শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

দুবাইয়ের হোটেলগুলো বিদেশীদের স্বাগত জানাতে মুখিয়ে রয়েছে

প্রকাশের সময়: ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ - মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

currentnews

বিভিন্ন সম্মেলন ও অনুষ্ঠান আয়োজনে দুবাইয়ের হোটেলগুলোকে সবুজ সংকেত দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ব্যবসায়িক সফরকারী কিংবা কোনো সম্মেলন বা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীদের গ্রহণ করবে দুবাইয়ের হোটেলগুলো। অবশ্য এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে কঠোরভাবে নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করতে হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বাণিজ্য নগরীটিতে হোটেল বুকিং ও অবস্থানের জন্য অনেক ফোন আসছে। তবে তা এখনো চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে না বলে জানাচ্ছে দুবাইয়ের বিভিন্ন হোটেল কর্তৃপক্ষ। কভিড-১৯ নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনো অনেক উদ্বেগ কাজ করছে। অবশ্য দুবাইয়ের পর্যটন কর্তৃপক্ষ ও হোটেলগুলো এর সঙ্গে খাপ খাইতে শিখছে। সভা, প্রণোদনা, সম্মেলন ও প্রদর্শনীর (এমআইসিই) জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে দুবাই। চলতি বছরের শেষ তিন মাসে ধুঁকতে থাকা হোটেল শিল্পে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এটা ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছর ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ২৩ লাখ দর্শনার্থী এসেছেন, যাদের বড় অংশই বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন। এখন দুবাই যদি গত বছরের কিছু অংশও এ তিন মাসে আদায় করে নিতে পারে তাহলে তা চলতি বছরের ক্ষতি কিছুটা সামলে উঠতে পারবে। এখন হোটেলগুলো যেন স্থানীয়দের জন্য দেয়া স্টেকেশন অফার থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে বিদেশী পর্যটক ও দর্শনার্থীদের প্রতি মনোযোগ দিতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে দুবাই কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরে যে কয়েকটি হাইপ্রোফাইল ইভেন্ট আয়োজন করার কথা ছিল, তা ২০২১ সালে পিছিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহগুলোয় যদি পর্যটকরা দুবাইমুখী হয়, তাহলে কিছু ইভেন্ট আয়োজন করা হতে পারে। এতে হোটেলগুলোর জন্য উইন-উইন পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

হোটেল শিল্পসংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসটিআরের এরিয়া ডিরেক্টর ফিলিপ ওলার বলেন, মাসওয়ারি কেমন অতিথি আসবেন, এটা পূর্বাভাস দেয়ার সময় আসেনি। তবে আমরা আশা করছি ইউএইর আতিথেয়তা বাজার ৬০ শতাংশ অকুপেন্সি পাবে। ইউএইর আতিথেয়তা খাত শীতের ছুটির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্য বছরগুলোয় অতিথি সমাগম বেশি হলেও এবার তা ২০১৯ সালের মতো হবে না, এটা নিশ্চিত।

তবে বুকিং ও অতিথি আগমনের মধ্যে যে ফারাক কমছে, সে বিষয়টি উল্লেখ করে জুমেইরাহ গ্রুপের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলেক্সান্ডার বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আসা অতিথিদের বুকিং আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে অবকাশ ও ব্যবসায়িক সফরে আসতে আগ্রহী গ্রাহকরা দুবাইয়ে আগমন ও অবস্থানের পরিকল্পনা করছে। তবে দূরবর্তী পরিকল্পনা না করে প্রায় রাতারাতিই চলে আসতে চাইছেন তারা। আগামী অক্টোবর থেকে প্রদর্শনী ও সম্মেলনগুলো শুরু হলে এমন ঘটনা আরো বেশি ঘটবে।

পুরোদমে চাঙ্গা হতে অবশ্য ২০২১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। জুমেইরাহ গ্রুপ সম্প্রতি তাদের দুবাই ম্যারিনা চালু করেছে। ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে ইউএইর সব খাতেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং আতিথেয়তা খাত তার ব্যতিক্রম নয়। উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে দুবাইয়ের হোটেলগুলোয় অতিথিদের আনাগোনা বাড়বে। আগামী ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারিতে কিছু অতিথি প্রবাহ হবে, এমনটাই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে অনেক কিছু নির্ভর করছে এই সময়টায় হোটেল রেট কেমন থাকবে তার ওপর। উচ্চ চাহিদা সত্ত্বেও হোটেল রুম ট্যারিফে আহামরি উল্লম্ফন ঘটবে না। হোটেলগুলোর অনেক কক্ষই খালি পড়ে থাকবে।

ফাইভ হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসের গ্রুপ ম্যানেজার অক্ষয় বাজাজ বলেন, গত মাসে দুবাইয়ে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার কারণে সম্মেলন, পণ্যবাজারে নিয়ে আসা ও বিয়ে অনুষ্ঠানের জন্য জানতে চেয়ে ফোন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। অক্টোবর-পরবর্তী দুবাইয়ের বেশির ভাগ হোটেল যদি কিছুটা চাঙ্গা ভাব নিয়ে আসতে পারে, এটা তাদের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। গালফ নিউজ অবলম্বনে

উপরে