শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০ | ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

ঢাকার রিং রোড নির্মাণে স্থবিরতা

প্রকাশের সময়: ৮:১৫ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | অক্টোবর ২৩, ২০২০

currentnews

রাজধানীর যানজট কমাতে এবং অন্য জেলার গাড়ির প্রবেশ এড়াতে আউটার ও ইনার রিং রোড নির্মাণ প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি নেই। সমীক্ষা ও করোনাভাইরাস মহামারীতে প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সড়ক প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান কাজ দূরে থাক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনাও (ডিপিপি) তৈরি করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এসব প্রকল্পে বিদেশি অর্থায়নেরও আশ্বাস মেলেনি। সড়ক নির্মাণ কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা- পদ্মা সেতু চালু হলে ঢাকার উপর দিয়ে যাতায়াতকারী গাড়ির সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে এবং রাজধানীতে আরও ভয়াবহ যানজট তৈরি হবে ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) আউটার ও ইনার রিং রোড নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। ২০০৫ সালে এসটিপি এবং ২০১৫ সালে সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) অনুমোদন পায়। কিন্তু এত বছরেও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ), সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এমন পরিস্থিতিতে নিজস্ব অর্থায়নে কিছু অংশে বিক্ষিপ্তভাবে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে সওজ।

আউটার ও ইনার রিং রোড নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, এসব সড়ক নির্মাণের কাজ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। আমরা এসব কাজের সমন্বয় করছি। তবে একেবারে কোনো কাজ হয়নি তা বলা যাবে না। কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। বৈশ্বিক ও বাস্তবিক অবস্থা বিবেচনা রেখে সবকিছু এগোচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আউটার ও ইনার রিং রোড নির্মাণে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছে সওজ। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর দুটি রিং রোডের কার্যক্রমে সংস্থাটির এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। জানতে চাইলে সওজ ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খান বলেন, আমরা কাজ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। করোনার প্রভাব পড়েনি তা বলা যাবে না। তবে এ কারণে বিদেশি অর্থায়নে বিলম্ব হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজস্ব অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

ইনার রিং রোড : আরএসটিপি অনুযায়ী ঢাকার ইনার রিং রোড রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে শুরু হবে। এটি ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বাবুবাজার, কদমতলী, পোস্তগোলা, চাষাঢ়া, হাজীগঞ্জ, ডেমরা ঘুরে তেরোমুখ হয়ে আবার আবদুল্লাহপুরে যুক্ত হবে। ৮৮ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি ইস্টার্ন বাইপাস (পূর্বাংশ) ও ওয়েস্টার্ন এরিয়া (পশ্চিমাংশ)- এ দুই ভাগে বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্বাংশে ডেমরা থেকে পূর্বাচল সড়ক ও তেরোমুখ হয়ে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণে পাউবোকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বাঁধটির উপর সড়ক নির্মাণ করবে সওজ। তবে এখনও পাউবো তাদের অংশের কাজ শুরুই করেনি। অপরদিকে ইনার রিং রোডের পশ্চিমাংশে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ১২ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়। রুটটি হল- আবদুল্লাহপুর, ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বাবুবাজার, কদমতলী, তেঘরিয়া, ফতুল্লা, চাষাঢ়া, হাজীগঞ্জ, শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত। সড়কটি নির্মাণে সওজ প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনা (পিডিপিপি) জমা দিয়েছে। করোনার কারণে প্রকল্পে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নও ঝুলে আছে। এ অবস্থায় ইনার রিং রোডের কয়েকটি অংশে অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিক্ষিপ্তভাবে সড়ক নির্মাণ করছে সওজ।

জানা গেছে, আবদুল্লাহপুর থেকে ধউর পর্যন্ত চার কিলোমিটার ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আওতায় নির্মাণ করা হবে। কিন্তু অর্থায়ন না হওয়ায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরু হয়নি। এর ফলে চার কিলোমিটার অংশ ঝুলে আছে। ধউর থেকে গাবতলী পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটার চার লেনের সড়ক নির্মাণে ডিপিপি তৈরি করছে সওজ। এতে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হচ্ছে। অপরদিকে পোস্তগোলা থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে আরেকটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত আট কিলোমিটার চার লেন সড়ক রয়েছে। এটিকে ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

আউটার রিং রোড : আউটার রিং রোড নির্মাণেও অগ্রগতি নেই। রুটটি হল- হেমায়েতপুর-কালাকান্দি-তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু-মদনপুর-ভুলতা (ঢাকা বাইপাস হয়ে)-কড্ডা (গাজীপুর)-বাইপাইল (ঢাকা ইপিজেড)-হেমায়েতপুর। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার সড়ক নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। অবশিষ্ট ৮৪ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন করতে হবে। আউটার রিং রোডটিও দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। উত্তরাংশ সমীক্ষা করছে ডিটিসিএ। সম্প্রতি ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকার একটি সমীক্ষা প্রকল্প পাস হয়েছে। কিন্তু কাজ শুরু হয়নি।

অপরদিকে দক্ষিণাংশ বাস্তবায়ন করছে সওজ। এ অংশের আওতায় ঢাকা-আরিচা সড়কের সঙ্গে ঢাকা-মাওয়া সড়কের সংযোগ ঘটাতে ১৮ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। অপরদিকে আবদুল্লাহপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ বন্দরের তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত কোনো রাস্তা নেই। জাপানের অর্থায়নে সড়ক দুটি নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তব কোনো অগ্রগতি নেই। অর্থায়ন নিশ্চিত করার পর প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হবে। তবে আউটার রিং রোডের আওতায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা থেকে মদনপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সরু আট লেনে রূপান্তর করতে একটি প্রকল্প তৈরি করছে সওজ। প্রকল্পটিতে ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপরে