বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ | ২রা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

এক অন্ধ পর্যটকের গল্প

প্রকাশের সময়: ১২:৫০ অপরাহ্ণ - শনিবার | সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

 

কারেন্টনিউজ ডটকম ডটবিডি

ব্রিটিশ নাগরিক টনি জাইলস (৪১) অন্ধ এবং বধির। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা স্বত্ত্বেও ভ্রমণের নেশায় ১৩০টির বেশি দেশ এরই মধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। বিশ্বের সবকটি মহাদেশ ঘুরেছেন। এখন তার লক্ষ্য হলো বিশ্বের সবকটা দেশ ভ্রমণ করা।

তিনি বলেন, আমি মানুষের কথা শুনি, পাহাড়ে উঠি, সবকিছু আমি আমার স্পর্শ এবং পায়ের মাধ্যমে অনুভব করি। ওভাবেই আমি একটি দেশ দেখি।
জাইলস গত ২০ বছর ধরে নতুন নতুন জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছেন। সেরকমই একটি সফরের সময় তিনি তার গ্রিক বান্ধবীর সাথে পরিচিত হন যিনি নিজেও অন্ধ।

অধিকাংশ ভ্রমণে জাইলস একাই ঘুরে বেড়িয়েছেন। জাইলসের ভ্রমণের অর্থ জোগাড় হয় তার বাবার পেনশনের টাকা থেকে। কাজেই আগে থেকেই যথেষ্ট পরিকল্পনা করে ভ্রমণসূচি ঠিক করেন তিনি। প্লেনের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে তার মা তাকে সাহায্য করেন, তারণ জাইলসের মতে, অধিকাংশ এয়ারলাইন্স কোম্পানিতেই অন্ধদের জন্য যথেষ্ট সুবিধা নেই।

কোনো দেশে থাকার সময় যারা তাকে সাহায্য করেন, তাদের সাথে আগেই বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করে নেন তিনি।

জাইলসের যখন নয় মাস বয়স, তখন তার চোখের সমস্যা প্রথম ধরা পড়ে। দশ বছর বয়সে তার দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। ছয় বছর বয়সে তিনি আংশিক বধির হিসেবে চিহ্নিত হন। বর্তমানে কানে শোনার জন্য শক্তিশালী ডিজিটাল হিয়ারিং এইড ব্যবহার করলেও সব ধরণের শব্দ শুনতে পারেন না।

তিনি একটি বিশেষ স্কুলে পড়ালেখা করেন এবং সেই স্কুল থেকেই ১৬ বছর বয়সে প্রথমবার বিদেশ ভ্রমণ করেন। এখনো মাঝেমধ্যে নানা শারীরিক সমস্যায় ভোগেন জাইলস। ২০০৮’এ কিডনিতে সমস্যা দেখা দিলে তার কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হয়। ১৫ বছর বয়সে বাবাকে হারান জাইলস। ১৬ বছর বয়সে হারান তার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে, যিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন।

২০০০ সালের মার্চে নিউ অরলিন্সে ভ্রমণের মাধ্যমে তার ব্যাকপ্যাকিং অ্যাডভেঞ্চার শুরু হয়। জাইলস বলেন, ভ্রমণ শুরু করার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল নিজের আবেগ থেকে পালানো। নতুন নতুন জায়গায় ভ্রমণের ফলে তার মধ্যে অনেক ইতিবাচক চিন্তারও তৈরি হয়েছে। মানুষের সাথে মেশার পর আমি বুঝতে পারি, আমি অন্ধ বলে তারা আমার সাথে মেশে না – মেশে আমার ব্যক্তিত্বের কারণে।

জাইলস খুবই কম খরচের মধ্যে ঘোরাঘুরি সারেন। যে কোন জায়গায় তিনি গণপরিবহন ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
থাকার ক্ষেত্রেও একদমই সাদামাটা আবাসস্থল পছন্দ করেন তিনি।

সবকিছু স্পর্শের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করেন জাইলস। অনুভবের মাধ্যমে পরিচয় পেতে চান বিভিন্ন বস্তুর। মানুষের সাথে কথা বলে এবং অন্যদের কথা শুনে নিজের মনে সবকিছুর একটি চিত্র তৈরি করেন তিনি।

যে কোনো জায়গায় সাধারণত দুর্গম পথ এড়িয়ে চলেন জাইলস। অধিকাংশ সময়ই নিজের জন্য আলাদাভাবে গাইড ভাড়া করেন তিনি। তবে মাঝেমধ্যেই গাইড পান না সাথে, এবং কখনো কখনো পথও হারান তিনি। তবে হারিয়ে গেলেও আতঙ্কিত হন না জাইলস। অপেক্ষা করেন কোনো একজন পথিকের জন্য, যে তাকে সাহায্য করতে পারে।

বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়ানোর সময় জাইলস সেসব অঞ্চলের বিভিন্ন ধরণের বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করেন। তিনি বলেন, সঙ্গীত আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয়গুলোর একটি। সঙ্গীতের মধ্যে আমি নিজেকে খুঁজে পাই। সঙ্গীত সব বাধা অতিক্রম করতে পারে। সব অঞ্চলের স্থানীয় খাবার খাওয়াও তার ভ্রমণের অন্যতম লক্ষ্য থাকে। জাঈলস অনেক দর্শনীয় জায়গায় গিয়েছেন এবং অনেক জায়গার ছবিও তুলেছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

উপরে