রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মৌসুমী ব্যবসায়ীরা নেই চামড়ার বাজারে

প্রকাশের সময়: ৫:১৫ অপরাহ্ণ - সোমবার | আগস্ট ৩, ২০২০

currentnews

চামড়ার দাম কম থাকায় লোকসানের ভয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এবার মাঠে নেই। করোনা মহামারিতে রাজধানীতে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার একদিকে যেমন ব্যবসায়ে উৎসাহ পাননি তেমনি চামড়ার দাম কম হওয়া এবং তা প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণের খরচের সঙ্গে সামঞ্জ্যস্য না হওয়ায় অনেকেই ব্যবসায়ে নামেননি।

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সারাদেশে কয়েক লাখ মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া কেনার সঙ্গে জড়িত থাকেন। কয়েক হাজার পাইকারি ব্যবসায়ী এই চামড়া তাদের কাছ থেকে কিনে আড়তদারদের কাছে জমা রাখেন। পরে ট্যানারির কাছে বিক্রি করেন।

গত দুই কোরবানির ঈদে চামড়া কিনে বড় ধরনের লোকসান গুনেছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। এবার তাই ঝুঁকি নিতে চাননি তারা।

মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিএফএলএলএফইএ সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, দাম অস্বাভাবিক কম হওয়ায় বিক্রি না করে এবারো চামড়া ফেলে দেবে মানুষ। মৌসুমী ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ন্যায্য দাম নিশ্চিত না হলে পাচার হয়ে যেতে পারে চামড়া।

এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহার জন্য চামড়ার নির্ধারিত দর গত বছরের চেয়ে বেশ কম। এ বছর ঢাকার জন্য লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম গরুর প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছর ঢাকায় ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর ঢাকার বাইরে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

অন্যদিকে খাসির চামড়া সারাদেশে প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা ও বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর খাসির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা ও বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ধানমন্ডি এলাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, করোনাকালীন সময়ে অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। তার উপর চামড়ার বাজারের অস্থির অবস্থার কারণে তিনি এবার এলাকা থেকে খুচড়া চামড়া সংগ্রহ করার কাজ করছেন না।

তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরেই চামড়ার বাজার ভালো না। এর উপর এবার করোনার প্রভাবতো রয়েছেই। আর এখন চামড়ার যে দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে তাতে বিনামূল্যে চামড়া পাওয়া গেলে লাভ হবে। অন্যথায় কেউ লাভের মুখ দেখতে পারবে না।

ঝিগাতলা এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, এক লাখ টাকা দামের একটা গরুর চামড়া যদি ৩ শত টাকায় কেনা হয় তাহলে তা পরিষ্কার খরচ ১ শত টাকা, ওই চামড়ার পিছনে ১০ কেজি লবণ ১৩০ টাকা, শ্রমিক খরচ ৫০ টাকা ধরা হলেও সব মিলিয়ে ৫৮০ টাকার উপর খরচ। অথচ ওই চামড়াই তাকে বিক্রি করতে হবে সর্বোচ্চ ৪ শ’ টাকায়। ট্যানারিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই চামড়া মূলত আড়তদারের কাছে সংরক্ষিত থাকে। ট্যানারি পর্যন্ত পৌঁছানোর খরচও বহন করতে হয় পাইকারি ব্যবসায়ীদের। ট্যানারির মালিকরা সেই চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন পণ্য বানান। এসব পণ্য বিদেশেও রফতানি করা হয়। তাই তার পক্ষে এবার ব্যবসা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা অনেকটা প্রভাব খাটিয়ে বিনামূল্যে কিংবা নামকাওয়াস্তে টাকায় চামড়া কিনছেন। এতে তাদের লাভ হবে।

চামড়ার মূল্য না থাকায় বেশিরভাগ পশুর চামড়া মসজিদ-মাদ্রাসায় দান করেছেন মানুষজন। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ভ্যানচালকরা তা তুলে নিয়ে জড়ো করছেন নির্ধারিত স্থানগুলোতে। সেখানে চামড়া তত্ত্বাবধান করছেন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ঈদের সকালে মালিবাগ, রামপুরা ও মগবাজার এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এতে দেখা যায়, কোরবানিদাতারা ওই চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ী কিংবা ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি না করে মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন কাজে দান করে দিচ্ছেন। পশুর শরীর থেকে চামড়া ছাড়ানোর পরপরই তারা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে ফোন করছেন। খবর পেয়ে ভ্যানচালকরা চলে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কোরবানিদাতার বাড়িতে।

উপরে