সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২০ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

বিক্রিত পণ্যের দোষ গোপন করা হারাম

প্রকাশের সময়: ১২:০৩ অপরাহ্ণ - মঙ্গলবার | ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

Currentnews

একবার রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বাজারের মধ্যে এক খাদ্যস্তূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি স্তূপের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিলে আঙ্গুলে আর্দ্রতা ধরা পড়ল। তিনি বিক্রেতাকে বললেন, ‘হে খাদ্য বিক্রেতা! ব্যাপার কি? সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! এতে বৃষ্টির পানি লেগেছে’। তিনি বললেন, ‘তুমি এগুলো স্তূপের উপরিভাগে রাখলে না কেন? তাহলে লোকে দেখতে পেত। মনে রেখো যে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়’ (مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنَّا)।[1]

আজকাল আল্লাহর প্রতি ভয়ভীতি শূন্য অনেক বিক্রেতাই ভাল পণ্যের সঙ্গে ত্রুটিযুক্ত কিংবা নিম্নমানের পণ্য মিশিয়ে বিক্রয় করে থাকে। কেউ কেউ ত্রুটিযুক্ত পণ্যগুলিকে গাইট কিংবা কন্টেইনারের নীচে রাখে। অনেকে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে নিম্নমানের দ্রব্যকে বাহ্যদৃষ্টিতে উন্নতমানের ও আকর্ষণীয় করে তোলে। কেউ কেউ আবার পণ্য ব্যবহারের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর তা পরিবর্তন করে নতুন মেয়াদকালের ছাপ মেরে দেয়। কোন কোন বিক্রেতা ক্রেতাকে পণ্য নিরীক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করতে দেয় না। মোটরগাড়ী, মেশিনারী যন্ত্রপাতি বিক্রেতাদেরও অনেকে রয়েছে, যারা ক্রেতাদের সামনে সেগুলির ত্রুটি ও অসুবিধা তুলে ধরে না।

উল্লিখিত পদ্ধতির সকল কেনা-বেচাই হারাম। নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, اَلْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ وَلاَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ بَاعَ مِنْ أَخِيهِ بَيْعًا فِيْهِ عَيْبٌ إِلاَّ بَيَّنَهُ لَهُ ‘এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই। একজন মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের নিকট কোন ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বিক্রয়ের সময় পণ্যের ক্রটি বর্ণনা না করা পর্যন্ত তা বিক্রয় করা বৈধ নয়’।[2]

অনেকে প্রকাশ্য নিলামে দ্রব্য বিক্রয়কালে ‘এটা অমুক জিনিস’ ‘এটা অমুক জিনিস’ এতটুকু বলেই অব্যাহতি পেতে চায়। দৃষ্টান্তস্বরূপ লোহার রড বিক্রেতা বলে ‘এটা লোহার গাদা’… ‘এটা লোহার গাদা’ ইত্যাদি। কিন্তু গাদার মধ্যে যে ত্রুটি আছে তা বলে না। তার এই বিক্রয় বরকতশূন্য হয়ে পড়বে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

اَلْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا- فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِى بَيْعِهِمَا ، وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا

‘দৈহিকভাবে পৃথক হওয়া কিংবা বিক্রয় প্রস্তাব ও গ্রহণে মতান্তর না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই বিক্রয় কার্যকর করার কিংবা বাতিল করার অধিকার থাকে। যদি তারা সত্য বলে ও দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করে, তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত হয়। আর যদি দু’জনে মিথ্যা বলে ও পণ্য বা মুদ্রার দোষ গোপন করে, তবে তাদের কেনা-বেচার বরকত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়’।[3]

উপরে