বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২০ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ঘরে বসেই করোনার ঝুঁকি পরীক্ষা

প্রকাশের সময়: ৬:২১ অপরাহ্ণ - সোমবার | মার্চ ৩০, ২০২০

 

currentnews

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনা মোকাবিলায় নানান ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ ভাইরাসটি দেশে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সরকার একের পর এক উদ্যোগ নিয়েই চলছেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় এবার করোনাভাইরাসের ঝুঁকি পরীক্ষার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

সোমবার দুপুরে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ তথ্য জানান।

পরীক্ষামূলক ভাবে চালু হওয়া এই সফটওয়্যারের সাহায্যে যে কোনো ব্যক্তি কোভিড-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছেন কিনা, তা নিজেই মূল্যায়ন করতে পারবেন। জানতে পারবেন আপনার ঝুঁকির মাত্রা ও করণীয় সম্পর্কেও।

ব্যবহারকারীদের স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রদান, ভবিষ্যৎ করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, বিগ ডাটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হবে

এই সফটওয়ার থেকে প্রাপ্ত ফলাফলকে অভিজ্ঞ ডাক্তার কর্তৃক স্বাস্থ্য পরামর্শ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। সফটওয়ারে ব্যবহারকারীর প্রদত্ত তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে। এই সফটওয়্যারটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।

ওয়েবসাইটটির ঠিকানা: https://livecoronatest.com

প্রসঙ্গত, দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো একজন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ জনে। ভাইরাসটি থেকে সুস্থ হয়েছেন আরো চারজন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন।

সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা করোনাভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৩৩৮ জনের। যাদের নতুন করে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। তার বয়স ২০ বছর। তিনি একজন নারী।

আগে থেকে যারা আক্রান্ত ছিলেন তাদের মধ্যে আরো চারজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৯ জন। নতুন যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের মধ্যে ৮০ বছরের একজন বৃদ্ধও রয়েছেন। এছাড়া সুস্থদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্সও রয়েছেন।

ফ্লোরা বলেন, গত দুদিন রোগী না পাওয়ার খবরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘরের বাইরে মানুষ বের হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একদিন রোগী শনাক্ত না হলে বাংলাদেশ করোনামুক্ত মনে করার কোনো কারণ নেই। তাই সবাইকে আমাদের পরামর্শ মেনে ঘরে থাকতে হবে।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরেন ডা. ফ্লোরা।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত সোয়া সাত লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ৩৪ হাজার। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন দেড় লাখের বেশি মানুষ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছে গত ৮ মার্চ। এরপর দিনে দিনে সংক্রমণ বেড়েছে। সবশেষ হিসাবে করোনায় বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯, মারা গেছেন ৫ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৯ জন।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ছুটি ১১ এপ্রিল কিংবা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।

উপরে