শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০ | ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

নিম্নস্তরের সিগারেটের বাজার ধরতে প্রতিযোগিতায় বহুজাতিক কোম্পানি

প্রকাশের সময়: ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ - সোমবার | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

currentnews

এক যুগ আগেও দেশে নিম্নস্তরের সিগারেটের বাজারের পুরোটাই ছিল দেশী কোম্পানিগুলোর দখলে। বর্তমানে এ প্রতিযোগিতায় আটঘাট বেঁধে নেমেছে দুটি বহুজাতিক কোম্পানি। অভিযোগ রয়েছে, বাজার দখল করতে সরকারের বেঁধে দেয়া মূল্যের চেয়ে কম দামে নিম্নস্তরের সিগারেট বিক্রি করছে কোম্পানি দুটি। এতে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশী প্রতিষ্ঠানগুলোও।

বর্তমানে নিম্নস্তরের বা সস্তা সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ২৪টি দেশী কোম্পানি। নানা সীমাবদ্ধতায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছে আরো ডজনখানেক। এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) ও জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (জেটিআই) নামে দুটি বহুজাতিক কোম্পানি। সম্প্রতি কোম্পানি দুটির বিরুদ্ধে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে সিগারেট বিক্রির অভিযোগ উঠছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশী কোম্পানিগুলোও এখন বাধ্য হয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে একই পথ বেছে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে চলতি অর্থবছরে নিম্নস্তরের প্রতি এক হাজার শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ৩ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। যদিও বহুজাতিক কোম্পানি দুটির বিরুদ্ধে বাজারে একচেটিয়া বাজার দখল গড়ে তুলতে প্রতি এক হাজার শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেট সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

সিগারেট উৎপাদনকারী দেশী কোম্পানিগুলোর অভিযোগ, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর এ ধরনের কার্যক্রমে বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত বৈষম্য তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সিগারেট উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত দেশী প্রতিষ্ঠানগুলো। বিক্রি হারানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আয়ও হ্রাস পেয়েছে জ্যামিতিক হারে। এভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোয় এ খাত থেকে বড় আকারে রাজস্ব হারাবে সরকার।

সম্প্রতি আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেডের (একেটিসিএল) পক্ষ থেকে এ নিয়ে কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। কমিশনারেট কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাজার যাচাই করে। বিষয়টি নিয়ে কমিশনারেট থেকে এ-সংক্রান্ত নথি এরই মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।

চিঠির ভাষ্যমতে, দেশে সিগারেট বিপণনের সঙ্গে যুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলো মূলত উচ্চস্তরের সিগারেট বেশি বিক্রি করলেও কয়েক বছর ধরে নিম্নস্তরের সিগারেটও বাজারজাত করছে। এসব সিগারেটের উৎপাদন খরচ একই হলেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তা দেশী প্রতিষ্ঠানের তুলনায় প্রতি হাজার শলাকা ৪০০ টাকা কম দামে বিক্রি করছে। বাজারে টিকে থাকতে একেটিসিএলও একই দামে সিগারেট বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে নিট ক্ষতিতে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

চিঠিতে দেশী সিগারেট কোম্পানিগুলোকে সুরক্ষা দেয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বাড়াতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এনবিআরকে অনুরোধ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এনবিআরের একজন সদস্য বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। এটি আসলে আইন ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে কিনা, এটা খতিয়ে দেখবে এনবিআর। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো যদি আইন ভঙ্গ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএটিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেহজাদ মুনিম বলেন, প্রথমত নিম্নস্তরের সিগারেট হাজার শলাকা ৩ হাজার ৯০০ টাকা সরকারের নির্ধারিত দাম, যে দামের ওপরে কোম্পানিগুলোর ভ্যাট দিতে হবে। সরকারের বেঁধে দেয়া দামেই আমরা পণ্য খালাস করছি, এটা হচ্ছে এমআরপি। তবে আমি আমার সরবরাহকারীদের কাছে কী দামে পণ্য বিক্রি করব, এ বিষয়ে সরকার কোনো দাম বা নিয়ম নির্ধারণ করে দেয়নি। আমরা সরবরাহকারীদের কাছে কী দামে পণ্য বিক্রি করব, এটা আমাদের কোম্পানির বিষয়। আর সবচেয়ে বড় কথা যে কোম্পানিটি অভিযোগ করছে, সে কোম্পানি তাদের পণ্য কত দামে বিক্রি করছে? তারা যে দামে নিম্নস্তরের সিগারেট বিক্রি করছে, আমরাও সে দামেই বিক্রি করছি। এখানে তো কারো কিছুই বলার নেই।

অন্যদিকে জেটিআইয়ের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ডিরেক্টর জাকির ইবনে হাই বলেন, যেসব দেশে জেটিআইয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেসব দেশের প্রচলিত আইন ও নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলতে জেটিআই অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। জেটিআই বাংলাদেশের সব প্রচলিত জাতীয় আইন মেনেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

 

উপরে