শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ব্যবসায়ী আজিজ হত্যা: ১ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের সময়: ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

currentnews

রাজধানীর লালবাগের ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ চাকলাদার ওরফে ঢাকাইয়া আজিজ হত্যা মামলায় জয়নাল সরকারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে মামলার অপর আসামি রুস্তম আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে জয়নাল ও রুস্তমকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আরেক ধারায় দু’জনকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া জামাই ফারুক ও ইদ্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন। এরা দু’জন এ মামলায় ২২ বছর ধরে কারাগারে আছেন। এ ছাড়া জয়নাল ও রুস্তম পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালের ৫ মার্চ সকাল ৭টায় আজিজ চাকলাদার ওরফে ঢাকাইয়া আজিজ লালবাগ রোডের বাসা থেকে খুলনা যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন। আজিজকে খুঁজে না পেয়ে ছোট ভাই মো. বাচ্চু মিয়া লালবাগ থানায় একটি জিডি করেন। এর ১২ দিন পর মাকসুদ ও আমানুল্লাহ নামে দু’জনের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় অপহরণ মামলা করেন বাচ্চু মিয়া। মামলায় বলা হয়: মাকসুদ ও আমানুল্লাহর সঙ্গে ভাঙা কাচের ব্যবসা করতেন আবদুল আজিজ চাকলাদার। তারা দু’জন আজিজের কাছে ব্যবসায়িক কারণে ২৫ হাজার টাকা পেতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। এ কারণে মাকসুদ ও আমানুল্লাহ তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তদন্ত চলাকালে রূপসা নদী থেকে আজিজের মাথার খুলি ও হাড্ডি উদ্ধার করা হয়। ২০০০ সালের ৪ এপ্রিল লালবাগ থানার তৎকালীন এসআই মো. আবদুর রাকিব খান সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরা হলেন : খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদার, লস্কর মোহাম্মদ লিয়াকত, মো. নূরে আলম, ইদ্রিস জামাই, জয়নাল, জামাই ফারুক ও মো. রুস্তম আলী। আর চার্জশিটে মাকসুদ ও আমানুল্লাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়। চার্জশিটভুক্ত সাত আসামির মধ্যে সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের অন্য মামলায় ২০০৪ সালের ১০ মে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। অপর আসামি লস্কর মো. লিয়াকত বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আর নূরে আলমকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রাজসাক্ষী করে উপস্থাপন করা হয়। ২০০০ সালে এ মামলার চার্জ গঠন করা হয়। এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল। স্থগিতাদেশ উঠে গেলে ২০১৭ সালে এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ছয়জন ও রাজসাক্ষী হিসেবে নূরে আলম আদালতে সাক্ষ্য দেন।

উপরে