শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ | ২রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

Logo
Print

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় সমীপে আকুল আবেদন

প্রকাশের সময়: ১২:৫৭ অপরাহ্ণ - শুক্রবার | এপ্রিল ২৯, ২০১৬

মহাত্মন,
আমি আলহাজ্ব মোঃ মুকুল আমিন, পিতা : মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল মালেক, ডিএনসিসি, ৪৭৭, দক্ষিণ কাফরুল, থানা- কাফরুল, জেলা- ঢাকা। মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আমার বিনীত নিবেদন এই যে, নি¤œ তফসিল বর্ণিত সম্পত্তি আমার বসত বাড়ি যাহা বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ব্যবহৃত তেজগাঁও বিমানবন্দর (রানওয়ের মূল দেওয়ালের পূর্ব পার্শ্বে) সংলগ্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি ও বাস্তভিটা এবং ওয়ারিশসূত্রে আমার বাবা দীর্ঘ ৫০-৬০ বৎসর যাবত বসবাস ও ভোগ দখল করে আসছি। তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির উপরে নির্মানাধীন আছে। (১) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি পাঠাগার (২) পল্লীবন্ধু এইচ.এম. এরশাদ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় (৩) একটি বৃদ্ধাশ্রম (৪) শহীদ মিনার (৫) নেওয়াজ বিবি মহিলা মাদ্রাসা (৬) মুকুল ডেইরী ফার্ম (৭) বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম আলী প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় (৮) একটি কর্মজীবী নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

IMG_3961
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়, আমার তফসিল বর্ণিত সম্পত্তিটুকু বিমান বাহিনীর নামে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে বিগত ২০০৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে একদল সন্ত্রাসীরা বিমান বাহিনী পরিচয়ে আমাদের বসত বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং আধা পাকা প্রায় ৭/৮টি প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। সন্ত্রাসীরা আমার ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে আমার সামনে আমার বাবাকে নির্মমভাবে অত্যাচার করে। বিমান বাহিনীর পরিচয়ে স্বার্থান্বেষী কতিপয় ব্যক্তি ২০০৭ সালে ২৫শে জানুয়ারি পুনরায় আমার বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে সবকিছু তছনছ করে দেয়। যাতে আমার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়।

IMG_3959
বিগত ৮ই মার্চ, ২০১৬ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১১:২০ ঘটিকার সময় স্থানীয় শহীদ, এস.এম. ইউসুফ আলী, হুমায়ূন কবির, শামীম, ঠিকাদার ভুট্টু ও সার্ভেয়ার আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে প্রায় ১০০/১৫০ অচেনা লোকজন নিয়ে আমার বসত বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি পাঠাগারসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে সম্পূর্ণ মালামাল নিয়ে যায়। তারা ভাঙচুরের সময় বিভিন্ন প্রকার ফলজ ও ঔষধী গাছ-গাছড়া (আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, নারিকেল, অর্জুন, সেগুন ইত্যাদি গাছ ছিল) কেটে নিয়ে যায়। বিএনপির লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা আমার ও আমার পরিবারের উপর অমানুষিক নির্যাতন করে যাওয়ার সময় বলে আমরা সরকারী লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা মোকদ্দমা দিয়ে লাভ নেই কোন কাজ হবে না। সুতরাং তোরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যা।

IMG_3557

এখানে থাকলে তোদেরকে জানে মেরে ফেলব। মেরে লাশ গুম করে ফেলব ইত্যাদি প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছে। তারা যাওয়ার সময় আমার ঘরের পিছনের দরজা জানালা পেরেক দিয়ে আটকিয়ে দিয়ে যায়। পরবর্তীতে দরজা জানালা বরাবর পিছন দিক থেকে দেওয়াল উঠিয়ে দেয়। যার কারণে আমার পুরো ঘর অন্ধকার। আমার মেয়ে মেডিকেলে অধ্যায়নরত ছাত্রী, স্কুল পড়–য়া ২ ছেলের পড়াশুনা করতে অসুবিধা হয়। কারণ দীর্ঘ ৪২ দিন যাবত তাদের পড়ার কক্ষগুলো বাহির দিক থেকে আটকানো  (দেওয়াল বেষ্টিত) যেন বন্দীশালার মত অবস্থা। আমার ডেইরী ফার্মে ৪০টি গরু, ০৪টি মহিষ, ০২টি ছাগল, ০৪টি ভেড়া আছে। যাদের লালন পালন করতে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। কারণ সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ীর তিন দিক থেকে দেওয়াল দিয়ে আটকিয়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, আমার বাবা ও চাচা ১৯৫৯ সালে বিমান বাহিনীর রানওয়েতে ৪০ বিঘা জমি দান করেছিলেন। যার এল এ কেইস নং ১৬/৫৮-৫৯। বাকী যে জমিটুকু ছিল বিগত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর রানওয়ের জন্য সরকার বাহাদুর একোয়ার করে নেয়। বর্তমানে আমার বসতভিটা সম্পূর্ণ একোয়ারের বাইরে, সুতরাং আমার বসত বাড়িটুকু যদি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রয়োজন হয়, তাতে আমার কোন দুঃখ নেই। আর যদি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রয়োজন না হয়, তবে বার বার স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিদের অত্যাচার হতে আমাকে ও আমার পরিবারকে মুক্তির আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বিমান বাহিনীর কতিপয় স্বার্থান্বেষী সদস্য ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হতে প্ল্যান পাশ করা আমার তিন তলা ভবনটি ভাঙার জন্য বার বার তাগিদ দিয়ে আসছে। আমি যদি ভবনটি না ভাঙ্গি তাহলে তারা নিজেরাই ভবনটি ভেঙে দেবে বলে জানিয়েছে।

6
বাংলাদেশের আকাশ সীমার অহঙ্কার বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার কোন ঘাটতি আমার নেই, তারা আমাদের অহঙ্কার। দেশের অতন্দ্র প্রহরী। দেশের স্বার্থে যদি আমার জমিটুকু প্রয়োজন হয়, তাহলে আমার সম্পত্তিটুকু দিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে আন্তরিকতার সাথে কোন কিছু গ্রহণ করাই সকলের জন্য মঙ্গলজনক।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়, আমার জৈষ্ঠ্যভ্রাতা ডাঃ আবুল আমিন স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মাইন বিস্ফোরণে একটি পা হারান। অতঃপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে উন্নত চিকিৎকার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন রাশিয়ায় প্রেরণ করেন এবং একটি কৃত্রিম পা সংযোজন করে দেন। আমার ছোট ভাই আলমগীর হোসেন জার্মানীর হাম্বুর্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োজিত আছেন। আমার ছোট ভগ্নীপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ গোলাম আলী, বাড়ি গোপালগঞ্জ, কাশিয়ানীতে।

3
আমার বাবা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, তার অবদানের কথা আমরা চিরদিন স্মরণ রাখব। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে দলবলসহ বাঁশের লাঠি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জনসভায় অংশগ্রহণ করেন। সুতরাং আমার পরিবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শে আদর্শিত, বঙ্গবন্ধুর সেনা-সৈনিক। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় যে, একটি স্বার্থন্বেষী মহলের কোপানলে পড়ে আজ আমি আমার পরিবার নিয়ে অত্যন্ত করুণ ও মানবেতর জীবন যাপন করছি।
অতএব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল ও কাতর প্রার্থনা এই যে, আপনার আশু হস্তক্ষেপে রক্ষা পেতে পারে আমার পৈত্রিক বাস্তুভিটাটুকু। বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও মুক্তিযোদ্ধা দরদী হিসেবে আপনি আমাদের অভিভাবকরূপে আমার বাস্তুভিটা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি এবং আমার পরিবার আপনার নিকট বিনয়াবনতভাবে আকুল আবেদন করছি।

বিনীত নিবেদক
আলহাজ্ব মোঃ মুকুল আমিন
পিতা- মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল মালেক
ডিএনসিসি ৪৭৭, দক্ষিণ কাফরুল
থানা- কাফরুল, ঢাকা-১২১৬।
তফসিল : জেলা- ঢাকা, থানা- কাফরুল, জেএল নং- ৬, মৌজা- কাফরুল, খতিয়ান নং- ৮৪, সিএস দাগ নং- ১০৩, সিটি জরিপ- ৫৫৫৭, ৫৫৫৫, ৫৫৫৬ জমির পরিমাণ ৫৬.৭৫ শতাংশ মাত্র।

—–বিজ্ঞাপন


আর্কাইভ

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

উপরে