শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ | ৩রা মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

অস্থির আসামে ইন্টারনেট বন্ধ

প্রকাশের সময়: ৬:৩৫ অপরাহ্ণ - শনিবার | ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

currentnews

আসামের পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। গুয়াহাটিতে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে কারফিউ। নিরাপত্তার কথা বলে ইন্টারনেট ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবারই অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু) শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আবেদন জানায়। আসুর উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বিক্ষোভকারীদের সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে যেভাবে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে সেই পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে নিজেদের দেশের নাগরিকদের সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। বর্তমানে ভারতের এই রাজ্যগুলোতে খুব প্রয়োজন না হলে যেতে নিষেধও করেছে ওই দুই দেশ। সেই সঙ্গে ভারতে বসবাসরত নিজেদের নাগরিকদের নিয়ে উদ্বগও প্রকাশ করেছে দেশ দু’টি।

যুক্তরাজ্য যে অ্যাডভাইজরি জারি করেছে, তাতে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ভারতের কিছু অংশ। হিংসার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে আসাম ও ত্রিপুরায়। যদি ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে একান্তই যেতে হয়, তাহলে সে দেশের পর্যটকরা যেন পুরো পরিস্থিতির খবর নিয়ে সেখানে যান।

শুধু তাই নয়, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশও মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই অ্যাডভাইজরিতে। একই রকম অ্যাডভাইজরি জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আসাম ভ্রমণে তাদের নাগরিকদের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে কয়েক দিন ধরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে আসাম, ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো। পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়ানক হয় আসাম ও ত্রিপুরায়। গুয়াহাটিতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে। গুয়াহাটির বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি সামালাতে আধাসামরিক বাহিনী নামানো হয়। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয় বৃহস্পতিবার। কারফিউ জারি করা হয় গুয়াহাটিতে। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই চলে আন্দোলন। তবে রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত থেকে রাজ্যে কোনো হিংসার ঘটনা ঘটেনি।

আসাম পুলিশের ডিজি ভাস্করজ্যোতি মহন্ত জানান, রাজ্যের হিংসা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। নতুন করে হিংসা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে এবং পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেজন্য কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে রাজ্যজুড়ে।

মহন্ত আরো বলেন, শান্তি ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। শুক্রবার রাত থেকে নতুন কোনো হিংসার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশ দিনরাত এক করে কাজ করে যাচ্ছে। খুব কঠিন সময়। তবে সেটাকে বাগে আনতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

উপরে