শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০ | ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মার্কিন নির্বাচন: যে ভোটাররা ট্রাম্প বা বাইডেন কাউকেই পছন্দ করেন না

প্রকাশের সময়: ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

currentnews

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নভেম্বর মাসের ৩ তারিখে। প্রচারাভিযান এখন প্রায় শেষ পর্বে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে অনেক ভোটার রয়ে গেছেন, যারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি কাকে ভোট দেবেন।

দুই প্রার্থী ট্রাম্প ও বাইডেন উভয়েই চেষ্টা করছেন সেই সিদ্ধান্ত না নেওয়া ভোটারদের যার যার পক্ষে নিয়ে আসতে। তবে এরকম ভোটারদের অনেকেই এ দুই প্রার্থীর কাউকে নিয়েই খুশি নন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় শিবির থেকেই বলা হচ্ছে, ২০২০ সালের এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে ভোটারদের জীবনকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। তারা প্রচারাভিযানের জন্য গত কয়েক সপ্তাহে যে পরিমাণ অর্থ তুলেছেন তা-ও নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, এবার নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে। তবে অনেক ভোটারই নিশ্চিত নন যে তারা ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন বা অন্য কাউকে ভোট দেবেন কি না।

এখানে বলে রাখা দরকার, এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প ও বাইডেন ছাড়া আরো যে প্রার্থীরা আছেন তারা হলেন—লিবার্টারিয়ান পার্টির জো ইর্গেনসেন, গ্রিন পার্টির হাওয়ি হকিনস, বার্থডে পার্টির কানিয়ে ওয়েস্ট, অ্যালায়েন্স অ্যান্ড রিফর্ম পার্টির রকি দে লা ফুয়েন্তে এবং কনস্টিটিউশন পার্টির ডন ব্ল্যাংকেনশিপ। ‘আমি এই নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।’ বলছিলেন হিউস্টনের ৩২ বছর বয়স্ক সাইকিয়াট্রিক নার্স সামিয়ান কাজী। ‘আমাদের ভালো কোনো প্রার্থী নেই। এদেশের সুন্দর ভবিষ্যতের আশা জাগবে বা মানুষের জীবন উন্নত হবে এমন কোনো কিছুই আমরা এই প্রার্থীদের কাছ থেকে পাচ্ছি না।’

কাজী বলছিলেন, তিনি আগেকার নির্বাচনগুলোতে নিয়মিত ভোট দিয়েছেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আর ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টিকেই ভোট দিয়েছেন। এ বছর তার পছন্দের প্রার্থী ছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স। কিন্তু ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী নির্বাচনে এই বামপন্থী প্রার্থী হেরে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে মি. কাজী অনেকটা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি বলছেন, ‘সমাজের যে ক্ষমতাবানেরা এদেশে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তারা তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ হুমকির মুখে পড়ুক তা চায় না।’ রাজনীতির ব্যাপারে অনাগ্রহ বা বিচ্ছিন্নতাবোধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের ভোট দেওয়ার হার বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় কমে গেছে। এখানে ৫০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে যান। অন্যদিকে, ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভোটার উপস্থিতির হার প্রায় ৭০ শতাংশ। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক উন্নয়নশীল দেশেও ভোটার উপস্থিতির উচ্চতর হার দেখা যায়।

বারাক ওবামা ও জন ম্যাককেইনের মধ্যে ২০০৮ সালের ভোটযুদ্ধে প্রায় ৬৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন মাত্র ৫৫ শতাংশ ভোটার । ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই নিয়মিতভাবে ভোট দেন না। সংখ্যার হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি । এই জরিপ করেছে নাইট ফাউন্ডেশন নামে একটি অলাভজনক বামঘেঁষা প্রতিষ্ঠান। ‘এটা এক বিশাল জনগোষ্ঠী। দেশের অর্ধেক। তাই এর মধ্যে সব রকম লোকই আছে।’ বলছেন টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক এবং নাইটস ফাউন্ডেশনের একজন উপদেষ্টা আইটান হার্শ। তিনি বলেন, ‘জনগণের এই বিচ্ছিন্নতার অর্থ হচ্ছে, তারা নির্বাচন পদ্ধতির সঙ্গে নিজেদের যুক্ত বলে মনে করছে না, এতে কিছু আসে-যায় বলেও মনে করছে না।’

বেলজিয়াম ও চিলির মতো যেসব দেশে ভোটার উপস্থিতির উচ্চহার দেখা যায়, সেখানে ভোট দেওয়াকে একধরনের বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, আর তাতে কাজও হয়েছে নাটকীয়ভাবে। অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানির মতো অন্য কিছু দেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা অন্য উদ্যোগ নিয়ে ভোটার নিবন্ধন করে নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবশ্য ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা এবং ভোট দিতে যাওয়া অনেকটাই ব্যক্তিগত দায়িত্বের মতো।

গত কয়েক দশক ধরে অনেক রাজ্যই ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক নতুন সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে আছে এক দিনে ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ, বেশি সময়ের জন্য ভোটকেন্দ্র খোলা রাখা এবং আগাম ভোট দেওয়া বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার মতো বিকল্প পথ সম্প্রসারিত করা।

একজন আর্মেনিয়ান অভিবাসী, যিনি বেড়ে উঠেছিলেন লেবাননে, সেখানকার তিন দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধের সময়। তার বয়স যখন ১৮ পার হয়, তখন থেকে তিনি ক্যালিফোর্নিয়াতেই আছেন এবং তিনি কখনো ভোট দেন না। কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষক পাপাজিয়ান জানেন যে ভোটের ব্যাপারে তার এসব ভাবনাচিন্তা বৈপ্লবিক। কিন্তু তিনি দৃঢ়ভাবে এই রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরোধী। তার মতে, ‘গণতন্ত্র ক্রমাগত আরো উন্নত হবে বলেই মনে করা হয়, কিন্তু আসলে এখন উলটোটা হচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে, ততই এটা আরো খারাপ হচ্ছে। দেশ যত বড় হচ্ছে, ততই এটা ছোট ছোট উপজাতিতে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজতর হচ্ছে, আমরা যে ক্রমাগত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছি, তা-ও অব্যাহত থাকছে।’

‘আমাদের জন্য প্রকৃত পরিবর্তনের পথ একটাই, তা হলো বয়কট করা।’ বিবিসি

উপরে