শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

হরিরামপুরে পল্লী চিকিৎসক খ্যাত ভুয়া ডাক্তারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

প্রকাশের সময়: ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

currentnews

জ. ই. আকাশ (হরিরামপুর) : মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী ঝিটকা বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে পল্লী চিকিৎসক খেতাবী ভুয়া ডাক্তার গিয়াস উদ্দিন ভূইয়াকে নামের সাথে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগে ১০,০০০টাকা জরিমানা করা হয়। জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকাল ৫.৩০ টায় উপজেলার ঝিটকা বাজারে মোঃ গিয়াস উদ্দিন ভূইয়ার চেম্বারে এ অভিযান চালানো হয়।
এতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫৩ ধারায় ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে ০১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। গিয়াস উদ্দিন ভুইয়া জরিমানা নগদ পরিশোধ করায় কারাদণ্ড মওকুফ করা হয়। এছাড়াও তার মেডিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বিল্লাল হোসেন।
জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর এই ভুয়া ডাক্তার গিয়াস উদ্দিন ভুইয়ার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের শিকদারপাড়া গ্রামের নয়ান মিয়ার মেজ ছেলে শাজাহানের (৩৫) মৃত্যু হলে প্রশ্নের সম্মুখীন হন এই তথাকথিত পল্লী চিকিৎসক গিয়াস উদ্দিন ভুইয়া। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঝিটকা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম সেন্টুর মাধ্যমে নিহত পরিবারকে ৬০,০০০ টাকা দিয়ে বিষয়টি রফাদফা করা হয়। এই রফাদফার বিযয়টির সত্যতা স্বীকার করেছেন নিহতের আপন বড় ভাই মজনু ও আপন চাচাতো ভাই আক্তার। ষাটোর্ধ বয়স্ক এই ভুয়া ডাক্তার গিয়াস উদ্দিন ভুইয়া দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ চিকিৎসা করে আসছে এই ঝিটকা বাজারে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গিয়াস উদ্দিন জানান, “আমার কোনো ডাক্তারী সার্টিফিকেট নেই। তবে অনেক আগে আমি পল্লী চিকিৎসকের কোর্স করেছি।”
সামান্য পল্লী চিকিৎসকের কোর্স করে সে দিনের পর দিন রোগী দেখছেন এবং ৫০ টাকা করে ভিজিটও নিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, বৃহত্তরও ঝিটকাঞ্চলে তিনি শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবেও বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন। অথচ শিশু বিশেষজ্ঞের ওপর তার কোনো একাডেমিক সনদ নেই। তিনি তার প্যাডে নামের নিচে এমএফপিসি নামের ডিগ্রির সিল ব্যবহার করেন। যা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের এম এফ পি সি নামের কোনো ডিগ্রি আছে বলে তাদের জানা নেই।
উল্লেখ্য, ভুয়া ডাক্তার শনাক্তকরণের জন্য ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল বিএমএন্ড ডিসির ৪৫তম সাধারণ সভায় বিএমএন্ডডিসির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটা আবেদন করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ভুয়া ডাক্তার শনাক্তকরণের জন্য প্রসক্রিপশান প্যাড, ভিজিটিং কার্ড, সাইনবোর্ড ইত্যাদিতে বিএমএন্ডডিসির রেজিষ্ট্রেশন নম্বর আবশ্যিকভাবে উল্লেখ করার ব্যাপারে জোর দেয়া হয়। এছাড়াও মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ (১) ধারায় লিপিবদ্ধ আছে, ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিপ্রাপ্তগণ ব্যতিত অন্য কেহ তাহাদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করিতে পারিবে না এবং ২(১) উপধারায় উল্লেখ আছে, এ বিধান লংঘন করিলে উক্ত লংঘন হইবে একটি অপরাধ। তজ্জন্য ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ১ লক্ষ টাকা অর্থ দণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
ভ্রাম্যমাণ অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বিল্লাল হোসেন জানান,
“জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

উপরে