বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০ | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

করোনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি যে গুরুত্বারোপ করতে হবে

প্রকাশের সময়: ৬:৩৯ অপরাহ্ণ - শনিবার | জুলাই ৪, ২০২০

currentnews

প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনাসহ যাবতীয় রোগ-ব্যধি থেকে মুক্ত থাকতে হলে দেহকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ব্যবহারের পোশাক ও কাপড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত খাবার খেতে হবে। পরিবেশও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং জীবাণুমুক্ত করে রাখতে হবে। আর এসবই মানুষের ঈমানের অন্তর্ভূক্ত। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।’ (মুসলিম, তিরমিজি)

সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি অবহেলার কারণেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মহামারি করোনা ও যাবতীয় রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত হয় মানুষ। তাছাড়া মনোদৈহিক রোগ-ব্যধি থেকে বেঁচে থাকার অন্যতম চাবিকাঠি হলো পবিত্র মন। এ সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহ বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘অবশ্যই আল্লাহ তাআলা তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২২২)

আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞানও যাবতীয় রোগ-ব্যধি থেকে মুক্ত থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। রোগ-ব্যধি প্রতিরোধের অন্যতম উপায়ও এটি। বলা হয়ে থাকে-
‘Prevention is better than cure অর্থাৎ প্রতিরোধ রোগ নিরাময়ে শ্রেয়।’
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এ ধারণা ইসলামের মূলণীতি পবিত্রতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অনুসরণেরই বহিঃপ্রকাশ।’

সুতরাং বর্তমান সময়ের প্রাণঘাতী মহামারি করোনাসহ যাবতীয় রোগ-ব্যধি থেকে সুস্বাস্থ ও সুস্থতায় যে বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে, তাহলো-
– দৈহিক পরিচ্ছন্নতা
হাত : হাত দিয়ে আমরা বেশিরভাগ কাজ করে থাকি। খাবার খাই, চোখ পরিষ্কার করি, প্রয়োজনে মুখের ভেতরে হাত দেই। আবার এ হাত দ্বারাই শরীরের নানান ময়লা দূর করি। সে কারণে হাত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ঘুম থেকে উঠে ৩ বার হাত না ধুয়ে যেন কোনো পাত্রে হাত না দেয়।’

মহামারি করোনা থেকে বেঁচে থাকতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম যে বিষয়টির উপর গুরুত্বারোপ করেছে, তাহলো- ‘সাবান-পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করা।’ এ কথাই দেড় হাজার বছর আগে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে গেছেন।

মুখ : মুখের ভেতর দিয়ে খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় শরীরে প্রবেশ করে। তাই সুস্থতার জন্য মুখ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা খুবই জরুরি। মুখের ভেতর কোনো সংক্রমণ হলে তা খাদ্যনালীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করে।

তাই মুমিন মুসলমান প্রতিদিন ন্যুনতম ৫ বার ওজু করার মাধ্যমে মুখ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে থাকে। এতে মুখ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়।

চোখ : চোখ আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত। চোখের যত্ন নেয়াও জরুরি। এ অঙ্গটিও ওজুর মাধ্যমে ন্যুনতম ১৫ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়। চোখের অসস্ততায় মানুষের পুরো দেহ অসুস্থ হয়ে যায়।

মাথা : মাথায় নানান ধরণের ত্বক সমস্যা হয়ে থাকে। আর তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণেই হয়ে থাকে। মাথার সুস্থতায় মাথার ত্বক ও চুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। এ ব্যাপারে হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। হাদিসে এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যার মাথায় চুল আছে, সে যেন তার পরিচর্যা করে।’

– পোশাকের পরিচ্ছন্নতা
সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক ও যাবতীয় কাপড়-চোপড় পরা খুবই জরুরি। পোশাক ও ব্যবহৃত কাপড়-চোপড় থেকেই যাবতীয় রোগ-ব্যধি ও জীবাণু সংক্রমিত হয়। তাছাড়া ইবাদত-বন্দেগির জন্য পবিত্র শরীরের সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র কাপড়-চোপড় পরা আবশ্যক।

– পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা
সুস্বাস্থ্য, সুস্থতা ও ইবাদত-বন্দেগির জন্য সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিকল্প নেই। ইবাদতের জন্য যেমন স্থান পবিত্র হওয়া আবশ্যক। তেমনি সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য পরিবেশের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খুবই জরুরি।

তাই ঘর-বাড়ি, আঙিনা, বাড়ি সংলগ্ন রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ সবাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও আবর্জনামক্ত রাখা। আর তাতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়, আবার রোগ-জীবাণুর আক্রমণ থেকেও মুক্ত থাকা যায়।

– খাবারের পরিচ্ছন্নতা
সুস্থ থাকার জন্য জীবাণুমুক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন খাবার খাওয়ার খুবই জরুরি। খাবার ও পাণীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত থাকলে কোনো রোগ-ব্যধি ও ভাইরাসের আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা যায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত খাবার খেলে মানুষের পাকস্থলী তথা পরিপাকতন্ত্রের অসুস্থতা থেকে মুক্ত থাকে। যার পরিপাকতন্ত্র সুস্থ থাকে ওই ব্যক্তিও সুস্থ-সবল দেহ ও মনের অধিকারী হয়।

সুতরাং মহামারি করোনাসহ যাবতীয় সংক্রমক রোগ-ব্যধি থেকে মুক্ত থাকতে নিজেদের শরীর, কাপড়-চোপড়, পরিবেশ এবং খাদ্য-পাণীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হাদিসের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মহামারি করোনাসহ যাবতীয় সংক্রামক রোগ-ব্যধি থেকে মুক্ত থাকতে উল্লেখিত বিষয়ে হাদিসের নির্দেশনা মেনে চলার তাওফিক দান করুন। সুস্বাস্থ্য ও পবিত্র মনের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

উপরে