শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

শিবপুরে বন্ধুর হাতে বন্ধু উদয় খুন

প্রকাশের সময়: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ - বৃহস্পতিবার | ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

currentnews

ইলিয়াছ হায়দার, শিবপুর প্রতিনিধি: নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের সফরিয়া গ্রামের মোস্তফা ভেন্ডারের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে উদয় (২৩) নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় শিবপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের উল্টো পাশের গলিতে তাঁর ওপর ওইহামলা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে ১০ থেকে ১৫ যুবক অংশ নিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সে নরসিংদী মডেল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর রাজধানীর তেজগাঁও পলিটেকনিকে পড়াশোনা করতেন। নিহত মেহেদী ঘটনার সময় ওই স্থানে ব্যাডমিন্টন খেলতে এসেছিলেন। কি কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে তা জানেনা স্বজনরা।

নিহত মেহেদীর বন্ধু মোমেন, টুটুল, রাখিল ও নাইম জানান তাঁরা ঘটনার সময় উপস্থিত বুধবার সন্ধ্যার আগে মেহেদী সেখানে খেলতে আসেন। এ সময় সেখানে ১০ থেকে ১৫ জন যুবক হাতে দা, ছুরি, চাপাতি ও পিস্তল নিয়ে দৌড়ে এসে মেহেদীকে আক্রমণ করেন। ওই সময় মেহেদী দৌড় দিলে তাঁরাও মাথায় রড দিয়ে আগাত করে পেছনে ছুটে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যান। পরে সহপাঠীরা তাঁকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নরসিংদী জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করে। শিহাবের বাবার নাম বাদল, বাব্বির বাবার নাম হারুন কুন্দার পাড়া, হৃদয়ের বাবার নাম আমিনুল আনসার, রিফাতের বাবার নাম শামিম মিয়া। এলাকাবাসি জানান তাদের নামে থানায় আগেও অপকর্মের জন্য অভিযোগ রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মেহেদীর বাবা, ভাই, মা বিউটি বেগম ও ছোট বোন তাছলিমা আক্তার।

চার তরুণের ভাষ্য, পেছন দিক থেকে দৌড়ে মেহেদীকে ধরে ফেলার পর সজীব নামের একজন রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্যরা মেহেদীকে রড ও বেল্ট দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। ওই সময় হৃদয় ও শিহাব নামের দুজন মিলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাত করে। পরে রাব্বি নামের একজন শরীরে রডের আঘাত করলে সে নিস্তেজ হয়ে যায়। হামলাকারীদের মধ্যে অনেকে মুখোশ পড়া ছিল। হামলাকারীদের মধ্যে গালিব, রিফাত ও সিফাত নামের আরও তিনজনকে চিনতে পেরেছেন বলে তাঁরা জানায়। তাঁরা সবাই শিবপুরের ভূঁইয়া মার্কেট ও আসে পাশের এলাকার বখাটে ।

নরসিংদী জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিপা পাল বলেন, ‘আমরা তাঁকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। তাঁর পিঠ ও কোমরের ওপরের দিকে এবং নাভির কাছাকাছি বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি।’

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, হামলাকারীদের কয়েকজন নিহত মেহেদীর ছোটবেলার বন্ধু ছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার উদয়ের পরিবারকে সান্তনা দেওয়ার জন্য তাদের বাড়িতে জান।

নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হয়।উদয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম কার্ড ০১৭৯৬২৭৭০৪৪, ০১৯২৫৭৫৪৫৫৮ এখনো উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারে নি শিবপুর থানা পুলিশ। ময়না তদন্ত শেষে শিবপুর আশ্রাফিয়া মাদ্রাসা মাঠে বাদ আসর তার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা, জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাষ্টার, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম ভূইয়া রাখিল, সাবেক আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আলম ভূইয়া, দপ্তর সম্পাদক পারভেজ, প্রচার সম্পাদক গোলাম রাব্বি খান, জানাজায় আগত উপস্থিত বক্তারা বলেন শিবপুর আবার অশান্ত হয়ে উঠেছে, এই সব খুনের সঠিক বিচার পেলে অপরাধ কমে যাবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিরা যাতে হয়রানি শিকার না হয়। সবার সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

উপরে