শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মেরি স্টোপস ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় নারীর মৃত্যু

প্রকাশের সময়: ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

currentnews

ঢাকার কেরানীগঞ্জে সিজারের সময় সুমি আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন কদমতলী এলাকায় মেরি স্টোপস ক্লিনিকে। নিহতের পরিবারের দাবি ভুল চিকিৎসার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত সুমির স্বামী মো. জান শরীফ বলেন, চিকিৎসার জন্য রবিবার সকাল ১১টার দিকে সুমিকে মেরিস্টোপস ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর জরুরী সিজার করতে হবে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আরো চার দিন পরে ডেলিভারির করার কথা ছিল।

কোনো রকম শারীরিক পরীক্ষা না করিয়ে দুপুর ৩টার ডা. সাজেদা খাতুনের নেতৃত্বে আমার স্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনেসথেসিয়া ডা. মনির হোসেন। তারা রোগীর শরীরে এনেসথেসিয়া ইনজেকশন দিয়ে সিজার শুরু করেন।

রোগীর সিজারের পর দুটি সুস্থ জমজ বাচ্চার জন্ম হলেও সুমির প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে শারীরিক অবনতি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেলে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে রেফার করা হয়। মিটফোর্ড হাসপাতালে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমিকে মৃত ঘোষণা করেন।

জান শরীফ আরো বলেন, হাসপাতালে ডাক্তার অপারেশনের পূর্বে আমার পরিবারের কোনো সদস্যকে না জানিয়ে অপারেশন করেছেন। অপরেশন করানোর জন্য আমাদের কোনো লিখিত অনুমতিও তারা নেয়নি। আমার স্ত্রীর অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা ছিল না। সিজারের সময় ভুলভাবে চিকিৎসা করা হয়েছে। তখনই আমার স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেছেন। বিষয়টি ডাক্তার লুকিয়ে রেখে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এসব বিষয় মেরি স্টোপস ক্লিনিকের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমাতুজ জোহরা মুক্তা সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও পরে জানান, এই হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। সিজারের পর রোগী প্রচুর ব্লিডিং হলে রোগীর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রোগী সেখানেই মারা যায়। তবে মিটফোর্ড হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন, রোগী আগেই মারা গেছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ জামান বলেন, এ ব্যাপারে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশ দাফন করার পর নিহতের স্বজনরা মামলা দিলে মামলা গ্রহণ করা হবে।

উপরে