বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০ | ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই সফল ব্যবসায়ী সায়মা

প্রকাশের সময়: ৯:০৭ অপরাহ্ণ - সোমবার | সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

currentnews

অন্যান্য ব্যবসার মতো ফ্যাশন হাউস ‘স্টাইল ইকো’র শুরুটাও হয়েছিলো ছোট পরিসরে। এর প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠাতা সায়মা রহমান বলেন, ‘কোনও নির্দিষ্ট চিন্তা থেকে আমি এই ব্যবসায় আসিনি। ফ্যাশনের প্রতি বরাবরই আমার আগ্রহ ও ভালোবাসা ছিল। ২০১২ সালে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত অবস্থায় এই ব্যবসাটি শুরু করি। তখন একটি স্টার্টআপ হিসেবে প্রচারণার জন্য পর্যাপ্ত টাকা বা আমার কলেকশনের পোশাকগুলো মানুষকে দেখানো ও বিক্রির জন্য কোনও জায়গাও ছিল না। তাই আমি আমার পণ্যগুলোর প্রচারণার জন্য ফেসবুকের সাহায্য নিই।’

ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করতে পারা সায়মার জন্য একটি বড় সুযোগ ছিলো যার মাধ্যমে তিনি স্টাইল ইকোকে অনেকখানি এগিয়ে নিতে পেরেছেন এবং তার পোশাকের কালেকশন সহজেই সবাইকে দেখাতে পারেন। সায়মা মনে করেন বাংলাদেশে পোশাক ব্যবসা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। স্টাইল ইকোর মতো ছোট ব্যবসার পক্ষে জায়গা করে নেওয়া তাই খুব কঠিনই ছিল।
সায়মা তার পোশাক কলেকশনের গুণমান এবং সৃজনশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। একই সাথে সময়োপযোগী ডিজাইন ও সংগ্রহের জন্য স্টক প্রস্তুত রাখতে প্রচুর চাপও সামলাতে হয় তাকে। ২০১৬ সালে সায়মার ব্যবসা আরও এক ধাপ এগিয়ে যায় এবং তিনি ঢাকায় একটি শো-রুম খুলে ফেলেন। স্টাইল ইকোর ফেইসবুক পেইজে ১৪ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। বর্তমানে ঢাকার সুপরিচিত এলাকায় স্টাইল ইকোর তিনটি শো-রুম রয়েছে। এগুলোতে ২৭০ জনের বেশি কর্মচারী কাজ করেন এবং সায়মার একটি নিজস্ব হোম ডেলিভারি টিমও রয়েছে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিয়ে স্টাইল ইকো আর্থসামাজিক প্রবৃদ্ধিতেও অবদান রাখছে।
তবে ব্যবসা দাঁড় করাতে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন যে উদ্যোক্তারা, কোভিড-১৯ এর কারণে প্রায় সবারই ব্যবসায় ভাটা পড়েছে। সায়মাও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন শুরুতে। কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠা এবং একইসাথে তার কর্মচারীদেরও এই বিশ্বব্যাপী মহামারি থেকে নিরাপদ রাখাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন তিনি। এ সময় তিনি শো-রুমগুলো বন্ধ রাখেন এবং কর্মচারীদের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৮০ জনে। কিন্তু তিনি তার ব্যবসা চালিয়ে যান এবং ফেসবুক লাইভ এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে ব্যবসার সর্বশেষ পরিস্থিতি ও তার কলেকশনে থাকা পোশাকের ব্যাপারে জানাতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।
সায়মা বলেন, ‘আমার শো-রুম সহ অধিকাংশ শপিং মল বন্ধ ছিল একটা বড় সময়। আমরা আমাদের অর্ডার ও হোম ডেলিভারি সীমিত পরিসরে চালু রেখেছিলাম এবং ফেসবুক আমাকে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহায়তা করেছে।’
সায়মার স্বপ্ন এখানেই থেমে নেই। স্টাইল ইকো নিয়ে তার ভবিষ্যতে আরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি চান এই খাতে অন্যান্য নারীরাও তাদের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কাজ করুক। হয়তো প্রচারণার জন্য পর্যাপ্ত টাকা বা শো-রুমের জন্য জায়গা শুরুতে নাও থাকতে পারে কিন্তু তা যেন স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে না পারে।
সায়মা উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘যেভাবেই হোক শুরু করুন। আমি প্রায়ই এমন অনেককে দেখি যারা

ব্যবসা শুরু করতে পারেন না কারণ তারা শুরুতেই সবকিছু গোছানো চান। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। কখনও কখনও নিজের মননশীলতা কাজে লাগিয়ে ফেসবুকের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে ব্যবসা শুরু করে দিতে হয় কারণ শুরু করাটা জরুরি।’

উপরে