শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

নাসিরনগরে ভবঘুরে বৃদ্ধাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা, খুনী আটক

প্রকাশের সময়: ৬:২৮ অপরাহ্ণ - সোমবার | আগস্ট ৩, ২০২০

currentnews

মোঃ আব্দুল হান্নান, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নাসিরনগর উপজেলা সদর ইউনিয়নের দাঁতমন্ডল গ্রামে প্রতিপক্ষকে ফাঁসিয়ে তাদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে ভবঘুরে বৃদ্ধা রহিসা বেগম (৮৫)কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গেলমান ভূঁইয়া ও তার সহযোগিরা। পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন গেলমান ভূইয়া। বিষয়টি নিশ্চিত করছেন মামলার তদন্তকারী র্কমর্কতা নাসরিনগর থানার তদন্তকারী র্কমর্কতা নাসিরনগর থানার পুলশি পরর্দিশক (তদন্ত) মো: কবির হোসেন। ৩১ জুলাই ২০২০রোজ শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইনের আমলি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামী গেলমান ভুইয়া। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারগারে প্রেরণ করা হয়। জানা গেছে উক্ত মামলায় পুলিশ এ র্পযন্ত ৫ জন আসামী জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন।
২৬ জুলাই ২০২০ নাসিরনগর উপজেলার সদর ইউননিয়নের দাঁতমন্ডল গ্রামে আক্তার ভূইয়ার বসতবাড়ি সংলগ্ন ডোবায় একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেেয় ব্রাহ্মণবাড়য়িা সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোজাম্মলে হোসেন ও সরাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেৃরণ করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবলু ভূইয়া, আছকির আলম, জানে আলম ও আছকিরকে থানায় আনা হয়। এ ঘটনায় নিহতের হয় ছেলে জরিফ হোসনে বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা কয়েকজনকে আসামি করে নাসরিনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন বলেন, গেলমান ভূইয়া আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবান বন্দি দিয়েছেনে। জিজ্ঞাসাবাদে গেলমান জানান, একই গ্রামের সালাউদ্দনিরে সঙ্গে তার চাচা মাহবুব গংদের সাথে প্রায় ১৫ বছর ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতে একাধিক মামলা মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ৯ ঘটিকার সময় রহিমাকে মাজারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের করে আবু সাইদ আল কাদরীর বাংলো বাড়ীর পাশে নিয়ে মাটিতে ফেলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পরে একই গ্রামে সন্তোষ দেবনাথের কাছ থেকে একটি ছোট নৌকায় করে লাশ সালাউদ্দিনের বাড়ীর পাশে আক্তার মিয়ার ডোবায় ফেলে দেয। পরদিন সকালে ঘোড়া মাহবুব ও বাবলু প্রচার করতে থাকে সালাদ্দিনের লোকজন রহিমাকে হত্যা করেছে। এরপর সালাউদ্দিনের পক্ষের লোকজনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় মাহবুব ও বাবলুর লোকজন। এ সময় তারা সালাউদ্দিনের পক্ষের লোকজনের দুটি দোকান সহ ৩ টি ঘর ভাংচুর করে। মহিলারা বাধা দিতে গেলে ধারালো দা দিয়ে তাদের লোকজন দুইজন মহিলাকে কুপিয়ে আহত করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সরাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান বলেন লাশ খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শর করি। তারপর স্থানীয়দের সাথে কথা বলে নিহত রহিমার কয়েকজন নিটক আত্মীয়কে জিজ্ঝাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসি। তাদের দেয়া ভাষ্যমতে হত্যার মূল আসামি গেলমান ভূঁইয়াকে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার মুড়াকড়ি ইউনিয়ন থেকে আটক করি। আসামী গেলমান ভূঁইয়ার দেখানোর মতে দাঁতমন্ডল চকবাজার সংলগ্ন খাল হতে লাশ বহনকারী নৌকাটি পুলিশ উদ্ধার করে। আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন গেলমান ভূঁইয়া।

উপরে