সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২০ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আজ

প্রকাশের সময়: ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

ফাইল ছবি

currentnews

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংক্রান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে এই রিপোর্ট গ্রহণ করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর। আপিল বিভাগের নির্দেশে এই প্রতিবেদন পাঠিয়েছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানিতে এই মেডিক্যাল রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্টের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর  বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না। আপনারা আমাদের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।’

এরপর সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া রিপোর্টে কী আছে সেটা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন। উপাচার্য  বলেন, ‘নির্দিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ড বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কয়েক দিন ধরে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ওই প্রতিবেদন সিলগালা করে আমাকে দেওয়া হয়। আমি শুধু সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মাধ্যমে তা আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হবে আজ বৃহস্পতিবার। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে এ শুনানি হবে। আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকার ১২ নম্বরে রয়েছে খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনটি।

খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানিকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে আপিল বিভাগের এক নম্বর আদালত কক্ষে আটটি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। মঙ্গলবার রাতেই এই ক্যামেরা বসানো হয়। এই ক্যামেরা চলমান থাকাবস্থায় গতকাল সকালে আপিল বিভাগের এক নম্বর বেঞ্চে বিচারকাজ পরিচালিত হয়। আপিল বিভাগের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা ঠিকঠাক আছে কি না তা গতকাল বিকেলে পরিদর্শন করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি নিজে ঘুরে ঘুরে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার বদরুল আলম ভূঁইয়া।

এ ছাড়া গতকাল সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে প্রবেশের সব ফটকে ব্যাপক পুলিশ প্রহরা বসানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনে প্রবেশের ফটকেও বসানো হয় ব্যাপক পুলিশ প্রহরা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে আসা সব গাড়ির ওপর তীক্ষ নজর রাখেন। কারা গাড়িতে আসছেন, যাচ্ছেন তা পর্যবেক্ষণে রাখেন তাঁরা।

গত ২৮ নভেম্বর আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এই মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন এবং গত ৭ অক্টোবর গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন গত ৫ ডিসেম্বর দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএমএমইউ নতুন মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। কিন্তু বিএসএমএমইউ কোনো মেডিক্যাল রিপোর্ট দাখিল না করে সময় চাওয়ায় গত ৫ ডিসেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নজিরবিহীন হট্টগোল হয়। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মুহুর্মুহু স্লোগান, মাঝে মাঝে সরকার সমর্থক আইনজীবীদের প্রতিবাদের মুখে চরম হৈচৈ-হট্টগোলের কারণে বিচারকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ওই দিন আদালত ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট দাখিল করার জন্য বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে গতকাল বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের উত্তর হলে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, ইকবাল হোসেন, রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা, কামরুল ইসলাম সজল প্রমুখ আইনজীবী বক্তব্য দেন।

 

উপরে