্লাবের ক্যাসিনোতে র‍্যাবের অভিযান চলছে। অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এই ক্যাসিনোর মালিক মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূইয়া। গুলশানের বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাকেও গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির প্রভাবশালী নেতা খালেদকে ধরতে অভিযান নামে র‌্যাব। ওই বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যুবলীগের কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবলীগের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা যা ইচ্ছে করে বেড়াচ্ছে, চাঁদাবাজি করছে। আরেকজন এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে চলেন। সদলবলে অস্ত্র নিয়ে ঘোরেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেন, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে, যেভাবে জঙ্গি দমন করা হয়েছে, একইভাবে তাদেরকেও দমন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর বার্তার পরই অভিযানে নামলো র‌্যাব।

বুধবার সন্ধ্যায় র‍্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, আমার নেতৃত্বে ইয়ংমেনস ক্লাবের ক্যাসিনোতে অভিযান চলছে। জুয়া খেলা অবস্থায় অভিযানে এখনো পর্যন্ত নারী ও পুরুষ মিলে ১৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সারওয়ার আলম আরো বলেন, ক্যাসিনোর ভেতর থেকে প্রচুর টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব টাকা আমরা এখনো গণনা করতে পারিনি। অভিযান শেষে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

একইসঙ্গে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গুলশানের একটি বাসভবনে ঘেরাও করে র‌্যাব। সেখান থেকে অস্ত্রসহ তাকে আটক করা হয়। দুপুর থেকেই বাড়িটি ঘিরে রাখেন র‍্যাবের প্রায় শতাধিক সদস্য।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানের বাসা থেকে খালেদকে তারা গ্রেপ্তার করেন।

খালেদের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। মতিঝিল-ফকিরাপুল ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনো থেকে শুরু করে কমপক্ষে সাতটি সরকারি ভবনে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি জমি দখলের মতো নানা অভিযোগ এ নেতার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলাও।

রিয়াজ মিল্কি ও তারেক হত্যার পর পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেন খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া। ২০১২ সালের পর মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ছত্রচ্ছায়ায় ঢাকার এক অংশের নিয়ন্ত্রণ আসে খালেদের হাতে। নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করেন তিনি।

রাজধানীর মতিঝিল, ফকিরাপুল এলাকায় কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন এ যুবলীগ নেতা। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়াং ম্যানস নামের ক্লাবটি সরাসরি তিনি পরিচালনা করেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে এক লাখ টাকা নেন তিনি। এসব ক্লাবে সকাল ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত ক্যাসিনো বসে।

খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী লেগুনা ও গণপরিবহন থেকে নিয়মিত টাকা দিতে হয় খালেদকে। প্রতি কোরবানির ঈদে শাহজাহানপুর কলোনি মাঠ, মেরাদিয়া ও কমলাপুর পশুর হাট নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। খিলগাঁও রেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন রাতে মাছের একটি হাট বসান এ নেতা। সেখান থেকে মাসে কমপক্ষে এক কোটি টাকা আদায় করেন তিনি। একইভাবে খিলগাঁও কাঁচাবাজারের সভাপতির পদটিও দীর্ঘদিন তিনি ধরে রেখেছেন। শাহজাহানপুরে রেলওয়ের জমি দখল করে দোকান ও ক্লাব নির্মাণ করেছেন।

জানা যায়, মতিঝিল, শাহজাহানপুর, রামপুরা, সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা এলাকার পুরো নিয়ন্ত্রণ এ নেতার হাতে। এসব এলাকায় থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যথাক্রমে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (রাজউক), রেলভবন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার ফকিরাপুল জোনসহ বেশিরভাগ সংস্থার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করেন এ নেতা। ‘ভূঁইয়া অ্যান্ড ভূঁইয়া’ নামের প্রতিষ্ঠানটি দিয়ে তিনি তার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

উপরে